প্যালেস্টাইনি অভিনেত্রী হিয়াম আব্বাস, যিনি এইচবিওর জনপ্রিয় সিরিজ ‘সাক্সেশন’‑এ মার্সিয়া রয় চরিত্রে পরিচিত, ৫৫তম আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব রটারডাম‑এ অংশগ্রহণ করেছেন। উৎসবে তিনি অ্যানেমারি জাসিরের ‘প্যালেস্টাইন ৩৬’ এবং মালেক বেনস্মাইলের ‘দ্য আরব’ চলচ্চিত্রে প্রধান ভূমিকায় অভিনয় করেছেন, যা শনিবার ডাচ উৎসবে বিশ্বপ্রথম প্রদর্শনী পেয়েছে।
রটারডামের পরের দিন, রবিবার সন্ধ্যায় হিয়াম আব্বাস ইটিএফআরের ‘বিগ টক’ সেশনে ইটালিয়ান অভিনেত্রী‑পরিচালক ভ্যালেরিয়া গোলিনোর সঙ্গে আলোচনায় অংশ নেন। আলোচনায় দুজনেই শিল্প, রাজনীতি ও পরিচয়ের সংযোগ নিয়ে মতবিনিময় করেন।
হিয়াম আব্বাসের কথায় উঠে আসে তার প্যালেস্টাইনি নারী হিসেবে বড় হওয়ার অভিজ্ঞতা। তিনি উল্লেখ করেন, নিজের পরিবারে অব্যাহত অন্যায়ের উত্তরাধিকার তাকে শিল্পকে একটি মুক্তির স্থান হিসেবে গ্রহণ করতে উদ্বুদ্ধ করেছে। ঐ মুক্তি তাকে ঐতিহ্যবাহী রীতিনীতি থেকে বিচ্যুত সিদ্ধান্ত নিতে সক্ষম করেছে, যা তিনি নিজের স্বায়ত্তশাসনকে গুরুত্ব দেন।
তিনি বলেন, “প্রতিটি মুহূর্তে নিজের জন্য বাঁচা, অন্যের দৃষ্টিতে নয়, এমন একটি স্বাধীনতা এনে দেয়।” এই দৃষ্টিকোণ থেকে তিনি তার ক্যারিয়ারে এমন ভূমিকা বেছে নেন, যা প্যালেস্টাইনি ইতিহাসের সঙ্গে সংযুক্ত এবং সামাজিক দায়িত্বের অংশ হিসেবে বিবেচিত।
অক্টোবর ৭ তারিখের ঘটনার পর তার কাজের ওপর প্রভাবের কথাও তিনি শেয়ার করেন। তিনি উল্লেখ করেন, সংগ্রামের মধ্যে জন্ম নেওয়া মানুষ কখনো কখনো শিল্পের পছন্দ ও দায়িত্বের মধ্যে পার্থক্য করতে পারে না। ‘প্যালেস্টাইন ৩৬’ চলচ্চিত্রটি তার জন্য এমনই একটি উদাহরণ।
এছাড়া, তার কন্যা লিনা সুলেমের পরিচালিত ‘বাই বাই টিবেরিয়াস’ ডকুমেন্টারিতে তিনি নিজের পরিচয়কে কেন্দ্র করে উপস্থিত হন, যা শুধুমাত্র অভিনেত্রী হিসেবে নয়, তার বাস্তব জীবনের অংশ হিসেবে উপস্থাপিত হয়েছে।
হিয়াম আব্বাসের মতে, উভয় চলচ্চিত্রই তার জন্য উত্তরাধিকার ও ইতিহাসের একটি সফর। তিনি এটিকে কোনো স্লোগান নয়, বরং প্যালেস্টাইনি ইতিহাসের অংশ হিসেবে নিজেকে উপস্থিত রাখার একটি দায়িত্ব হিসেবে বর্ণনা করেন, যেটি প্রতিদিনই মুছে যাওয়ার হুমকির মুখে রয়েছে।
উৎসবে তার উপস্থিতি এবং ‘বিগ টক’ সেশনের আলোচনায় তিনি শিল্পের মাধ্যমে সামাজিক সচেতনতা বাড়ানোর গুরুত্ব পুনর্ব্যক্ত করেছেন। তিনি জোর দেন, শিল্পী হিসেবে তার কাজ কেবল বিনোদন নয়, বরং একটি ঐতিহাসিক দায়িত্বের অংশ।
হিয়াম আব্বাসের এই মন্তব্যগুলো রটারডাম উৎসবে তার উপস্থিতি এবং নতুন চলচ্চিত্রগুলোর প্রিমিয়ারকে কেন্দ্র করে গঠিত, যা প্যালেস্টাইনি সংস্কৃতি ও ইতিহাসের সংরক্ষণে তার অবদানকে তুলে ধরে।
উৎসবের শেষের দিকে, তিনি দর্শকদের এবং সহকর্মী শিল্পীদের কাছে আহ্বান জানান, যেন তারা শিল্পের মাধ্যমে সত্যিকারের ইতিহাসকে সংরক্ষণে সক্রিয় ভূমিকা গ্রহণ করে। তার এই আহ্বানটি আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র জগতে প্যালেস্টাইনি কণ্ঠস্বরকে আরও দৃঢ় করার লক্ষ্যে গৃহীত হয়েছে।



