18 C
Dhaka
Monday, February 2, 2026
Google search engine
Homeঅপরাধচানখাঁরপুল হত্যাকাণ্ডে কম সাজাপ্রাপ্ত পুলিশদের আপিল শূন্যে, কারাবন্দি অব্যাহত

চানখাঁরপুল হত্যাকাণ্ডে কম সাজাপ্রাপ্ত পুলিশদের আপিল শূন্যে, কারাবন্দি অব্যাহত

সপ্তাহান্তে আপিল বিভাগে একটি আদেশ জারি করা হয়, যার মাধ্যমে চানখাঁরপুলে ছয়জন ছাত্রের হত্যায় কম সাজাপ্রাপ্ত পাঁচজন পুলিশ সদস্যের আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত তাদের মুক্তি না দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। একই সঙ্গে কনস্টেবল মো. সুজন মিয়ার তিন বছরের কারাদণ্ডের পর্যবেক্ষণ স্থগিত করা হয়।

এই আদেশটি রবিবার বিচারপতি মো. রেজাউল হকের চেম্বার আদালতে শোনানো হয়, এবং চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

ঘটনাটি ঘটেছিল ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট, যখন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ ছাত্র জনতার বৃহৎ গণঅভ্যুত্থানের অংশ হিসেবে চাঁখাঁরপুলে শৃঙ্খলা রক্ষার নামে গুলি চালায়। গুলিবর্ষণে ছয়জন ছাত্রের প্রাণ নেওয়া হয় এবং বহু মানুষ আহত হয়।

মৃত্যুপ্রাপ্ত ছাত্রদের নাম হল শাঁরিয়ার খান আনাস, শেখ মাহদী হাসান জুনায়েদ, মো. ইয়াকুব, মো. রাকিব হাওলাদার, মো. ইসমামুল হক এবং মানিক মিয়া শাহরিক। তাদের পরিবার ও সমবেত ছাত্রগণ এই হত্যাকাণ্ডকে মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে গণ্য করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মামলা দায়ের করে।

বিচারিকালীন প্রক্রিয়া ২৬ জানুয়ারি ২০২৫-এ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল‑১ (আইসিটি‑১) এর রায়ে সমাপ্ত হয়। রায়ে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমান, সাবেক যুগ্ম কমিশনার সুদীপ কুমার চক্রবর্তী ও রমনা অঞ্চলের সাবেক অতিরিক্ত উপকমিশনার (এডিসি) শাহ আলম মো. আখতারুল ইসলামকে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করা হয়।

অন্যদিকে, সাবেক সহকারী কমিশনার মোহাম্মদ ইমরুলকে ছয় বছরের কারাদণ্ড, শাহবাগ থানার সাবেক ওসি (অপারেশন) মো. আরশেদ হোসেনকে চার বছরের কারাদণ্ড, এবং কনস্টেবল মো. সুজন মিয়া, মো. ইমাজ হোসেন ইমন ও মো. নাসিরুল ইসলামকে প্রত্যেকে তিন বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

প্রসিকিউশন দলকে নেতৃত্ব দেন চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম, যাঁর সঙ্গে প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম, গাজী এমএইচ তামীম, সহিদুল ইসলাম ও আবদুল্লাহ আল নোমানসহ অন্যান্য প্রসিকিউটর ছিলেন।

প্রতিরক্ষা পক্ষ থেকে কনস্টেবল ইমাজ হোসেন ইমনকে আইনজীবী মো. জিয়াউর রশিদ প্রতিনিধিত্ব করেন, আর পলাতক চারজনের পক্ষে রাষ্ট্র নিযুক্ত আইনজীবী কুতুবউদ্দিন আহমেদ উপস্থিত ছিলেন।

বিচারফলাফলের পর কম সাজাপ্রাপ্ত পাঁচজন পুলিশ সদস্য তাদের শাস্তি বাড়ানোর জন্য আপিল দায়ের করেন। আপিলের বিষয়বস্তুতে শাস্তি হ্রাসের সম্ভাবনা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের গুরত্ব পুনর্বিবেচনা করা হয়। তবে আপিল বিভাগ এখনো চূড়ান্ত রায় দেয়নি, ফলে আদালতের আদেশ অনুযায়ী তারা কারাবন্দি অবস্থায় রয়েছেন।

কনস্টেবল মো. সুজন মিয়ার তিন বছরের শাস্তির পর্যবেক্ষণ স্থগিত করার সিদ্ধান্তও একই আদেশে অন্তর্ভুক্ত। এর ফলে তার শাস্তি কার্যকর হওয়া পর্যন্ত আপিলের ফলাফল অপেক্ষা করতে হবে।

এই রায়টি নির্দেশ করে যে, মানবতাবিরোধী অপরাধের ক্ষেত্রে উচ্চতর আদালত পর্যন্ত দোষী কর্মকর্তাদের মুক্তি না দিয়ে কারাবন্দি অবস্থায় রাখার গুরুত্বকে জোর দেয়। আদালত এই ধরনের অপরাধের জন্য কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে আপিল প্রক্রিয়াকে দ্রুততর করার ইঙ্গিত দিয়েছে।

প্রসিকিউশন দল ভবিষ্যৎ শুনানির জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে এবং আপিল সংক্রান্ত সকল আইনি প্রশ্নের সমাধানের জন্য আদালতে উপস্থিত থাকবে। পরবর্তী শুনানি নির্ধারিত হয়েছে, যেখানে আপিলের মূল বিষয়গুলো পুনরায় আলোচনা হবে।

চানখাঁরপুলের এই হত্যাকাণ্ড দেশের নিরাপত্তা ও মানবাধিকার সংক্রান্ত আলোচনার কেন্দ্রে রয়ে গেছে, এবং আদালতের আপিল সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত শেষ পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তাদের জন্য চূড়ান্ত দায়িত্ব নির্ধারণ করবে।

৬৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিডি প্রতিদিন
অপরাধ প্রতিবেদক
অপরাধ প্রতিবেদক
AI-powered অপরাধ content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments