18 C
Dhaka
Monday, February 2, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিভেনেজুয়েলায় মানবাধিকার কর্মী জাভিয়ের টারাজোনা মুক্তি পেয়েছেন

ভেনেজুয়েলায় মানবাধিকার কর্মী জাভিয়ের টারাজোনা মুক্তি পেয়েছেন

ভেনেজুয়েলার মানবাধিকার সংস্থা Fundaredes-এর প্রধান জাভিয়ের টারাজোনা, ২০২১ সালে গ্রেফতার হয়ে ক্যারাকাসের এল হেলিকয়েড কারাগারে আটকে ছিলেন; সরকারী ঘোষণার মাধ্যমে তিনি সম্প্রতি মুক্তি পেয়েছেন। মুক্তির খবরটি রবিবার Fundaredes প্রকাশ করেছে এবং একই সময়ে ভেনেজুয়েলার অন্য মানবাধিকার সংগঠন Foro Penal ৮ জানুয়ারি থেকে ৩০০‑এর বেশি রাজনৈতিক বন্দী মুক্তির তথ্য নিশ্চিত করেছে।

ট্যারাজোনা, যিনি Fundaredes-কে নেতৃত্ব দেন, ২০২১ সালে মানবাধিকার লঙ্ঘন ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদে গ্রেফতার হন এবং এল হেলিকয়েডে দীর্ঘ সময় ধরে আটক ছিলেন। এই কারাগারটি দেশের সর্বাধিক কুখ্যাত জেল হিসেবে পরিচিত এবং রাজনৈতিক কারাবাসীর জন্য বিশেষভাবে কঠোর শর্তের জন্য সমালোচিত হয়েছে।

মুক্তির ঘোষণা Fundaredesের একটি বিবৃতিতে প্রকাশিত হয়, যেখানে ট্যারাজোনার গ্রেফতারকে মানবাধিকার রক্ষার জন্য করা হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। সংস্থা যুক্তি দেয় যে তার মুক্তি তার ভোগ করা অন্যায় মুছে ফেলবে না, তবে এটি অপরাধবোধ, নির্যাতন এবং ন্যায়বিচারের অভাবের ধারাবাহিক প্রক্রিয়ায় একটি প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ।

অধিকর্তা প্রেসিডেন্ট ডেলসি রড্রিগেজের মতে, সরকার শীঘ্রই একটি দম্পতি আইন প্রণয়ন করবে, যা শত শত রাজনৈতিক বন্দীর জন্য দম্পতি প্রদান করবে এবং এল হেলিকয়েড কারাগার বন্ধের পরিকল্পনাও অন্তর্ভুক্ত। এই আইনটি জাতীয় সমাবেশে অনুমোদনের পথে রয়েছে এবং অনুমোদিত হলে কারাবাসের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।

মুক্তির পেছনে আন্তর্জাতিক চাপের ভূমিকা উল্লেখযোগ্য। মার্কিন সরকার ৩ জানুয়ারি বিশেষ বাহিনীর মাধ্যমে প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে গ্রেফতার করার পর ভেনেজুয়েলাকে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংস্কার চালু করতে আহ্বান জানায়। এই ঘটনার চার সপ্তাহ পর ট্যারাজোনার মুক্তি ঘটেছে, যা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের চাপের প্রভাবকে নির্দেশ করে।

ট্যারাজোনার বিরুদ্ধে সরকারী অভিযোগে তিনি কলম্বিয়ার গেরিলা গোষ্ঠীর সঙ্গে সম্পর্ক রাখার অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন এবং তাকে দেশদ্রোহ, সন্ত্রাসবাদ এবং ঘৃণার উস্কানি দেওয়ার অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয়েছে। তবে Fundaredesের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এই অভিযোগগুলো তার মানবাধিকার রক্ষার কাজের প্রতিক্রিয়া হিসেবে গৃহীত হয়েছে।

মাদুরোর গ্রেফতার ভেনেজুয়েলার বিরোধী ও মানবাধিকার কর্মীদের পরিবারকে আরও সক্রিয় করে তুলেছে। তারা এখন পর্যন্ত গ্রেফতার হওয়া বহু কর্মী ও রাজনৈতিক নেতার মুক্তির জন্য প্রচার চালিয়ে যাচ্ছে, যা দেশের অভ্যন্তরে মানবাধিকার সংস্থার অবস্থানকে শক্তিশালী করেছে।

ভেনেজুয়েলা সরকার দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক বন্দী নেই বলে দাবি করে আসছে, তবে মানবাধিকার সংগঠন ও বন্দীদের পরিবার এই দাবিকে অস্বীকার করে এবং গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলোকে স্বেচ্ছাচারী বলে সমালোচনা করে। বিরোধী রাজনৈতিক নেতা, সাংবাদিক ও কর্মীরা সন্ত্রাসবাদ ও দেশদ্রোহের মতো অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন, যা তাদের পরিবারকে অবিচারিক বলে মনে হয়।

দম্পতি আইনটি জাতীয় সমাবেশে অনুমোদিত হলে, ট্যারাজোনা সহ অন্যান্য রাজনৈতিক বন্দীর মুক্তি দ্রুততর হতে পারে এবং এল হেলিকয়েডের বন্ধের পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হতে পারে। এই পদক্ষেপগুলো দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে পরিবর্তন আনতে পারে এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নত করার সম্ভাবনা বাড়াতে পারে।

ভেনেজুয়েলার ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক দৃশ্যপটে এই মুক্তি এবং দম্পতি আইন গুরুত্বপূর্ণ সূচক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। মানবাধিকার সংস্থাগুলি আশা প্রকাশ করেছে যে এই ধাপগুলো দেশের আইনি কাঠামোকে আরও স্বচ্ছ ও ন্যায়সঙ্গত করবে এবং দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক দমনকে শেষ করার দিকে অগ্রসর হবে।

৯৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিবিসি
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments