18 C
Dhaka
Monday, February 2, 2026
Google search engine
Homeব্যবসাবাংলাদেশ সরকার নির্বাচনের আগে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে শুল্ক চুক্তি সম্পন্নের প্রস্তুতি

বাংলাদেশ সরকার নির্বাচনের আগে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে শুল্ক চুক্তি সম্পন্নের প্রস্তুতি

বাংলাদেশ সরকার নির্বাচনের তিন দিন পূর্বে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে শুল্ক চুক্তি স্বাক্ষরের পরিকল্পনা জানিয়েছে। বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন ও বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমান ৫ ফেব্রুয়ারি ঢাকা থেকে রওনা হয়ে প্রথমে জাপান গন্তব্যে রওনা হবেন।

মন্তব্যকৃত দুই কর্মকর্তা টোকিওতে ৬ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ‑জাপান অর্থনৈতিক অংশীদারি চুক্তি (বিজেইপিএ) স্বাক্ষরের পর সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটনে অগ্রসর হবেন। এভাবে দুই দিনের মধ্যে দু’টি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক চুক্তি সম্পন্ন করার লক্ষ্য সরকার নির্ধারণ করেছে।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সূত্রে জানা যায়, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষরের নির্দিষ্ট তারিখ ৯ ফেব্রুয়ারি নির্ধারিত হয়েছে। চুক্তির খসড়া ও অনুমোদনের জন্য প্রয়োজনীয় সারসংক্ষেপ ইতিমধ্যে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে পাঠানো হয়েছে।

শুল্কের হার সম্পর্কে মন্ত্রণালয়ের সচিবালয় ২০ শতাংশের একটি প্রাথমিক কাঠামো উল্লেখ করেছেন। কিছু দেশের সঙ্গে একই হার প্রযোজ্য, অন্যদিকে কিছু দেশে তা থেকে বেশি হতে পারে; তবে ৯ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চূড়ান্ত হার নির্ধারণের সম্ভাবনা এখনও অনিশ্চিত রয়ে গেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তি সম্পর্কে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় জাপানের সঙ্গে স্বাক্ষরিত বিজেইপিএর বিশদ জানিয়েছে, যার ফলে স্বাক্ষরের পরপরই ৭,৩৭৯টি বাংলাদেশি পণ্য জাপানের বাজারে শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার পাবে। একই সঙ্গে জাপানের ১,০৩৯টি পণ্য বাংলাদেশি বাজারে তাৎক্ষণিক শুল্কমুক্ত সুবিধা পাবে।

ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও ভারতের মধ্যে সম্প্রতি স্বাক্ষরিত মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) নিয়ে বাংলাদেশ সরকার কোনো উদ্বেগ প্রকাশ করেনি। গার্মেন্টস সেক্টরে অর্জিত সক্ষমতা ও বিশ্ববাজারে দ্বিতীয় বৃহত্তম রপ্তানিকারক অবস্থানকে ভিত্তি করে সরকার নিশ্চিত করেছে যে এই চুক্তি দেশের রপ্তানি প্রবাহে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে না।

বাণিজ্য সচিবের মতে, ভারত বস্ত্র শিল্পে শক্তিশালী অবস্থান রাখে এবং বাংলাদেশ তার কাঁচামালের একটি বড় অংশ ভারত থেকে আমদানি করে। এই পারস্পরিক নির্ভরতা দু’দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ককে স্থিতিশীল রাখবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

শুল্ক চুক্তি সম্পন্ন হলে রপ্তানি-নির্ভর শিল্পগুলো বিশেষভাবে উপকৃত হবে; বিশেষত গার্মেন্টস, জুতাপাতা ও হস্তশিল্পের রপ্তানি মূল্য বৃদ্ধি পেতে পারে। তবে শুল্কের চূড়ান্ত হার যদি প্রত্যাশিতের চেয়ে বেশি থাকে, তবে রপ্তানিকারকদের লাভের মার্জিন সংকুচিত হতে পারে এবং বাজারে প্রতিযোগিতামূলক চাপ বাড়তে পারে।

সারসংক্ষেপে, বাংলাদেশ সরকার নির্বাচনের পূর্বে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে শুল্ক চুক্তি চূড়ান্ত করার জন্য ত্বরিত পদক্ষেপ নিচ্ছে, একই সঙ্গে জাপানের সঙ্গে বিজেইপিএ স্বাক্ষর করে দু’দিকের বাণিজ্যিক প্রবেশাধিকার সম্প্রসারিত করেছে। এই দুই চুক্তি দেশের রপ্তানি কাঠামোকে শক্তিশালী করার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাণিজ্য নেটওয়ার্কে বাংলাদেশের অবস্থানকে আরও দৃঢ় করবে।

ভবিষ্যৎ দৃষ্টিতে, শুল্ক হার নির্ধারণের চূড়ান্ত ফলাফল এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তির বাস্তবায়ন সময়সূচি দেশের বাণিজ্যিক পরিবেশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। সরকার যদি প্রত্যাশিত শর্তে চুক্তি সম্পন্ন করতে পারে, তবে রপ্তানি শিল্পে ইতিবাচক প্রবাহের সম্ভাবনা বাড়বে; অন্যথায়, বাজারের অস্থিরতা ও মুনাফার হ্রাসের ঝুঁকি দেখা দিতে পারে।

৯২/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: প্রথম আলো
ব্যবসা প্রতিবেদক
ব্যবসা প্রতিবেদক
AI-powered ব্যবসা content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments