রবিবার রাত প্রায় ৯:৩০ টার দিকে প্যাকুরিতলা মদিনা কোল্ড স্টোরেজের সামনে, দেবীগঞ্জ‑বোদা এশিয়ান মহাসড়কে একটি বালু ভর্তি ট্রাকের ধাক্কায় এক মেডিকেল টেকনোলজিস্টের প্রাণ ত্যাগ হয়। ঘটনাস্থলে স্থানীয় পুলিশ দ্রুত পৌঁছে, প্রাথমিক তদন্ত শুরু করে।
মৃত ব্যক্তি ৩৮ বছর বয়সী সমেশ চন্দ্র, যিনি দেবীগঞ্জ উপজেলার পামুলী ইউনিয়নের কাটনহারী আরাজি এলাকার হরি কিশোর বর্মনের পুত্র। তিনি দেবীগঞ্জ পৌর শহরের ‘মায়ের হাসি ডায়াগনস্টিক সেন্টার’ে মেডিকেল টেকনোলজিস্ট হিসেবে কাজ করতেন এবং স্থানীয় রোগীদের পরীক্ষায় নিয়মিত অংশ নিতেন। তার পরিবার এবং সহকর্মীরা শোক প্রকাশ করে, তিনি তরুণ বয়সে সমাজের স্বাস্থ্যসেবায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছিলেন।
ধাক্কা দেয়া ট্রাকের চালক মো. সাদ্দাম হোসেন, ৩৬ বছর বয়সী, ঝিনাইদহ জেলার কালীগঞ্জ উপজেলার বলিদাপাড়া এলাকার আবুল হোসেনের পুত্র। তিনি বালু বহনকারী দ্রুতগতির ট্রাক চালাচ্ছিলেন এবং কাজ শেষ করে বাড়ি ফেরার পথে এই দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে জানা যায়। চালকের পূর্বের কোনো ট্রাফিক লঙ্ঘনের রেকর্ড আছে কিনা তা বর্তমানে তদন্তের অংশ হিসেবে যাচাই করা হচ্ছে।
সমেশ চন্দ্র কাজ শেষ করে বাড়ি ফেরার পথে, বালু ভর্তি ট্রাকটি হঠাৎ তার সামনে এসে দ্রুত গতি বজায় রেখে তাকে আঘাত করে। ট্রাকের চাকার নিচে চাপা পড়ে তিনি গুরুতর আঘাতপ্রাপ্ত হন এবং ট্রাকটি তাকে রাস্তার সঙ্গে পিষে দেয়। আঘাতের তীব্রতা এতই বেশি ছিল যে, স্থানীয় বাসিন্দা ও উপস্থিত পুলিশ দ্রুত উদ্ধার কাজের চেষ্টা করলেও তিনি ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান।
স্থানীয় মানুষ এবং পুলিশ দুজনই আহতকে তৎক্ষণাৎ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে, তবে রক্তক্ষরণ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয়নি। মৃতদেহকে পরে স্থানীয় কর্তৃপক্ষের হস্তান্তরে পার্শ্ববর্তী হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয় না, কারণ তিনি ঘটনাস্থলেই মৃত্যুবরণ করেন। পরিবারকে শোকের সঙ্গে সঙ্গে প্রাথমিক আইনি প্রক্রিয়ার তথ্যও জানানো হয়।
দেবীগঞ্জ‑বোদা এশিয়ান মহাসড়কে অপরিকল্পিত ও ত্রুটিপূর্ণ স্পিড ব্রেকার স্থাপনের অভিযোগ বাসিন্দারা তুলেছেন। তারা জানিয়েছেন, দ্রুতগামী যানবাহন হঠাৎ ব্রেক করলে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে এমন দুর্ঘটনা ঘটতে থাকে। স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবী দল এবং গ্রাম পরিষদ এই সমস্যার সমাধানের জন্য রাস্তায় অতিরিক্ত সিগন্যাল এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা স্থাপনের দাবি জানাচ্ছে।
দেবীগঞ্জ থানার ওসি কে.এম. মনিরুজ্জামান চৌধুরী জানান, দুর্ঘটনার পর ট্রাক এবং চালককে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। গ্রেফতারকৃত চালকের কাছ থেকে ঘটনাস্থল, গতি, এবং ট্রাকের রক্ষণাবেক্ষণ সংক্রান্ত বিবৃতি নেওয়া হয়েছে। এছাড়া ট্রাকের রেকর্ড, বালু লোডের পরিমাণ এবং রাস্তায় গতি সীমা লঙ্ঘনের প্রমাণ সংগ্রহ করা হচ্ছে।
তদন্তের অংশ হিসেবে ট্রাফিক ক্যামেরা ফুটেজ, গাড়ির গতি মিটার রেকর্ড এবং সড়কের রক্ষণাবেক্ষণ সংক্রান্ত নথি বিশ্লেষণ করা হবে। স্থানীয় গৃহস্থালির সাক্ষী এবং দুর্ঘটনা সময়ের পথচারীদের বিবৃতি সংগ্রহ করা হয়েছে, যা ভবিষ্যতে আদালতে প্রমাণ হিসেবে ব্যবহার হবে। আইনগত ব্যবস্থা সম্পন্ন হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে উপযুক্ত শাস্তি আরোপের সম্ভাবনা রয়েছে।
এই ধরনের দুর্ঘটনা রোধে সড়ক নিরাপত্তা ব্যবস্থা শক্তিশালী করা এবং স্পিড ব্রেকারের যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণ করা জরুরি বলে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ এবং নাগরিক উভয়ই জোর দিয়েছেন। ভবিষ্যতে একই রকম ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে রাস্তায় অতিরিক্ত সিগন্যাল, গতি নিয়ন্ত্রণ ক্যামেরা এবং নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ পরিকল্পনা বাস্তবায়নের প্রস্তাব করা হয়েছে।



