26 C
Dhaka
Friday, May 8, 2026
Google search engine
Homeবিনোদনশাজিয়া ইকবাল ধুরন্ধরকে ঘৃণা-উদ্রেককারী চলচ্চিত্র বলে সমালোচনা, ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট প্রাইভেট

শাজিয়া ইকবাল ধুরন্ধরকে ঘৃণা-উদ্রেককারী চলচ্চিত্র বলে সমালোচনা, ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট প্রাইভেট

বিনোদন জগতের পরিচিত পরিচালক শাজিয়া ইকবাল, যিনি ‘ধাদক ২’ দিয়ে নজর কেড়েছেন, ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে স্পষ্টভাবে ‘ধুরন্ধর’ চলচ্চিত্রকে ‘সিনিস্টার’ বলে সমালোচনা করেন এবং চলচ্চিত্রের DNA-তে ঘৃণা ও হিংসা উস্কে দেওয়া আছে বলে উল্লেখ করেন। তার পোস্টটি দ্রুতই শিল্পের মধ্যে তীব্র বিতর্কের সূচনা করে। পোস্টের পরই ইকবাল তার ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টকে প্রাইভেট করে দেন, যা আলোচনাকে আরও গরম করে তুলেছে।

‘ধুরন্ধর’ ডিসেম্বর ২০২৫-এ থিয়েটারে মুক্তি পায় এবং আদিত্য ধর পরিচালনা করেন। রণবীর সিং প্রধান চরিত্রে অভিনয় করে এক গোপন এজেন্টের ভূমিকায় তীব্র অ্যাকশন ও গোপনীয়তা পূর্ণ কাহিনী উপস্থাপন করেন। ছবিটি দেশীয় বক্স অফিসে বিশাল সাফল্য অর্জন করে, উচ্চ আয় এবং শীর্ষস্থানীয় রেকর্ডের মাধ্যমে হিন্দি চলচ্চিত্রের তালিকায় নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করে। মুক্তির কয়েক মাস পর নেটফ্লিক্স-এ স্ট্রিমিংয়ের জন্য যুক্ত হওয়ায় আরও বিস্তৃত দর্শকের কাছে পৌঁছেছে।

সহায়ক ভূমিকায় আকশয়ে খান, অর্জুন রামপাল, আর. মধুয়ান, সঞ্জয় দত্ত এবং সারা অরজনসহ পরিচিত মুখগুলো উপস্থিত থাকে, যা ছবির বাণিজ্যিক আকর্ষণকে বাড়িয়ে দেয়। গল্পটি একটি ভারতীয় গোপন এজেন্টকে কেন্দ্র করে, যিনি সন্ত্রাসী নেটওয়ার্কের গভীরে প্রবেশ করে দেশের নিরাপত্তা রক্ষার চেষ্টা করেন, এবং এতে উচ্চ মাত্রার গোপনীয়তা, তীব্র শুটিং ও নাটকীয় মোড় রয়েছে।

শাজিয়া ইকবাল, যিনি ‘ধাদক ২’ দিয়ে সমালোচনামূলক প্রশংসা পেয়েছেন, তার ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে ‘ধুরন্ধর’ এর টাইটেল ট্র্যাকের সঙ্গে তার মন্তব্য যুক্ত করেন। তিনি লিখেছেন যে চলচ্চিত্রটি “ইচ্ছাকৃতভাবে ঘৃণা ও হিংসা উস্কে দেয়” এবং এটিকে “কোনো লুকানো বিষয় নয়, বরং স্পষ্টভাবে হিংসাত্মক বার্তা বহন করে” বলে বর্ণনা করেন। তার পোস্টে তিনি শিল্পের কিছু সহকর্মীর প্রতি ব্যঙ্গাত্মক সুরে মন্তব্য করে বলেন, “এটি ‘ভালোভাবে তৈরি’ চলচ্চিত্র, তবে অধিকাংশই সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের প্রতি যথেষ্ট মনোযোগ দেয় না।”

ইকবাল তার মন্তব্যে বিশেষভাবে উল্লেখ করেন যে চলচ্চিত্রের বিষয়বস্তু সংখ্যালঘু গোষ্ঠীর ওপর সম্ভাব্য ক্ষতিকর প্রভাব ফেলতে পারে এবং শিল্পের মধ্যে এই ধরনের বিষয়ের প্রতি অমনোযোগী মনোভাবকে সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, “বহু শিল্পী এই বিষয়ের গুরুত্ব বুঝতে পারছেন না এবং এ ধরনের কন্টেন্টের সামাজিক প্রভাবকে উপেক্ষা করছেন।” তার এই উদ্বেগের প্রকাশের পরই তিনি তার ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টকে প্রাইভেট করেন, যা অনলাইন আলোচনার তীব্রতা বাড়িয়ে দেয় এবং তার পোস্টের মূল বিষয়কে আরও বেশি দৃষ্টিতে নিয়ে আসে।

একই স্টোরিতে ইকবাল ‘দ্য কেরালা স্টোরি ২’ টিজারকেও উল্লেখ করেন, যা ২০২৩ সালের মূল ছবির ধারাবাহিক এবং পূর্বে ধর্মীয় ও রাজনৈতিক সংবেদনশীলতা নিয়ে বিশাল বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু ছিল। ‘ধুরন্ধর’ এবং ‘দ্য কেরালা স্টোরি ২’ উভয়ই হিংসা, ধর্মীয় উত্তেজনা এবং সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের প্রতি সম্ভাব্য ক্ষতি নিয়ে সমালোচনার মুখে পড়েছে, ফলে শিল্পের ভিতরে বিষয়বস্তুর দায়িত্ব এবং নৈতিক দিক নিয়ে আলোচনা তীব্র হয়েছে।

ইকবালের মন্তব্যের পর শিল্পের কিছু সদস্য সামাজিক মিডিয়ায় সমর্থন বা সমালোচনা প্রকাশ করেন, তবে কোনো আনুষ্ঠানিক সংস্থা বা প্রযোজক গোষ্ঠী থেকে স্পষ্ট বিবৃতি প্রকাশিত হয়নি। বেশিরভাগ মন্তব্যই ব্যক্তিগত দৃষ্টিকোণ থেকে ছিল এবং চলচ্চিত্রের বাণিজ্যিক সাফল্য ও শিল্পের সৃজনশীল স্বাধীনতার মধ্যে ভারসাম্য রক্ষার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছে।

দর্শক ও সমালোচকরা এখন ‘ধুরন্ধর’ এর নেটফ্লিক্স স্ট্রিমিং সংস্করণ দেখার পর চলচ্চিত্রের সামাজিক প্রভাব নিয়ে পুনরায় প্রশ্ন তুলছেন, বিশেষ করে সংখ্যালঘু গোষ্ঠীর ওপর সম্ভাব্য মানসিক ও সামাজিক ক্ষতি সম্পর্কে উদ্বেগ প্রকাশ করছেন। এই আলোচনার মধ্যে চলচ্চিত্র নির্মাতাদের বিষয়বস্তু পর্যালোচনা, সংবেদনশীলতা বিবেচনা এবং সামাজিক দায়িত্বের প্রতি সচেতনতা বাড়ানোর আহ্বান করা হচ্ছে।

বিনোদন শিল্পের স্বচ্ছতা ও দায়িত্বশীলতা বাড়াতে নির্মাতাদের উচিত স্ক্রিপ্ট রিভিউ প্রক্রিয়ায় বিশেষজ্ঞদের অন্তর্ভুক্ত করা এবং সংবেদনশীল বিষয়ের ওপর যথাযথ গবেষণা করা। পাশাপাশি, বিতর্কিত বিষয়বস্তু নিয়ে কাজ করার সময় লক্ষ্য গোষ্ঠীর প্রতিনিধিদের মতামত শোনা এবং সম্ভাব্য প্রভাব বিশ্লেষণ করা শিল্পের নৈতিক দায়িত্বের অংশ হিসেবে বিবেচনা করা উচিত।

পাঠকদের জন্য পরামর্শ: নেটফ্লিক্স-এ স্ট্রিমিং করা কোনো চলচ্চিত্র দেখার সময় বিষয়বস্তুর সামাজিক ও সাংস্কৃতিক প্রভাব সম্পর্কে সচেতন থাকা গুরুত্বপূর্ণ। যদি কোনো দৃশ্য বা বার্তা সংখ্যালঘু গোষ্ঠীর প্রতি আক্রমণাত্মক বা হিংসাত্মক মনে হয়, তবে সংশ্লিষ্ট স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্ম বা চলচ্চিত্র সংস্থার সঙ্গে মতামত শেয়ার করা এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের জন্য আবেদন করা উচিত। এভাবে দর্শক হিসেবে আমরা শিল্পের দায়িত্বশীলতা বাড়াতে সহায়তা করতে পারি।

৬৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: Bollywood Hungama
বিনোদন প্রতিবেদক
বিনোদন প্রতিবেদক
AI-powered বিনোদন content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments