৬৮তম গ্র্যামি পুরস্কার অনুষ্ঠানে রেকর্ড ভাঙা পারফরম্যান্স এবং রাজনৈতিক বার্তা শোনা গেল। গ্লোবাল সঙ্গীতের শীর্ষ পুরস্কারগুলো নিউ ইয়র্কে রাতের শোতে বিতরণ করা হয়, যেখানে শিল্পী, রেকর্ড লেবেল ও ভক্তরা একত্রিত হয়। প্রধান দৃষ্টিকোণ ছিল জেনারেল ফিল্ডের পাঁচটি শীর্ষ পুরস্কার—অ্যালবাম অব দ্য ইয়ার, রেকর্ড অব দ্য ইয়ার, সঙ অব দ্য ইয়ার, বেস্ট নিউ আর্টিস্ট এবং বেস্ট র্যাপ পারফরম্যান্স—কে কে জিতবে তা নির্ধারণ করা।
শুক্রবার বিকেলে প্রি-টেলিকাস্টে বেশিরভাগ জেনারেল ক্যাটেগরি ঘোষিত হয়, ফলে শোয়ের আগে থেকেই পুরস্কারপ্রাপ্তদের তালিকা প্রকাশ পায়। জেনারেল ফিল্ডে নাম ছিল ব্যাড বানি, কেন্ড্রিক লামার, লেডি গাগা, স্যাব্রিনা কার্পেন্টার, বিলি আইলিশ, চ্যাপেল রোয়ান ও ডোচি—যারা প্রত্যেকেই অ্যালবাম, রেকর্ড ও গানের শীর্ষ পুরস্কারের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছিল।
রাতের শোতে ব্যাড বানি প্রথম পুরস্কার জিতলেন, তিনি তার অর্ভানা অ্যালবাম “ডেবি টিরার মাস ফটোস” দিয়ে বেস্ট উরবানা অ্যালবাম জিতলেন। তার গ্রহণের সময় তিনি “ICE Out” বলে শুরু করে একটি তীব্র রাজনৈতিক ভাষণ দিলেন, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন নীতি নিয়ে তার মতামত প্রকাশ পায়।
কেন্ড্রিক লামার, যিনি মোট নয়টি নোমিনেশন নিয়ে শোয় প্রবেশ করেছিলেন, প্রথম পুরস্কার হিসেবে বেস্ট র্যাপ অ্যালবাম জিতলেন। তার অ্যালবাম “GNX” ক্লিপসের “লেট গড সোর্ট এম আউট” এবং টাইলার দ্য ক্রিয়েটরের “ক্রোমাকোপিয়া”কে পরাজিত করে শীর্ষে উঠে। একই সময়ে লামার পূর্বে প্রি-টেলিকাস্টে বেস্ট মেলোডিক র্যাপ পারফরম্যান্স ও বেস্ট র্যাপ সঙ পুরস্কার পেয়েছিলেন।
ক্লিপসের “চেইনস অ্যান্ড হুইপস” গানে লামারও অংশগ্রহণ করায়, ক্লিপস প্রি-টেলিকাস্টে বেস্ট র্যাপ পারফরম্যান্স পুরস্কার জিতেছেন। এই বিজয় লামারকে গ্র্যামি ইতিহাসে সর্বাধিক পুরস্কারপ্রাপ্ত র্যাপার করে তুলেছে, যা পূর্বে জে-জেডের রেকর্ডকে অতিক্রম করেছে।
বেস্ট নিউ আর্টিস্ট ক্যাটেগরিতে ইংল্যান্ডের গায়িকা অলিভিয়া ডিন জয়ী হলেন। তিনি লিয়ন থমাস, অ্যাডিসন রে, সোমব্র, ক্যাটসাই, দ্য মারিয়াস, লোলা ইয়ং এবং অ্যালেক্স ওয়ারেনের মতো উদীয়মান শিল্পীদের মধ্যে সেরা হিসেবে নির্বাচিত হন। তার গ্রহণের সময় তিনি নিজেকে “ইমিগ্র্যান্টের নাতি” বলে পরিচয় দিয়ে, অভিবাসন নীতি সমালোচনায় সমর্থন জানিয়ে বলেছিলেন, “আমরা একে অপরের ছাড়া কিছুই নই”।
অন্যান্য জেনারেল ফিল্ডের পুরস্কার এখনও নির্ধারিত হয়নি, তবে শোয়ের অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে বিজয়ীর তালিকা আপডেট হবে। গ্র্যামি পুরস্কারগুলো সঙ্গীত শিল্পের সৃজনশীলতা, প্রযুক্তি ও সামাজিক প্রভাবের মেলবন্ধনকে তুলে ধরে, এবং এই বছরের শোতে শিল্পীদের রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি ও ব্যক্তিগত পরিচয়কে প্রকাশের সুযোগ দিয়েছে।
গ্র্যামি শোটি সারা বিশ্বে লাইভ স্ট্রিমিংয়ের মাধ্যমে প্রচারিত হয়, ফলে ভক্তরা ঘরে বসে রিয়েল-টাইমে ফলাফল অনুসরণ করতে পারছেন। এই বছরের অনুষ্ঠানটি সঙ্গীতের পাশাপাশি সামাজিক বিষয়ের ওপরও আলোকপাত করেছে, যা শিল্পী ও দর্শকদের মধ্যে নতুন সংলাপের সূচনা করেছে।



