31 C
Dhaka
Saturday, May 9, 2026
Google search engine
Homeস্বাস্থ্যস্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের ১০০ মিটার মধ্যে তামাক বিক্রি নিষিদ্ধের নির্দেশনা

স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের ১০০ মিটার মধ্যে তামাক বিক্রি নিষিদ্ধের নির্দেশনা

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সকল স্তরের স্বাস্থ্য প্রশাসনকে নির্দেশ দিয়েছে যে হাসপাতাল, ক্লিনিক, স্বাস্থ্য কেন্দ্র এবং তাদের পার্শ্ববর্তী এলাকায় তামাকজাত পণ্যের বিক্রয় ১০০ মিটার সীমার মধ্যে বন্ধ রাখতে হবে। এই পদক্ষেপটি নতুন অ্যান্টি‑তামাক আইন অনুযায়ী নেওয়া হয়েছে, যা সম্প্রতি কঠোরতর করা হয়েছে।

মন্ত্রণালয় জানিয়েছে যে ২৯ জানুয়ারি একটি চিঠির মাধ্যমে সকল হাসপাতাল পরিচালক, সুপারিনটেনডেন্ট, সিভিল সার্জন এবং উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তাদের এই নির্দেশনা জানানো হয়েছে। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে তামাক বিক্রির নিষেধাজ্ঞা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সকল কর্তৃপক্ষকে ত্বরিত ব্যবস্থা নিতে হবে।

এই নির্দেশনা এক মাসেরও বেশি সময় আগে গৃহীত অস্থায়ী সরকারের ধূমপান ও তামাক পণ্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) আইন সংশোধনের পর অনুসরণ করা হয়েছে। সংশোধিত আইন তামাক পণ্যের সংজ্ঞা বিস্তৃত করেছে এবং বিশেষত নতুন ধরনের তামাক পণ্যের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত বিধান যোগ করেছে।

নতুন বিধান অনুযায়ী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, খেলার মাঠ এবং শিশু পার্কের ১০০ মিটার সীমার মধ্যে তামাক পণ্যের বিক্রয় সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ। মন্ত্রণালয় এই বিধানকে কার্যকর করার জন্য স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের দায়িত্ব অর্পণ করেছে এবং তদনুযায়ী তদারকি বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছে।

২০০৫ সালের মূল নিয়মে হাসপাতালকে ধূমপানের জন্য নিষিদ্ধ পাবলিক স্থান হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিল এবং লঙ্ঘনের জন্য ৫০ টাকা জরিমানা নির্ধারিত ছিল। ২০১৩ সালে সংশোধনের মাধ্যমে এই জরিমানা ৩০০ টাকায় বৃদ্ধি পেয়েছিল।

নতুন অর্ডিন্যান্সে জরিমানা আরও বাড়িয়ে ২,০০০ টাকা নির্ধারিত হয়েছে, যা ধূমপান বা কোনো ধরনের তামাকজাত পণ্য ব্যবহারকারী উভয়ের ওপর প্রযোজ্য। এই কঠোর শাস্তি তামাক ব্যবহারের হার কমাতে এবং জনস্বাস্থ্যের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে লক্ষ্য করা হয়েছে।

মন্ত্রণালয় স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছে যে তারা তামাক নিষেধাজ্ঞা সম্পর্কিত সাইনবোর্ড ও পোস্টার স্থাপন করবে। এসব প্রচারমূলক উপকরণ রোগী, দর্শনার্থী এবং কর্মীদের মধ্যে তামাকমুক্ত পরিবেশের সচেতনতা বাড়াবে।

অধিকন্তু, স্বাস্থ্যকেন্দ্রের আশেপাশে তামাক বিক্রেতা বা স্টল পরিচালনাকারীকে আইন অনুযায়ী শাস্তি দেওয়া হবে। তামাক বিক্রির অনুমতি না থাকা কোনো ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে বন্ধ করা বা জরিমানা আরোপের সম্ভাবনা রয়েছে।

এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হল হাসপাতাল ও ক্লিনিকের মতো স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রকে তামাকের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে রক্ষা করা এবং রোগীর আরোগ্য প্রক্রিয়াকে দ্রুততর করা। তামাকের উপস্থিতি রোগীর শ্বাসযন্ত্রের সমস্যাকে বাড়িয়ে তুলতে পারে, তাই পরিবেশকে সম্পূর্ণ তামাকমুক্ত রাখা জরুরি।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা উল্লেখ করেছেন যে তামাকমুক্ত নীতি শুধুমাত্র বিক্রয় নয়, ব্যবহারকেও অন্তর্ভুক্ত করে। তাই হাসপাতাল ক্যাফেটেরিয়ায় ধূমপান নিষিদ্ধ করা এবং তামাকের বিকল্প হিসেবে স্বাস্থ্যকর বিকল্প প্রদান করার কথাও বিবেচনা করা হচ্ছে।

এই নীতির কার্যকরী পর্যবেক্ষণের জন্য স্থানীয় স্বাস্থ্য কর্মী ও পুলিশ সংস্থার সমন্বয় নিশ্চিত করা হবে। তামাক বিক্রেতা বা ধূমপানকারীকে ধরা পড়লে দ্রুত শাস্তি আরোপের মাধ্যমে নীতি বাস্তবায়নকে শক্তিশালী করা হবে।

সামগ্রিকভাবে, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের এই পদক্ষেপ তামাকের ব্যবহার হ্রাস, রোগীর আরোগ্য গতি বৃদ্ধি এবং জনস্বাস্থ্যের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে। তামাকমুক্ত পরিবেশ গড়ে তোলার জন্য সকল সংশ্লিষ্ট পক্ষের সহযোগিতা প্রয়োজন, যাতে স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের চারপাশে একটি নিরাপদ ও পরিষ্কার পরিবেশ নিশ্চিত করা যায়।

৯১/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ডেইলি স্টার
স্বাস্থ্য প্রতিবেদক
স্বাস্থ্য প্রতিবেদক
AI-powered স্বাস্থ্য content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments