28 C
Dhaka
Sunday, May 10, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিশফিকুর রহমানের কক্সবাজারের নির্বাচনী জনসভায় ১৮ কোটি মানুষের সমর্থন ও দুর্নীতি নিন্দা

শফিকুর রহমানের কক্সবাজারের নির্বাচনী জনসভায় ১৮ কোটি মানুষের সমর্থন ও দুর্নীতি নিন্দা

শফিকুর রহমান, জামায়াত-এ-ইসলামি আমির, কক্সবাজারের মহেশখালী পৌরসভার গোরকঘাটা আদর্শ উচ্চবিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত নির্বাচনী জনসভায় উপস্থিত হয়ে তার মতামত উপস্থাপন করেন। অনুষ্ঠানটি দুপুর ১২টায় শুরু হয় এবং দেশের রাজনৈতিক আলোচনায় নতুন দৃষ্টিকোণ যোগ করে।

শফিকুর রহমানকে দুপুরের ঠিক ১২টায় হেলিকপ্টার দিয়ে মহেশখালীতে অবতরণ করা হয়, যা উপস্থিতিদের মধ্যে বিশেষ মনোযোগের বিষয় হয়ে ওঠে। তার আগমনের পরই তিনি মঞ্চে উঠে বক্তৃতা শুরু করেন।

জনসভায় জামায়াত-এ-ইসলামির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল, কক্সবাজার-২ (মহেশখালী‑কুতুবদিয়া) আসনের প্রার্থী হামিদুর রহমান আযাদ এবং ১১‑দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। এই সমাবেশে স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ের রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের সমন্বয় দেখা যায়।

বক্তৃতার প্রথম অংশে শফিকুর রহমান উল্লেখ করেন যে, আগে যারা মুখ লুকিয়ে ছিলেন এবং কোনো কথা বলেনি, এখন তারা ‘হ্যাঁ’ বলতে বাধ্য হচ্ছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, মানুষের মুখের কথা যেন তাদের হৃদয়ের সত্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়।

তিনি আরও সতর্ক করেন যে, ‘হ্যাঁ’‑এর বিরোধী অবস্থান গ্রহণকারী দলকে ১৮ কোটি মানুষের সমর্থন থাকবে এবং তারা ফ্যাসিবাদী, পরিবারকেন্দ্রিক স্বৈরতান্ত্রিক শাসন গড়ে তোলার চেষ্টা করবে। এ ধরনের শাসনকে তিনি দেশের ভবিষ্যতের জন্য হুমকি হিসেবে চিহ্নিত করেন।

শফিকুর রহমান স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেন যে, জামায়াত-এ-ইসলামি নিজস্ব বিজয় নয়, বরং ১৮ কোটি মানুষের সমগ্র বিজয়ই চায়। তিনি যুক্তি দেন, যদি পুরো জনগণ সফল হয়, তবে সবারই সমৃদ্ধি নিশ্চিত হবে এবং কোনো দল বা গোষ্ঠীর একক বিজয় জাতিকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে না।

দল, পরিবার বা গোষ্ঠীর স্বার্থে যদি কোনো বিজয় অর্জিত হয়, তবে তা জাতির ওপর অনিচ্ছাকৃত তাণ্ডবের সূচনা করবে, এ কথা তিনি পুনরায় জোর দিয়ে বলেন। তিনি এমন কোনো বিজয়কে প্রত্যাখ্যান করেন, যা দেশের সার্বিক উন্নয়নের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

যুবকদের বেকার ভাতা নিয়ে প্রশ্ন তোলার সময়, শফিকুর রহমান উল্লেখ করেন যে, যুব সমাজের মূল দাবি কাজের সুযোগ, অর্থের নয়। তিনি বলেন, তরুণরা দেশের গঠন ও উন্নয়নে অংশ নিতে চায়, তাই বেকার ভাতা বিতরণে অগ্রাধিকার না দিয়ে গুণগত কর্মসংস্থান তৈরি করা উচিত।

মহেশখালী‑কুতুবদিয়া অঞ্চলের উন্নয়নের সম্ভাবনা নিয়ে তিনি আশাবাদী দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ করেন। গভীর সমুদ্রবন্দর এবং অন্যান্য অবকাঠামো গড়ে তোলার মাধ্যমে এই অঞ্চলকে সিঙ্গাপুর বা হংকংয়ের সমতুল্য অর্থনৈতিক কেন্দ্র বানানোর পরিকল্পনা রয়েছে, তিনি উল্লেখ করেন।

দুর্নীতিগ্রস্ত নেতাদের সমালোচনা করে শফিকুর রহমান বলেন, চাঁদাবাজ, ঋণখেলাপি, ব্যাংক ডাকাত ইত্যাদি ব্যক্তিত্বদের নেতৃত্বে ভবিষ্যতের বাংলাদেশ গড়া সম্ভব নয়। তিনি জোর দিয়ে বলেন, সততা ও দেশপ্রেমের ভিত্তিতে গড়া নেতৃত্বই দেশের সঠিক পথ।

তিনি এমন নেতাদের প্রত্যাখ্যান করেন, যারা কেবল মৌসুমী কোকিলের মতো সময়ে সময়ে উপস্থিত হয় এবং জনগণের সঙ্গে সুখ-দুঃখে যুক্ত নয়। শফিকুর রহমানের মতে, সত্যিকারের নেতৃত্বের গুণাবলী হল মানুষের সঙ্গে নিবিড় সংযোগ এবং ন্যায়পরায়ণতা।

বক্তৃতার শেষ অংশে তিনি উল্লেখ করেন, দেশের বিশাল পরিমাণ অর্থ বিদেশে পাচার ও লুণ্ঠন করা হয়েছে, যা দেশের আর্থিক স্বাস্থ্যের জন্য বড় ক্ষতি। তিনি এই ধরনের আর্থিক অপব্যবহার বন্ধের আহ্বান জানান এবং দায়িত্বশীল ব্যবস্থাপনার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন।

শফিকুর রহমানের এই বক্তব্যের ফলে আসন্ন নির্বাচনে ভোটারদের মনোভাব গঠনে প্রভাব পড়তে পারে বলে বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন। তিনি যে বিষয়গুলো তুলে ধরেছেন—জনগণের সমগ্র সমর্থন, যুব কর্মসংস্থান, অবকাঠামো উন্নয়ন ও দুর্নীতি বিরোধ—সেগুলো দেশের রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রে থাকবে।

৯২/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: প্রথম আলো
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments