মালি, বুর্কিনা ফাসো ও নাইজারের সামরিক শাসনগুলোকে লক্ষ্য করে যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক নীতি উল্লেখযোগ্যভাবে পরিবর্তিত হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের আফ্রিকা বিষয়ক ব্যুরোর প্রধান নিক চেকার মালি রাজধানী বামাকোতে সফর করে মালি সরকারের সার্বভৌমত্বের প্রতি সম্মান জানাতে এবং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের নতুন দিক নির্ধারণের ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। এই সফরের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র বুর্কিনা ফাসো ও নাইজারের সঙ্গে নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্বার্থে সহযোগিতা বাড়ানোর পরিকল্পনা জানিয়েছে।
মালি, বুর্কিনা ফাসো ও নাইজার তিনটি পশ্চিম আফ্রিকান দেশ সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইসলামিক বিদ্রোহের মোকাবিলায় রাশিয়া সরকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা গড়ে তুলেছে এবং ফ্রান্সের সঙ্গে সামরিক সহযোগিতা বন্ধ করেছে। এই পরিবর্তনের পটভূমিতে ২০২০ থেকে ২০২৩ পর্যন্ত অনুষ্ঠিত সামরিক অভ্যুত্থানগুলো রয়েছে, যেখানে নির্বাচিত নাগরিক প্রেসিডেন্টদের ক্ষমতা থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়। নাইজারে এখনও মোহাম্মদ বাজৌমের বাড়ি থেকে আটক অবস্থায় রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের এই নতুন দৃষ্টিভঙ্গি ডোনাল্ড ট্রাম্পের শাসনামলে পুনরায় শ্বেত বাড়িতে ফিরে আসার পর স্পষ্ট হয়ে ওঠে। শপথ গ্রহণের পরপরই ইউএসএআইডি, যা অঞ্চলে উন্নয়ন সহায়তার প্রধান সংস্থা, বন্ধ করা হয়। এরপর থেকে নিরাপত্তা ও খনিজ সম্পদে কেন্দ্রীভূত নীতি অনুসরণ করা হচ্ছে, যেখানে উন্নয়ন ও শাসন সংস্কারকে পেছনে ধাক্কা দেওয়া হয়েছে।
চেকারের বামাকো সফর মালি সরকারের সার্বভৌমত্বের প্রতি সম্মান প্রকাশের পাশাপাশি, রাশিয়া সরকারের সঙ্গে মালি ও তার মিত্রদের ঘনিষ্ঠতা বাড়ানোর সংকেতও বহন করে। মালি সরকার ও তার প্রতিবেশী দেশগুলো সামরিক নেতৃত্বে প্যান-আফ্রিকানবাদী থিমকে গুরুত্ব দিয়ে প্রাক্তন ঔপনিবেশিক শক্তি ফ্রান্সকে প্রত্যাখ্যান করছে।
বুর্কিনা ফাসোর সামরিক নেতা ক্যাপ্টেন ইব্রাহিম ত্রোয়ারে “ইম্পেরিয়ালিজম” ও “নিও-কলোনিয়ালিজম”ের বিরোধিতা করে নিজেকে প্রতিরোধের প্রতীক হিসেবে উপস্থাপন করছেন। সামাজিক মিডিয়ায় সক্রিয় প্রচারণা চালিয়ে তিনি তরুণ প্রজন্মের মধ্যে ব্যাপক সমর্থন অর্জন করেছেন, যা তার রাজনৈতিক অবস্থানকে শক্তিশালী করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের এই নীতি পরিবর্তন পূর্বে মানবাধিকার ও গণতন্ত্রের ওপর জোর দেওয়া যুক্তরাষ্ট্রের দৃষ্টিভঙ্গি থেকে বিচ্যুত হয়েছে। এখন নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে মালি, বুর্কিনা ফাসো ও নাইজারের সঙ্গে সহযোগিতা বাড়ানোর দিকে মনোযোগ দেওয়া হচ্ছে। এই পরিবর্তন অঞ্চলীয় নিরাপত্তা কাঠামো ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কের পুনর্গঠনকে প্রভাবিত করতে পারে।
ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রের মালি ও তার প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্কের দিকনির্দেশনা কী হবে তা আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের দৃষ্টিতে থাকবে। যদি নিরাপত্তা ও খনিজ সম্পদের ওপর জোর দেওয়া নীতি অব্যাহত থাকে, তবে রাশিয়া সরকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা আরও বাড়তে পারে, যা পশ্চিমা শক্তিগুলোর জন্য নতুন কূটনৈতিক চ্যালেঞ্জ তৈরি করবে। একইসঙ্গে, মালি সরকার ও তার মিত্রদের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও মানবাধিকার পরিস্থিতি আন্তর্জাতিক সমর্থনকে প্রভাবিত করতে পারে।
এই পরিবর্তনের ফলে আফ্রিকান মহাদেশের নিরাপত্তা ও উন্নয়ন নীতিতে নতুন গতিপথ গড়ে উঠতে পারে, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা পুনর্নির্ধারিত হবে। তবে মানবাধিকার ও গণতন্ত্রের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি হ্রাস পেলে, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সমালোচনা ও চাপের মুখে যুক্তরাষ্ট্রকে নতুন কূটনৈতিক সমন্বয় করতে হতে পারে।



