চট্টগ্রাম বন্দর কর্মী ও কর্মচারীরা আগামীকালও ৮ ঘণ্টা কাজ বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তাদের দাবি ছিল সরকার নতুন মোরিং কন্টেইনার টার্মিনাল (NCT) কে সংযুক্ত আরব আমিরাতের DP World‑কে লিজে দেওয়া বাতিল করা, যা এখনো পূরণ হয়নি।
কর্মসূচি চালু করা হয়েছে চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের তত্ত্বাবধানে, যারা পূর্বে দু’দিনের কাজ বন্ধের পর ৪টা বিকেলে শেষ করার পরিকল্পনা করেছিল। তবে সরকার ও চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কোনো আলোচনা না হওয়ায় কর্মীরা আরেক দিন বিরতি বজায় রাখবে।
সমন্বয়ক হুমায়ূন কবিরের মতে, কর্তৃপক্ষ ও সরকার উভয়ই কর্মীদের সঙ্গে কোনো সংলাপ শুরু করেনি, বরং কয়েকজন শ্রমিক নেতাকে স্থানান্তর ও স্ট্যান্ডবাই অবস্থায় রাখা হয়েছে, যা শাস্তিমূলক পদক্ষেপের ইঙ্গিত দেয়। এই পরিস্থিতিতে কর্মীদের আরেক দিন কাজ বন্ধের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করা হয়েছে।
এদিকে, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ অতিরিক্ত সাতজন কর্মীকে পাঙ্গাওন ইনল্যান্ড কন্টেইনার টার্মিনাল (করণীগঞ্জ) এবং ঢাকা আইসিডি-তে স্থানান্তর করেছে। এই স্থানান্তরকে তারা রুটিন কাজের অংশ হিসেবে উল্লেখ করেছে।
চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের পরিচালক (প্রশাসন) মো. ওমর ফারুক একটি সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন, NCT‑এর চুক্তি স্বাক্ষরের প্রক্রিয়া সরকার পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপ অথরিটি (PPP) এর মাধ্যমে PPP নীতিমালা অনুসারে পরিচালিত হচ্ছে। বর্তমানে চুক্তি স্বাক্ষরের কোনো তথ্য প্রকাশিত হয়নি, এবং স্বাক্ষরের আগে আন্দোলন শুরু করা যুক্তিযুক্ত নয়, এ কথাও তিনি জোর দিয়ে বলেছেন।
ওমর ফারুকের মতে, কাজ বন্ধের ফলে বন্দর কার্যক্রমে প্রভাব পড়েছে। বিশেষ করে কন্টেইনার পরিবহন ও ইনল্যান্ড কন্টেইনার ডিপো (ICD) গুলোর মধ্যে সংযোগ সম্পূর্ণভাবে বন্ধ ছিল, যা আইসিডি অপারেটরদের দ্বারা নিশ্চিত করা হয়েছে।
কন্টেইনার লোডিং‑আনলোডিং, জাহাজ থেকে পণ্য তোলা ও বন্দরইয়ার্ড থেকে সরবরাহের কাজগুলো বিকেল ৪টার পর সম্পূর্ণভাবে পুনরায় শুরু হয়েছে। তবে সকাল ৮টা থেকে শুরু হওয়া দ্বিতীয় ধারাবাহিক কাজ বন্ধের সময়কালে এই কার্যক্রমে কিছু ব্যাঘাত ঘটেছিল।
বাজার বিশ্লেষকরা উল্লেখ করছেন, যদি চুক্তি স্বাক্ষর না হওয়া পর্যন্ত কাজ বন্ধের ধারাবাহিকতা বজায় থাকে, তবে বন্দর ও সংশ্লিষ্ট লজিস্টিক চেইনে অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হতে পারে। দীর্ঘমেয়াদে এই ধরনের শ্রমিক আন্দোলন বাণিজ্যিক শিপমেন্টের সময়সূচি ও খরচে প্রভাব ফেলতে পারে।
অতএব, সরকার ও চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের জন্য এখনই স্পষ্ট ও গঠনমূলক আলোচনার দরজা খুলে দেওয়া জরুরি, যাতে শ্রমিকদের দাবির যথাযথ সমাধান হয় এবং বন্দর কার্যক্রমের স্বাভাবিকতা দ্রুত ফিরে আসে।
সংক্ষেপে, চট্টগ্রাম বন্দর কর্মীদের আরেক দিন কাজ বন্ধের সিদ্ধান্ত বন্দর কার্যক্রমে সাময়িক ব্যাঘাত সৃষ্টি করেছে, তবে বিকেল ৪টার পর মূল কাজগুলো পুনরায় চালু হয়েছে। ভবিষ্যতে চুক্তি স্বাক্ষরের অগ্রগতি ও শ্রমিকদের সঙ্গে সংলাপের ফলাফল বন্দর ও দেশের বাণিজ্যিক পরিবহন খাতের স্থিতিশীলতায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।



