ইরানের রাজধানী তেহরানে গতকাল মেহদি মাহমুদিয়ানকে গৃহধরা করা হয়েছে। তিনি জাফার পনাহিরের ‘ইট ওজাস্ট অ্যান এক্সিডেন্ট’ ছবির সহ-লেখক এবং অস্কার প্রার্থী। গৃহধরনের কারণ হিসেবে তিনি সাম্প্রতিক সরকারী প্রতিবাদে নিরাপত্তা বাহিনীর কঠোর দমনকে নিন্দা করা একটি চিঠিতে স্বাক্ষর করা উল্লেখ করা হয়েছে।
মেহদি মাহমুদিয়ানের সঙ্গে দুইজন অন্য স্বাক্ষরকারী, ভিদা রাব্বানি ও আবদুল্লাহ মোমেনি, একই সময়ে আটক হয়েছেন। মোট ১৭ জনের একটি দল এই চিঠি স্বাক্ষর করেছে, যার মধ্যে পনাহির নিজেও অন্তর্ভুক্ত, যিনি বর্তমানে ছবিটি প্রচারের জন্য বিদেশে আছেন।
স্বাক্ষরকারীদের তালিকায় নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী নারগেস মোহাম্মাদি এবং মানবাধিকার কর্মী নাসরিন সতোদেহও রয়েছেন। এছাড়া ২০২৫ সালের অস্কার প্রার্থী ‘দ্য সিড অফ দ্য স্যাক্রেড ফিগ’ ছবির পরিচালক মোহাম্মদ রাসুলফ, যিনি জার্মানিতে নির্বাসনে আছেন, তাও এই চিঠিতে নাম যুক্ত করেছেন।
ইরানের নিরাপত্তা সংস্থা এখনও গৃহধরনের আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ দেয়নি এবং আটকদের বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করেনি। তাই বর্তমান সময়ে এই বিষয়টি সম্পর্কে সরকারী দৃষ্টিভঙ্গি অজানা রয়ে গেছে।
চিঠিতে স্বাক্ষরকারীরা আলি খামেনি, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা,কে দেশের নাগরিকদের ব্যাপক ও পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডের দায়ী হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। তারা উল্লেখ করেন যে, সাম্প্রতিক মাসে সরকারী প্রতিবাদে নিরাপত্তা বাহিনীর হিংসাত্মক পদক্ষেপে অসংখ্য মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন।
ইরানি সরকার এই দমনকালে ৩,০০০ এর বেশি মৃত্যুর সংখ্যা স্বীকার করেছে, তবে মানবাধিকার সংস্থাগুলি এই সংখ্যাকে দশ হাজারের উপরে অনুমান করে। উভয় দৃষ্টিকোণই দেশের রাজনৈতিক পরিবেশের তীব্রতা ও মানবিক ব্যয়ের ব্যাপকতা প্রকাশ করে।
‘ইট ওজাস্ট অ্যান এক্সিডেন্ট’ ছবিটি পনাহিরের জেল থেকে মুক্তির পর প্রথম কাজ, যা তাকে “প্রচার” অভিযোগে জেল থেকে বের করে আনার পর তৈরি হয়েছে। ছবিটি গত বছর ক্যান্সে চলচ্চিত্র উৎসবে পার্লে ডি’অর জয় করে এবং অস্কারের সর্বোত্তম মূল স্ক্রিপ্ট ও সর্বোত্তম আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র বিভাগে মনোনয়ন পেয়েছে।
ফিল্মের কাহিনী একটি প্রাক্তন রাজনৈতিক বন্দীর উপর ভিত্তি করে, যিনি কারাবাসে শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়ে নিজের শিকারের বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নেওয়ার কথা ভাবেন। এই থিমটি ইরানের রাজনৈতিক দমন ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের সমালোচনামূলক দৃষ্টিভঙ্গি উপস্থাপন করে।
মেহদি মাহমুদিয়ান, নাদার সাইইভার এবং শ… সহ-লেখকরা ছবির স্ক্রিপ্টে রাজনৈতিক দমনকে শিল্পের মাধ্যমে প্রকাশের চেষ্টা করেছেন। তাদের কাজের ফলে ইরানের সৃজনশীল সম্প্রদায়ের উপর বাড়তে থাকা চাপের প্রতিফলন দেখা যায়।
অধিকন্তু, চিঠিতে স্বাক্ষর করা অন্যান্য বুদ্ধিজীবী ও মানবাধিকার কর্মীরাও একই সময়ে নজরে আসছেন। তাদের গৃহধরনের ফলে ইরানের বৌদ্ধিক ও সাংস্কৃতিক স্বায়ত্তশাসনের ওপর নতুন প্রশ্ন উত্থাপিত হয়েছে।
এই ঘটনার পর আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র সম্প্রদায় এবং মানবাধিকার সংগঠনগুলো থেকে উদ্বেগের স্রোত প্রবাহিত হয়েছে। তবে ইরানের অভ্যন্তরে এই ধরনের দমনমূলক পদক্ষেপের প্রতি জনমতের প্রতিক্রিয়া এখনও স্পষ্ট নয়।
সারসংক্ষেপে, মেহদি মাহমুদিয়ান এবং তার সহ-স্বাক্ষরকারীদের গৃহধরন ইরানের রাজনৈতিক দমন, মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং শিল্পের স্বাধীনতা নিয়ে চলমান বিতর্ককে তীব্রতর করেছে। ভবিষ্যতে এই বিষয়টি কীভাবে সমাধান হবে তা আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের দৃষ্টিতে রয়ে গেছে।



