বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বোর্ড ১৪টি নতুন বিমান কেনার অনুমোদন প্রদান করেছে, যার মধ্যে রয়েছে আটটি ৭৮৭‑১০ ড্রিমলাইনার, দুইটি ৭৮৭‑৯ ড্রিমলাইনার এবং চারটি ৭৩৭‑৮ ম্যাক্স। এই সিদ্ধান্তটি দেশের এভিয়েশন সক্ষমতা বাড়ানো এবং আন্তর্জাতিক সংযোগ শক্তিশালী করার লক্ষ্য নিয়ে নেওয়া হয়েছে।
বছরের শেষের দিকে, ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত বার্ষিক সাধারণ সভায় (এজিএম) এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তটি গৃহীত হয়। সভার সভাপতিত্ব করেন সিভিল এভিয়েশন ও পর্যটন উপদেষ্টা ও বোর্ডের চেয়ারম্যান শেখ বশির উদ্দিন, যিনি বহরের সম্প্রসারণ ও আধুনিকায়নের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছিলেন।
বিমান পরিচালনা বিভাগের প্রধান জনসংযোগ কর্মকর্তা বসরা ইসলাম ১ জানুয়ারি জানিয়ে বলেন, বোর্ড নীতিগতভাবে ১৪টি বোয়িং বিমান কেনার প্রস্তাব অনুমোদন করেছে। তবে চূড়ান্ত ক্রয়মূল্য এবং শর্তাবলী নিয়ে টেকনো‑ফাইন্যান্স কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী বোয়িংয়ের সঙ্গে আলোচনার পরই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
অনুমোদিত ১৪টি বিমানের বিশদে রয়েছে আটটি ৭৮৭‑১০ ড্রিমলাইনার, যা দীর্ঘ দূরত্বের আন্তর্জাতিক রুটের জন্য উপযুক্ত বড় আকারের (ওয়াইড বডি) জেট। এছাড়া দুইটি ৭৮৭‑৯ ড্রিমলাইনার এবং চারটি ৭৩৭‑৮ ম্যাক্স, যা মাঝারি আকারের (ন্যারো বডি) বিমান এবং প্রধানত আঞ্চলিক ও অভ্যন্তরীণ রুটে ব্যবহার হয়।
এই ক্রয়ের পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য ঘাটতি কমানোর একটি কৌশলগত পদক্ষেপও রয়েছে। বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার পূর্বে বোয়িং থেকে বিমান ক্রয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে থাকে, যা এই সিদ্ধান্তের ভিত্তি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিমান কর্তৃপক্ষের মতে, নতুন বিমানগুলো যুক্ত হলে দেশের এভিয়েশন ক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে, আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের সংখ্যা বাড়বে এবং ভবিষ্যতে যাত্রী ও পণ্য পরিবহনের চাহিদা মেটাতে সক্ষম হবে। এভাবে বিমান সংস্থার বাণিজ্যিক ও রাষ্ট্রিক উভয় ক্ষেত্রেই কার্যক্রমের পরিসর বিস্তৃত হবে।
প্রয়োজনীয় অনুমোদন ও আর্থিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর বোয়িংয়ের সঙ্গে চূড়ান্ত চুক্তি স্বাক্ষর করা হবে। চুক্তি সম্পন্ন হলে বিমানগুলো পর্যায়ক্রমে বাংলাদেশে পৌঁছাবে, যা ফ্লিটের আধুনিকায়ন প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করবে।
বোয়িং ৭৮৭ ড্রিমলাইনারকে দীর্ঘ দূরত্বের আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের জন্য ডিজাইন করা হয়েছে; এর প্রশস্ত কেবিন ও উন্নত জ্বালানি দক্ষতা আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতামূলক সুবিধা প্রদান করে। এই ধরনের বিমান যুক্ত হলে ঢাকা-লন্ডন, ঢাকা-ডালাস ইত্যাদি দীর্ঘমেয়াদী রুটে সরাসরি সেবা চালু করার সম্ভাবনা বাড়বে।
অন্যদিকে, ৭৩৭‑৮ ম্যাক্স বিমানটি ন্যারো বডি ক্যাটেগরির, যা দেশীয় ও আঞ্চলিক রুটে উচ্চ ঘনত্বের সেবা প্রদান করতে সক্ষম। এই বিমানগুলো ব্যবহার করে বর্তমানের ঘনবসতিপূর্ণ রুটে ফ্রিকোয়েন্সি বাড়ানো এবং নতুন শহরে সংযোগ স্থাপন করা সম্ভব হবে।
ফ্লিটের এই সম্প্রসারণের ফলে বিমান সংস্থার অপারেশনাল ক্ষমতা এবং রুট নেটওয়ার্ক বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে। অতিরিক্ত ক্যাপাসিটি নতুন গন্তব্যে ফ্লাইট চালু করা, বিদ্যমান রুটে ফ্রিকোয়েন্সি বাড়ানো এবং পণ্য পরিবহনের পরিমাণ বাড়ানোর সুযোগ দেবে।
বোসরা ইসলাম উল্লেখ করেন, এই পদক্ষেপটি বিমান বহরের আধুনিকায়নের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক এবং আন্তর্জাতিক আকাশপথে বাংলাদেশের সংযোগ শক্তিশালী করার পাশাপাশি যাত্রী ও পণ্য উভয় ক্ষেত্রেই সুবিধা প্রদান করবে। ভবিষ্যতে এই নতুন বিমানগুলো দেশের এভিয়েশন শিল্পকে আরও প্রতিযোগিতামূলক করে তুলবে এবং আঞ্চলিক হাব হিসেবে বাংলাদেশের অবস্থানকে সুদৃঢ় করবে।



