পশ্চিম ইউক্রেনের পাভলোহ্রাদ জেলায় একটি কোম্পানির শাটল বাসের কাছে রাশিয়া সরকার পরিচালিত ড্রোন আক্রমণ ঘটায় ১২ জনের মৃত্যু এবং আরও সাতজন আহত হয়েছে। আক্রমণটি কোম্পানির খনির কর্মীদের পরিবহনকারী গাড়িতে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে বলে জানা যায়।
আঞ্চলিক সামরিক প্রশাসনের প্রধান অলেকসান্দ্র গাঞ্জা টেলিগ্রামে জানিয়েছেন, ঘটনাস্থলে তদন্ত চলছে এবং বর্তমানে অঞ্চলে বায়ু সতর্কতা জারি রয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, আক্রমণের সঠিক বিবরণ এখনও সংগ্রহের প্রক্রিয়ায় রয়েছে।
ইউক্রেনের বৃহত্তম শক্তি সরবরাহকারী ডিটিইকে (DTEK) জানিয়েছে, আক্রমণকৃত গাড়িটি তাদের মাইন থেকে কর্মীদের শিফট শেষে বাড়ি ফেরার পথে ছিল। কোম্পানি এটিকে পরিকল্পিত লক্ষ্যবস্তু আক্রমণ বলে দাবি করে এবং প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী ১৫ জন কর্মীর মৃত্যু হয়েছে বলে জানায়।
সোমবার সকালে একই অঞ্চলে আরও একাধিক আক্রমণ ঘটার ফলে কমপক্ষে নয়জনের আঘাতের খবর পাওয়া যায়। এই আঘাতগুলো বিভিন্ন স্থানে ঘটেছে এবং স্থানীয় কর্মকর্তারা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কঠোর পদক্ষেপ নিচ্ছেন।
দক্ষিণের জাপোরিজহিয়া শহরে একটি মাতৃ হাসপাতালের ওপর ড্রোন আক্রমণ ঘটায় ছয়জনের আঘাত, যার মধ্যে দুইজন নারী ছিলেন যাঁরা চিকিৎসা পরীক্ষা করছিলেন। হাসপাতালের অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় জরুরি চিকিৎসা সেবা ব্যাহত হয়েছে।
একই সময়ে, খেরসন ও ড্নিপ্রো শহরে পৃথক আক্রমণে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। এই আক্রমণগুলোও রাশিয়া সরকারের সামরিক কার্যক্রমের অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে এবং স্থানীয় নিরাপত্তা বাহিনীর সতর্কতা বাড়িয়ে দিয়েছে।
এই ধারাবাহিক আক্রমণগুলো ইউক্রেনের পূর্ব ও দক্ষিণাঞ্চলে চলমান সংঘাতের তীব্রতা বাড়িয়ে তুলেছে। রাশিয়া সরকারের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে লক্ষ্যবস্তু অবকাঠামো ও জনবহুল স্থানগুলোতে আক্রমণ চালিয়ে যাওয়ায় বেসামরিক জনগণের নিরাপত্তা হুমকির মুখে রয়েছে।
আঞ্চলিক কর্তৃপক্ষের মতে, বর্তমান বায়ু সতর্কতা অব্যাহত থাকবে এবং নাগরিকদের নিরাপত্তা নির্দেশনা মেনে চলতে আহ্বান জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে, ইউক্রেনের শক্তি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলো আক্রমণের ফলে উৎপাদন ও সরবরাহে সম্ভাব্য বিঘ্নের প্রস্তুতি নিচ্ছে।
এই ঘটনাগুলো আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে, যেখানে মানবিক সহায়তা ও সংঘাতের শান্তিপূর্ণ সমাধানের আহ্বান জানানো হচ্ছে। তবে, রাশিয়া সরকারের সামরিক কৌশল ও আক্রমণের লক্ষ্য সম্পর্কে স্পষ্ট কোনো মন্তব্য এখনো পাওয়া যায়নি।



