অ্যাপল ফোল্ডেবল স্মার্টফোনের পরবর্তী প্রজেক্ট হিসেবে স্কোয়ার আকারের ক্ল্যামশেল‑স্টাইল ডিভাইসের সম্ভাবনা বিবেচনা করছে বলে জানা গেছে। প্রথম ফোল্ডেবল আইফোনের নির্দিষ্ট লঞ্চ তারিখ এখনও প্রকাশিত না হলেও, এই নতুন মডেলটি এখনও গবেষণার পর্যায়ে রয়েছে।
প্রস্তাবিত ক্ল্যামশেল মডেলটি চতুষ্কোণাকার গঠন এবং হ্যাঁ‑হ্যাঁ করে খুলে যায় এমন পদ্ধতি গ্রহণ করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে এটি বাজারে আসবে কিনা, অথবা কখন আসবে, তা নিশ্চিত করা যায়নি; বর্তমানে এটি শুধুমাত্র সম্ভাব্য বিকল্পের তালিকায় রয়েছে।
এই সম্ভাব্য ডিভাইসটি প্রথম ফোল্ডেবল আইফোনের তুলনায় ছোট আকারের হতে পারে, যা বছরের শেষের দিকে প্রকাশের কথা শোনা যাচ্ছে। ছোট স্ক্রিন এবং কম্প্যাক্ট ফর্ম ফ্যাক্টর ব্যবহারকারীকে সহজে হাতে ধরা এবং বহন করার সুবিধা দেবে।
অ্যাপল এই পদক্ষেপের মাধ্যমে স্যামসাং গ্যালাক্সি Z Flip 7 এবং মোটোরোলা রেজর ফোল্ডেবলসহ বিদ্যমান বাজারের প্রতিদ্বন্দ্বীদের সঙ্গে সরাসরি প্রতিযোগিতা করার ইচ্ছা প্রকাশ করছে। এই দুই মডেলই ইতিমধ্যে ভাঁজযোগ্য স্মার্টফোনের জনপ্রিয়তা বাড়িয়ে তুলেছে।
প্রথম ফোল্ডেবল আইফোনের রিলিজের আশায় ভোক্তাদের মধ্যে আগ্রহ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে, অ্যাপল সম্ভাব্য চাহিদা পূরণের জন্য পরবর্তী মডেলের পরিকল্পনা চালু করেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এই কৌশলটি বাজারের প্রতিক্রিয়ার ভিত্তিতে দ্রুত পণ্য লাইন আপ সম্প্রসারণে সহায়তা করবে।
অ্যাপল পূর্বে ক্ল্যামশেল ফরম্যাটের প্রোটোটাইপ তৈরি করেছে বলে রিপোর্টে উল্লেখ রয়েছে। সেই সময়ের পরীক্ষামূলক মডেলগুলোতে ভাঁজযোগ্য স্ক্রিনের স্থায়িত্ব এবং ব্যবহারিকতা যাচাই করা হয়েছিল।
একই সঙ্গে, অ্যাপল বড় আকারের ফোল্ডেবল ডিভাইসের সম্ভাবনাও অনুসন্ধান করছে, যা বইয়ের মতো খুলে যায়। এই ধারণা প্রথমে iPad সমান আকারের ফোল্ডেবল হিসেবে আলোচিত হয়েছিল, তবে প্রযুক্তিগত চ্যালেঞ্জের কারণে পরিকল্পনা পরিবর্তিত হয়েছে।
বড় স্ক্রিনের ফোল্ডেবল ডিভাইসের উন্নয়নে জটিলতা দেখা দেয়, ফলে লঞ্চ তারিখ ২০২৯ পর্যন্ত পিছিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা উত্থাপিত হয়েছে। এই দেরি মূলত হিঞ্জ মেকানিজম এবং স্ক্রিনের টেকসইতা নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তা থেকে উদ্ভূত।
বিভিন্ন ফরম ফ্যাক্টর পরীক্ষা করে অ্যাপল বাজারের বিভিন্ন সেগমেন্টকে লক্ষ্য করার চেষ্টা করছে। ছোট ক্ল্যামশেল মডেলটি কম্প্যাক্ট ব্যবহারকারীদের জন্য, আর বড় বই‑স্টাইল মডেলটি মিডিয়া কনজাম্পশন ও মাল্টিটাস্কিংয়ের জন্য উপযুক্ত হতে পারে।
যদি ছোট ক্ল্যামশেল ফোল্ডেবল শেষ পর্যন্ত উৎপাদনে আসে, তবে এটি ভাঁজযোগ্য ফোনের ঐতিহ্যবাহী স্লাইড‑অন বা বুকে‑খোলার মডেলের তুলনায় ভিন্ন ব্যবহারিকতা প্রদান করবে। ব্যবহারকারী এক হাতে ডিভাইসটি খুলে দ্রুত নোটিফিকেশন বা ক্যামেরা ব্যবহার করতে পারবেন।
বাজার বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, স্যামসাং Z Flip 7 এবং মোটোরোলা রেজর ইতিমধ্যে নির্দিষ্ট গ্রাহক গোষ্ঠীর মধ্যে জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে, এবং অ্যাপলের প্রবেশ নতুন প্রতিযোগিতামূলক গতিবিধি সৃষ্টি করতে পারে। বিশেষ করে অ্যাপলের ইকোসিস্টেমের সঙ্গে সমন্বয়িত ফোল্ডেবল ডিভাইসের সম্ভাবনা উচ্চ।
এখন পর্যন্ত অ্যাপল কোনো অফিসিয়াল বিবৃতি প্রকাশ করেনি, তাই ডিভাইসের সুনির্দিষ্ট স্পেসিফিকেশন, দাম বা লঞ্চ সময়সূচি সম্পর্কে কোনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। সব তথ্যই শিল্পের গুজব এবং পূর্ববর্তী রিপোর্টের ভিত্তিতে গৃহীত।
ভোক্তাদের জন্য সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে, অ্যাপল শেষ পর্যন্ত ডিজাইন ও উৎপাদন পরিকল্পনা চূড়ান্ত করার পরই আনুষ্ঠানিক ঘোষণার প্রত্যাশা করা হচ্ছে। সেই সময়ে স্ক্রিনের রিফ্রেশ রেট, হিঞ্জের টেকসইতা এবং ব্যাটারি লাইফের মতো প্রযুক্তিগত বিবরণ প্রকাশিত হবে।
ফোল্ডেবল প্রযুক্তিতে অ্যাপলের ধারাবাহিক গবেষণা শিল্পের সামগ্রিক প্রবণতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ, এবং ভবিষ্যতে স্মার্টফোনের ব্যবহার পদ্ধতিতে পরিবর্তন আনতে পারে। এই ধরনের উদ্ভাবন ব্যবহারকারীর অভিজ্ঞতা ও পণ্য বৈচিত্র্যকে সমৃদ্ধ করবে বলে আশা করা যায়।



