ইফতেখারুজ্জামান, ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক, সোমবার ঢাকার ধানমন্ডি মাইডাস সেন্টারে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে অন্তর্বর্তী সরকারের ১.৫ বছরের কাজের সামগ্রিক মূল্যায়ন উপস্থাপন করেন। তিনি উল্লেখ করেন, আওয়ামী লীগের পতনের পর সরকারকে বিচার ব্যবস্থা, রাষ্ট্র সংস্কার এবং নির্বাচনের ভিত্তি স্থাপনের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল, তবে বাস্তবায়নে দেখা গিয়েছে যে অর্জনের চেয়ে ঘাটতি বেশি।
সম্মেলনে প্রকাশিত “প্রত্যাশা ও প্রাপ্তি” শীর্ষক গবেষণা প্রতিবেদন অনুযায়ী, আইনগত ও সাংবিধানিক কাঠামো তৈরি হয়েছে, তবে সেগুলোর কার্যকরী বাস্তবায়নে উল্লেখযোগ্য ঝুঁকি দেখা দিচ্ছে। ইফতেখারুজ্জামান বলেন, এই অবকাঠামো এখনও দুর্বল এবং ঝুঁকি মোকাবিলার জন্য প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া যথেষ্ট দৃঢ় নয়।
তিনি চারটি ক্ষেত্রকে অগ্রগতি দেখার মূল দিক হিসেবে চিহ্নিত করেন: সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া, বিচার ও নির্বাচনের অবকাঠামো, এবং রাষ্ট্র সংস্কারের কাঠামো। যদিও এসব ক্ষেত্রে কিছু অগ্রগতি হয়েছে, তবু তিনি জোর দিয়ে বলেন যে এই কাঠামোগুলি এখনও পর্যাপ্ত শক্তি ও স্থায়িত্ব অর্জন করেনি।
রাজনৈতিক দলগুলোর অনড় অবস্থানকে ঘাটতির অন্যতম কারণ হিসেবে ইফতেখারুজ্জামান উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, জুলাই সনদের দুর্বলতা মূলত বড় রাজনৈতিক দলগুলোর সুপারিশের প্রতি অনীহা থেকে উদ্ভূত হয়েছে। বিভিন্ন সংস্কার কমিশনের সুপারিশগুলোকে গ্রহণে বড় দলগুলোর অস্বীকৃতি, সনদের কার্যকারিতা হ্রাসের প্রধান কারণ।
জুলাই সনদের অধীনে অনুষ্ঠিত গণভোটের পর বিভিন্ন বিতর্ক এবং দেশের মধ্যে দ্বিধা সৃষ্টি হয়েছে, যা রাজনৈতিক পরিবেশকে আরও জটিল করে তুলেছে। এই পরিস্থিতি সরকারকে সংস্কারমূলক পদক্ষেপ দ্রুত ও কার্যকরভাবে বাস্তবায়নে বাধা সৃষ্টি করেছে।
বিচার বিভাগের সংস্কারকে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক সর্বোচ্চ সাফল্য হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, মানবাধিকার লঙ্ঘন ও দুর্নীতি সংক্রান্ত মামলাগুলোতে দ্রুত ও দৃঢ় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, যা দেশের জন্য একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। কিছু ক্ষেত্রে ইতিবাচক ফলাফল দেখা গেছে, তবে এই সাফল্যগুলো সীমিত মাত্রায়ই প্রকাশ পেয়েছে।
তবে, সামগ্রিকভাবে প্রক্রিয়ার গতি ধীর এবং প্রক্রিয়াগত দুর্বলতা অব্যাহত রয়েছে। ইফতেখারুজ্জামান সতর্ক করেন, অবকাঠামো শক্তিশালী না হলে এবং রাজনৈতিক ইচ্ছাশক্তি না থাকলে সংস্কারমূলক উদ্যোগগুলো কাঙ্ক্ষিত ফল না পেতে পারে।
ভবিষ্যতে টিআইবি সরকারকে আরও দৃঢ় ও স্বচ্ছ বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছে, যাতে বিচার, নির্বাচন ও রাষ্ট্র সংস্কারের ভিত্তি সত্যিকারের মজবুত হয়। তিনি আশা প্রকাশ করেন, রাজনৈতিক দলগুলোর সহযোগিতা এবং সুপারিশের পূর্ণ বাস্তবায়নই দেশের গণতান্ত্রিক উন্নয়নের মূল চাবিকাঠি হবে।



