সপ্তাহান্তে গ্র্যামি পুরস্কার অনুষ্ঠানে দুইটি প্রধান পুরস্কার জয়ী হওয়া সেজা (SZA) তার বিজয় উদযাপন করার সময় যুক্তরাষ্ট্রে বাড়তে থাকা গৃহহিংসা এবং অভিবাসন নীতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি স্টেজের পেছনে উপস্থিত মিডিয়া দলের সামনে বর্তমান সামাজিক অবস্থা নিয়ে তার মতামত শেয়ার করেন।
সেজা “লুথার” গানের জন্য রেকর্ড অফ দ্য ইয়ার এবং বেস্ট মেলোডিক র্যাপ পারফরম্যান্স পুরস্কার পেয়েছেন, যা কেনড্রিক লামারের সঙ্গে তার সহযোগিতায় তৈরি হয়েছে। এই দু’টি জয় তাকে সঙ্গীত জগতে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে চিহ্নিত করেছে।
বিজয় উদযাপনের মুহূর্তে তিনি উল্লেখ করেন যে, সমাজের কিছু অংশে মানুষকে হঠাৎ করে গ্রেফতার করা হচ্ছে এবং রাস্তায় গুলি চালিয়ে হত্যা করা হচ্ছে, যা তাকে এক ধরনের ডিস্টোপিয়ান পরিবেশের মতো মনে হয়। তিনি বলেন, এই সময়ে সজ্জা করে পুরস্কার গ্রহণ করা যেন এক বিরোধপূর্ণ দৃশ্য।
সেজা স্বীকার করেন যে, অনেকের মধ্যে রাগ ও হতাশা ছড়িয়ে আছে, তবে তিনি এই অনুভূতিগুলোকে নিজের পরিচয় হিসেবে গ্রহণ করতে চান না। তিনি বলেন, এই ধরনের নেতিবাচক মনোভাবকে সমর্থন করা তার লক্ষ্য নয়।
তার বক্তব্যে তিনি ভবিষ্যৎ সম্ভাবনার প্রতি আস্থা প্রকাশ করেন এবং বলেন, বিশৃঙ্খলা কখনও কখনও পরিবর্তনের সূচনা হতে পারে। তিনি এই সময়কে সম্প্রদায়ের গভীরতা অনুসন্ধানের সুযোগ হিসেবে দেখেন, যাতে মানুষ একে অপরের উপর নির্ভরশীলতা বাড়াতে পারে।
সেজা জোর দিয়ে বলেন, এখন অন্যের উপর নির্ভর করার বদলে নিজের প্রতিবেশী ও সম্প্রদায়ের ওপর ভরসা করা উচিত। তিনি পারস্পরিক সহায়তা, মনোবল বাড়ানো এবং একে অপরের যত্ন নেওয়ার গুরুত্ব তুলে ধরেন।
এই পরিস্থিতি যদিও ভয়াবহ, তবু তিনি এটিকে একটি সুযোগ হিসেবে দেখেন, যেখানে মানুষ একত্রে কাজ করে সামাজিক পরিবর্তন আনতে পারে। তিনি উল্লেখ করেন, এই মুহূর্তে সক্রিয় হয়ে উঠা এবং একে অপরকে সমর্থন করা জরুরি।
সেজা বারবার অভিবাসন সংস্থা আইসের (ICE) নীতির বিরোধিতা করেন এবং সবাইকে হতাশায় ডুবে না যাওয়ার আহ্বান জানান। তিনি অতীতের যুদ্ধ ও মহামারীকে উদাহরণ দিয়ে বলেন, মানবজাতি এসব সংকট পার করে এসেছে এবং পারবে।
তিনি স্পষ্ট করে বলেন, তিনি এই অন্ধকার সময়ে নীরবভাবে ম্লান হতে চান না; পরিবর্তে সক্রিয়ভাবে পরিবর্তনের জন্য কাজ করতে চান। তার এই দৃঢ়সঙ্কল্প তার ভক্তদের মধ্যে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া জাগিয়ে তুলেছে।
অনুষ্ঠানের অন্যান্য শিল্পী, যেমন ব্যাড বানি এবং বিলি ইলিশও স্টেজে একই ধরনের আইস-বিরোধী বার্তা দিয়েছেন। তাদের পারফরম্যান্সের সময় সেজা এই বিষয়গুলোকে পুনরায় উল্লেখ করেন, যা শিল্প জগতে একটি সমন্বিত প্রতিবাদ হিসেবে দেখা যায়।
রেকর্ড অফ দ্য ইয়ার পুরস্কার গ্রহণের সময় সেজা শ্রোতাদেরকে হতাশা না পেতে অনুরোধ করেন। তিনি বলেন, বর্তমান সময়ে অ্যালগরিদমের মাধ্যমে প্রচারিত ভয়কে অতিক্রম করে একে অপরের উপর বিশ্বাস রাখতে হবে।
তিনি অতীতের বড় সংকটগুলো—যুদ্ধ, মহামারী—কে উদাহরণ দিয়ে দেখান যে মানবতা সবসময়ই এগিয়ে গেছে। এই ইতিহাসকে স্মরণ করে তিনি সমষ্টিগত আস্থা ও পারস্পরিক সহায়তার প্রয়োজনীয়তা জোর দেন।
সেজার এই মন্তব্যগুলো যুক্তরাষ্ট্রে বাড়তে থাকা গুলিবর্ষণ, অভিবাসন শিবিরে গ্রেফতার এবং সামাজিক অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে এসেছে। তার মতামত শিল্পী সম্প্রদায়ের জন্য একটি স্পষ্ট সংকেত যে, তারা তাদের প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে সামাজিক ন্যায়বিচার ও মানবিক মূল্যবোধের পক্ষে কথা বলছে।
শেষে, সেজার এই আহ্বান তার ভক্ত এবং বৃহত্তর জনসাধারণের মধ্যে সাড়া ফেলেছে। তিনি প্রত্যেককে নিজের প্রতিবেশীকে রক্ষা করতে, পারস্পরিক সহায়তা বাড়াতে এবং আশার আলোকে বজায় রাখতে অনুরোধ করেন, যাতে এই কঠিন সময়ে সমাজের সামগ্রিক শক্তি বৃদ্ধি পায়।



