27 C
Dhaka
Monday, February 2, 2026
Google search engine
Homeবিজ্ঞানজাপান গভীর সমুদ্রের তলে বিরল ধাতু সম্বলিত তলাচ্ছন্ন সংগ্রহ করেছে

জাপান গভীর সমুদ্রের তলে বিরল ধাতু সম্বলিত তলাচ্ছন্ন সংগ্রহ করেছে

জাপান সরকার সোমবার জানিয়েছে যে, একটি পরীক্ষামূলক মিশনে ৬,০০০ মিটার (প্রায় ২০,০০০ ফুট) গভীর সমুদ্রের তলায় থেকে বিরল ধাতু সমৃদ্ধ তলাচ্ছন্ন সংগ্রহ করা হয়েছে। এই পদক্ষেপটি চীন থেকে বিরল ধাতুর ওপর নির্ভরতা কমানোর কৌশলের অংশ হিসেবে নেওয়া হয়েছে।

মিশনটি বিশ্বের প্রথমবারের মতো এত গভীর সমুদ্রে বিরল ধাতু অনুসন্ধানের প্রচেষ্টা হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। সংগ্রহ করা নমুনায় কতটুকু বিরল ধাতু রয়েছে তা বিশ্লেষণ করা হবে, যা অর্থনৈতিক নিরাপত্তা ও সামুদ্রিক উন্নয়নের দৃষ্টিকোণ থেকে গুরুত্বপূর্ণ বলে সরকারী মুখপাত্র কেই সাটো মন্তব্য করেছেন।

নমুনাটি সংগ্রহের জন্য ব্যবহার করা হয়েছে চিক্যু নামের একটি গভীর সমুদ্র বৈজ্ঞানিক ড্রিলিং জাহাজ। এই জাহাজটি গত মাসে প্রশান্ত মহাসাগরের দূরবর্তী দ্বীপ মিনামি টোরিশিমা দিকে রওনা হয়েছিল, যেখানে সমুদ্রের নিচে মূল্যবান ধাতুর সমৃদ্ধ ভাণ্ডার রয়েছে বলে ধারণা করা হয়।

মিনামি টোরিশিমা জাপানের অর্থনৈতিক জলের মধ্যে অবস্থিত এবং এর আশেপাশের পানিতে বিরল ধাতুর সম্ভাব্য পরিমাণ বিশাল বলে অনুমান করা হচ্ছে। নিক্কেই ব্যবসায়িক দৈনিকের তথ্য অনুযায়ী, এই অঞ্চল বিশ্বে তৃতীয় বৃহত্তম বিরল ধাতু সংরক্ষণস্থল হিসেবে বিবেচিত।

চীন বর্তমানে বিশ্বে বিরল ধাতুর সর্ববৃহৎ সরবরাহকারী, এবং সাম্প্রতিক সময়ে জাপানের ওপর চাপ বাড়িয়ে দিয়েছে। নভেম্বর মাসে প্রধানমন্ত্রী সানাই তাকাইচি টাইওয়ানের ওপর সম্ভাব্য সামরিক প্রতিক্রিয়া সম্পর্কে মন্তব্য করার পর, চীন জাপানের জন্য “দ্বৈত-ব্যবহার” পণ্য রপ্তানি বন্ধ করে দেয়।

দ্বৈত-ব্যবহার পণ্য বলতে এমন সামগ্রী বোঝায় যেগুলি সামরিক ও বেসামরিক উভয় কাজে ব্যবহার করা যেতে পারে। রপ্তানি বন্ধের ফলে জাপান উদ্বিগ্ন যে, চীন বিরল ধাতুর সরবরাহে বাধা সৃষ্টি করতে পারে, যা উচ্চ প্রযুক্তি শিল্পের জন্য অপরিহার্য।

বিরল ধাতু মোট ১৭টি ধাতু নিয়ে গঠিত, যেগুলি পৃথিবীর ভূত্বকের থেকে বের করা কঠিন। এই ধাতুগুলি বৈদ্যুতিক গাড়ি, হার্ড ড্রাইভ, বায়ু টারবাইন এবং ক্ষেপণাস্ত্রের মতো গুরুত্বপূর্ণ পণ্যে ব্যবহৃত হয়। তাই সরবরাহে কোনো বাধা শিল্পের উৎপাদনশীলতায় সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে।

নিক্কেই প্রকাশিত তথ্য অনুসারে, মিনামি টোরিশিমা অঞ্চলে প্রায় ১৬ মিলিয়ন টন বিরল ধাতু রয়েছে। এই পরিমাণকে বিশ্বব্যাপী তৃতীয় বৃহত্তম সংরক্ষণ হিসেবে গণ্য করা হয়েছে। এতে রয়েছে যথেষ্ট পরিমাণে ডাইসপ্রোসিয়াম ও ইট্রিয়াম, যা উচ্চ শক্তির চুম্বক এবং লেজার প্রযুক্তিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

বিশেষ করে ডাইসপ্রোসিয়ামের অনুমানিক মজুদ ৭৩০ বছরের ব্যবহারিক পরিমাণ, যা স্মার্টফোন ও বৈদ্যুতিক গাড়ির চুম্বকে ব্যবহৃত হয়। ইট্রিয়ামের মজুদ প্রায় ৭৮০ বছরের সমান, যা লেজার উৎপাদনে অপরিহার্য। এই পরিমাণের ধাতু যদি নিয়মিতভাবে উত্তোলন করা যায়, তবে জাপানের স্বয়ংসম্পূর্ণতা বাড়বে।

জাপান সরকার এই মিশনকে অর্থনৈতিক নিরাপত্তা ও সামুদ্রিক উন্নয়নের দৃষ্টিকোণ থেকে “অর্থবহ সাফল্য” বলে উল্লেখ করেছে। যদি ভবিষ্যতে মিনামি টোরিশিমা থেকে ধারাবাহিকভাবে বিরল ধাতু উত্তোলন করা সম্ভব হয়, তবে দেশীয় শিল্পের কাঁচামাল সরবরাহে স্বনির্ভরতা অর্জন করা যাবে।

এই নতুন আবিষ্কার জাপানের কাঁচামাল নীতি পুনর্গঠনে কী ভূমিকা রাখবে, তা সময়ই প্রকাশ করবে। তবে বর্তমান পর্যায়ে দেখা যাচ্ছে, গভীর সমুদ্রের তলায় থেকে বিরল ধাতু সংগ্রহের প্রযুক্তিগত সক্ষমতা জাপানের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত অগ্রগতি। ভবিষ্যতে এই প্রযুক্তি কীভাবে ব্যবহার করে দেশীয় শিল্পকে সমর্থন করা যায়, তা নিয়ে আরও গবেষণা ও নীতি নির্ধারণের প্রয়োজন।

৯১/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ডেইলি স্টার
খবরিয়া প্রতিবেদক
খবরিয়া প্রতিবেদক
AI Powered by NewsForge (https://newsforge.news)
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments