প্রাথমিক শিক্ষার প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণিতে তিন বছর পর আবার পরীক্ষা নেওয়া হবে। সিদ্ধান্তটি জাতীয় শিক্ষাক্রম সমন্বয় কমিটি (এনসিসিসি) গ্রহণ করেছে এবং ২০২৬ সালের শুরুর দিকে কার্যকর হবে। এই পরিবর্তনের মূল লক্ষ্য হল শিক্ষার্থীদের শেখার ফলাফলকে আরও সুনির্দিষ্টভাবে মাপা।
২০২৩ সালে পূর্ববর্তী সরকার নতুন শিক্ষাক্রম চালু করার পর থেকে প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির পরীক্ষার ব্যবস্থা বাতিল করা হয়েছিল। সেই সংস্কারে প্রাক‑প্রাথমিক স্তরের শিশুদের কোনো মূল্যায়ন না করা এবং প্রথম‑দ্বিতীয় শ্রেণিতে ধারাবাহিক মূল্যায়নের ওপর জোর দেওয়া হয়েছিল। তৃতীয় থেকে পঞ্চম শ্রেণিতে ৫০ শতাংশ সমষ্টিক এবং ৫০ শতাংশ ধারাবাহিক মূল্যায়নের বিধান ছিল।
এনসিসিসির ২৬ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত সভায় প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণির মূল্যায়ন পদ্ধতিতে পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভার সভাপতিত্বে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা সচিব আবু তাহের মো. মাসুদ রানা ছিলেন। সভায় গৃহীত সিদ্ধান্তের মধ্যে প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণিতে পুনরায় পরীক্ষা চালু করা এবং ধারাবাহিক মূল্যায়নের অনুপাত নির্ধারণ করা অন্তর্ভুক্ত ছিল।
সেই সভার পর প্রকাশিত নথিতে বলা হয়েছে, প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য পাঠ্যপুস্তক ও শিক্ষক সহায়িকায় উল্লেখিত বিষয়গুলোতে ৫০ শতাংশ ধারাবাহিক মূল্যায়ন এবং ৫০ শতাংশ সমষ্টিক মূল্যায়ন (পরীক্ষা) থাকবে। এভাবে শিক্ষার্থীর জ্ঞান ও দক্ষতা উভয়ই সমন্বিতভাবে পরিমাপ করা সম্ভব হবে।
পূর্বে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সরকার পরিবর্তনের পর মাধ্যমিক স্তরের নতুন কারিকুলাম বাতিল করা হলেও প্রাথমিক স্তরের কারিকুলাম বজায় রাখা হয়। তবে মূল্যায়ন পদ্ধতিতে কিছু পরিবর্তন আনা হয়, যাতে শিক্ষার্থীর ধারাবাহিক অগ্রগতি তদারকি করা যায়।
২০২৫ সালে প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণিতে কোনো পরীক্ষা নেওয়া হয়নি; তৃতীয় থেকে পঞ্চম শ্রেণিতে ৩০ শতাংশ ধারাবাহিক এবং ৭০ শতাংশ সমষ্টিক মূল্যায়নের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। এই অভিজ্ঞতা নতুন নীতি প্রণয়নে প্রভাব ফেলেছে, যেখানে পরীক্ষার গুরুত্ব পুনরায় জোর দেওয়া হয়েছে।
নতুন নীতিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, যে বিষয়গুলো পাঠ্যপুস্তক ও শিক্ষক সহায়িকায় উভয়ই অন্তর্ভুক্ত, সেসবের জন্য ধারাবাহিক ও সমষ্টিক দুটোই মূল্যায়ন হবে। অন্যদিকে, শুধুমাত্র শিক্ষক সহায়িকায় দেওয়া বিষয়গুলোর জন্য শুধুমাত্র ধারাবাহিক মূল্যায়নই থাকবে, কোনো সমষ্টিক পরীক্ষা হবে না।
উদাহরণস্বরূপ, বাংলা ভাষা ও গণিতের মৌলিক ধারণা পাঠ্যপুস্তকে বর্ণিত হলে শিক্ষার্থীর ফলাফল ৫০‑৫০ ভাগে ভাগ হবে। তবে হস্তশিল্প বা কিছু সৃজনশীল কার্যক্রমে যদি শুধুমাত্র শিক্ষক নির্দেশনা অনুসরণ করা হয়, তবে শিক্ষার্থীর পারফরম্যান্স ধারাবাহিকভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে এবং কোনো লিখিত পরীক্ষা থাকবে না।
শিক্ষক ও অভিভাবকদের জন্য ব্যবহারিক পরামর্শ হল, ধারাবাহিক মূল্যায়নের জন্য নিয়মিত হোমওয়ার্ক, ক্লাসে অংশগ্রহণ এবং ছোট ছোট প্রকল্পের রেকর্ড রাখা। পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য শিক্ষার্থীদের পাঠ্যপুস্তক ও শিক্ষক সহায়িকায় দেওয়া উদাহরণগুলো পুনরায় দেখা এবং প্রশ্নোত্তর সেশন আয়োজন করা উপকারী হবে। আপনার শিশুর শেখার অগ্রগতি কীভাবে মাপা হচ্ছে, তা জানার জন্য স্কুলের মূল্যায়ন পরিকল্পনা সম্পর্কে জেনে নিন।



