শেরিয়াটপুরের নাড়িয়া উপজেলার পোরাগাছা বেপারিকান্দি এলাকায় আজ প্রাতঃকালীন অভিযান চলাকালীন ৯৫টি কাঁচা বোমা ১২টি বালতিতে সংরক্ষিত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। এই কাজটি পুলিশ ও সেনাবাহিনীর যৌথ টাস্কফোর্স পরিচালনা করে, যা রাত ৩ টা থেকে ভোর পর্যন্ত চালু ছিল।
অভিযান চলাকালে তিনজন সন্দেহভাজন রনি পেডা (১৮), মাহেদি হাসান (২৫) এবং বাচ্চু পেডা (৬০) গ্রেফতার করা হয় এবং তাদের থেকে তীক্ষ্ণ অস্ত্রসহ অন্যান্য সামগ্রী জব্দ করা হয়। গ্রেফতারের পর প্রায় সকাল ৮ টায় সন্দেহভাজন ও উদ্ধারকৃত বোমা, তীক্ষ্ণ অস্ত্রসহ নাড়িয়া থানা-তে হস্তান্তর করা হয়।
নাড়িয়া থানার সাব-ইনস্পেক্টর আখিল রঞ্জন সরকার জানান, “অভিযানটি বেপারিকান্দি এলাকায় প্রায় ভোর পর্যন্ত চালু ছিল এবং গ্রেফতারেরা যথাযথ প্রক্রিয়ায় আদালতে উপস্থাপন করা হবে।” তিনি আরও উল্লেখ করেন, গ্রেফতারেরা আইনানুগভাবে জেলখানা পাঠানো হবে।
উদ্ধারকৃত কাঁচা বোমাগুলি ধ্বংস করার জন্য ঢাকার বোমা নিষ্ক্রিয়করণ ইউনিটকে পাঠানো হবে। বোমা নিষ্ক্রিয়করণ কাজ সম্পন্ন হওয়ার পর বোমাগুলি নিরাপদে ধ্বংস করা হবে।
আইনগত দিক থেকে, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক পদার্থ সংক্রান্ত আইনের অধীনে মামলা দায়ের করা হবে। এই মামলাটি এক্সপ্লোসিভ সাবস্ট্যান্সেস অ্যাক্টের ধারা অনুযায়ী চলবে এবং আদালতে প্রমাণ উপস্থাপন করা হবে।
গত তিন দিনে নাড়িয়া উপজেলার তিনটি ভিন্ন স্থানে মোট ২২টি কাঁচা বোমা উদ্ধার করা হয়েছে, যা নিরাপত্তা বাহিনীর সতর্কতা ও তদারকি বাড়িয়ে দিয়েছে। এই ধারাবাহিক উদ্ধার কাজের ফলে এলাকায় বিস্ফোরক পদার্থের অবৈধ সঞ্চয় রোধে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
গত বছর আগস্ট মাসে একই এলাকায় ৬০টি কাঁচা বোমা উদ্ধার করা হয়েছিল, যা পরে বাংলাদেশ পুলিশের অ্যান্টি-টেররিজম ইউনিটের সদস্যদের দ্বারা নিষ্ক্রিয় করা হয়। সেই সময়ের সফল নিষ্ক্রিয়করণ কাজের পর নিরাপত্তা ব্যবস্থার পুনর্গঠন করা হয়েছিল।
অতীতের একটি ঘটনার কথা উল্লেখ করা যায়, যখন জানুয়ারি ৮ তারিখে জাজিরা উপজেলার বিলাসপুর ইউনিয়নের মুলাই বেপারিকান্দি এলাকায় কাঁচা বোমা তৈরির সময় বিস্ফোরণে তিনজনের মৃত্যু হয়। সেই ঘটনার পর থেকে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ বিস্ফোরক পদার্থের নিয়ন্ত্রণে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করে আসছে।
এই ধারাবাহিক ঘটনাগুলি শেরিয়াটপুর ও পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে নিরাপত্তা সংক্রান্ত উদ্বেগ বাড়িয়ে তুলেছে। আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ও সেনাবাহিনী সমন্বিতভাবে কাজ করে অবৈধ বিস্ফোরক পদার্থের সঞ্চয় রোধে তৎপরতা বজায় রেখেছে।
অভিযান শেষে, স্থানীয় প্রশাসন ও নিরাপত্তা বাহিনীর মধ্যে সমন্বয় বাড়িয়ে আরও তদন্ত চালিয়ে যাওয়া হবে। সংশ্লিষ্ট সন্দেহভাজনদের বিরুদ্ধে প্রমাণ সংগ্রহের পাশাপাশি, বোমা তৈরির সম্ভাব্য নেটওয়ার্ক সনাক্ত করার জন্য বিশেষ দল গঠন করা হয়েছে।
নাড়িয়া থানার কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ভবিষ্যতে এ ধরনের অবৈধ কার্যকলাপ রোধে নিয়মিত নজরদারি ও র্যাণ্ডম চেক চালু করা হবে। এছাড়া, স্থানীয় জনগণকে অবৈধ বিস্ফোরক পদার্থের সন্দেহজনক কার্যকলাপ সম্পর্কে সতর্কতা অবলম্বন করতে আহ্বান জানানো হয়েছে।
সামগ্রিকভাবে, পুলিশ ও সেনাবাহিনীর যৌথ প্রচেষ্টা এলাকায় নিরাপত্তা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে এবং অবৈধ বিস্ফোরক পদার্থের ধ্বংসে সাফল্য অর্জন করেছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের কার্যকলাপের পুনরাবৃত্তি রোধে আইনগত ব্যবস্থা ও নিরাপত্তা তদারকি অব্যাহত থাকবে।



