24 C
Dhaka
Wednesday, May 6, 2026
Google search engine
Homeস্বাস্থ্যদৈনন্দিন ছোটখাটো শারীরিক ক্রিয়ায় স্বাস্থ্যের উন্নতি

দৈনন্দিন ছোটখাটো শারীরিক ক্রিয়ায় স্বাস্থ্যের উন্নতি

ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডনের ইনস্টিটিউট অফ স্পোর্ট, এক্সারসাইজ অ্যান্ড হেলথের সিনিয়র রিসার্চ ফেলো জো ব্লডজেটের গবেষণায় দেখা গেছে, দীর্ঘ সময়ের ব্যায়াম না করেও ছোটখাটো শারীরিক ক্রিয়ার মাধ্যমে স্বাস্থ্যের উন্নতি সম্ভব। তিনি “এক্সারসাইজ স্ন্যাক” নামে একটি পদ্ধতি প্রস্তাব করেছেন, যেখানে দৈনন্দিন রুটিনে স্বল্প সময়ের তীব্র গতি যুক্ত করা হয়।

এই পদ্ধতিকে তিনি “ভিগোরাস ইন্টারমিটেন্ট লাইফস্টাইল ফিজিক্যাল অ্যাক্টিভিটি” (VILPA) নামে অভিহিত করেন, যার মূল ধারণা হল সাধারণ কাজের সময় হঠাৎ করে এক-দুই মিনিটের জন্য শারীরিক প্রচেষ্টা বাড়ানো। উদাহরণস্বরূপ, রান্না করার সময় দ্রুত একদম দ্রুত হাঁটা, টেলিভিশন দেখার সময় দাঁড়িয়ে কিছু স্ট্রেচ করা ইত্যাদি।

ব্লডজেটের গবেষণায় দেখা গেছে, উচ্চ তীব্রতার স্বল্প সময়ের ব্যায়াম হৃদস্পন্দন বাড়িয়ে রক্ত সঞ্চালন উন্নত করে, যা হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে সহায়ক। যদিও দীর্ঘ সময়ের ব্যায়ামও গুরুত্বপূর্ণ, তবে VILPA তীব্রতা এবং পুনরাবৃত্তি যোগ করে সামগ্রিক স্বাস্থ্যের ওপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলে।

বিশেষ করে যারা ব্যস্ত সময়সূচি নিয়ে ঘুরে বেড়ায়, তাদের জন্য এক-দুই মিনিটের তীব্র গতি তিন থেকে চার বার যোগ করা যথেষ্ট হতে পারে। এই ছোটখাটো প্রচেষ্টা হৃদরোগের সম্ভাবনা হ্রাস এবং আয়ু বাড়াতে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখে বলে গবেষণায় প্রকাশ পেয়েছে।

যারা নিয়মিত জিমে যান বা সপ্তাহে একবার ফুটবল খেলেন, তাদের জন্যও এই পদ্ধতি অতিরিক্ত সুবিধা প্রদান করে। জিমের ত্রিশ মিনিটের ব্যায়াম মোট স্বাস্থ্যের মাত্র একটি অংশ, বাকি ২৩ ঘন্টা ও অর্ধ ঘণ্টা কীভাবে কাটানো হচ্ছে, সেটাই মূল বিষয়।

ব্লডজেটের মতে, অনেক মানুষ “অ্যাকটিভ কাচ পটেটো” হিসেবে পরিচিত, অর্থাৎ তারা কখনো কখনো ব্যায়াম করেন, তবে অধিকাংশ সময় বসে থাকে। যদিও এই সময়ের ব্যায়াম কিছুটা উপকারি, তবে দীর্ঘ সময় বসে থাকা স্ক্রিনের সামনে বা সোফায় শুয়ে থাকা স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।

বসার সময়কে যতটা সম্ভব ছোট রাখা উচিত, এবং প্রতি ১৫ থেকে ৩০ মিনিটে উঠে দাঁড়িয়ে হালকা নড়াচড়া করা সুপারিশ করা হয়। দাঁড়িয়ে গিয়ে হাত নাড়ানো, পা ঝাঁকানো, অথবা আবার বসে কাজ চালিয়ে যাওয়া এই পদ্ধতির অংশ।

প্রায়োগিকভাবে, অফিসে কাজের মাঝখানে এক মিনিটের জন্য সিঁড়ি বেয়ে ওঠা, টয়লেটের পথে দ্রুত হাঁটা, অথবা কিচেনে খাবার প্রস্তুত করার সময় দ্রুত স্কোয়াট করা সহজে করা যায়। এসব ছোটখাটো গতি দৈনন্দিন রুটিনে যুক্ত করলে শারীরিক সক্রিয়তা স্বাভাবিকভাবে বাড়ে।

সারসংক্ষেপে, বিশেষ কোনো পোশাক বা জিমের সদস্যতা ছাড়াই, স্বল্প সময়ের তীব্র গতি দৈনন্দিন জীবনে যুক্ত করা স্বাস্থ্যের জন্য বড় পরিবর্তন আনতে পারে। আপনার দিনচর্যায় ছোটখাটো শারীরিক স্ন্যাক যোগ করার চেষ্টা করুন; হয়তো এক সপ্তাহের মধ্যেই শক্তি ও মনোভাবের উন্নতি অনুভব করবেন। আপনার মতামত কী? আপনি কীভাবে আপনার রুটিনে এই ধরনের গতি যুক্ত করতে চান?

৯৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিবিসি
স্বাস্থ্য প্রতিবেদক
স্বাস্থ্য প্রতিবেদক
AI-powered স্বাস্থ্য content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments