রংপুর-১ এবং কুড়িগ্রাম-২ নির্বাচনী এলাকার জোটিয়া পার্টির দুই প্রার্থীকে আসন্ন ১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য দাখিল করা মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। রংপুর-১-এ গাঙ্গাচারা ও রংপুর সিটি কর্পোরেশনের কিছু অংশ, আর কুড়িগ্রাম-২-এ কুড়িগ্রাম সদর, রাজারহাট ও ফুলবাড়ি অন্তর্ভুক্ত। বাতিলের কারণ উভয় ক্ষেত্রেই প্রার্থীর তথ্যের অসম্পূর্ণতা বা গোপনীয়তা লঙ্ঘন।
রংপুর-১ নির্বাচনী এলাকায় জোটিয়া পার্টির প্রার্থী ব্যারিস্টার মনজুম আলীর মনোনয়নপত্র পর্যালোচনায় বাতিল করা হয়েছে। পর্যালোচনায় দেখা যায়, তার দ্বৈত নাগরিকত্ব সংক্রান্ত তথ্য সম্পূর্ণভাবে উল্লেখ করা হয়নি। বিশেষ করে, যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব অর্জনের তারিখের ঘরটি চিহ্নিত করা হয়নি, যা নির্বাচন কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী গুরুত্বপূর্ণ।
দ্বৈত নাগরিকত্বের তথ্যের এই ঘাটতি নির্বাচন কমিশনের নির্ধারিত শর্ত পূরণে ব্যর্থতা হিসেবে গণ্য হয়েছে। রংপুর জেলা রিটার্নিং অফিসার ও ডেপুটি কমিশনার এনামুল আহসান এই সিদ্ধান্তের পক্ষে মত প্রকাশ করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন, প্রার্থীর তথ্যের সঠিকতা নিশ্চিত না হলে মনোনয়ন স্বীকৃত করা যায় না।
মনজুম আলি এই বাতিলকে “ছোটখাটো ত্রুটি” বলে উল্লেখ করে, ত্রুটিটি দ্রুত সংশোধনের সুযোগ না দেওয়ার অভিযোগ তোলেন। তিনি বলেন, নাগরিকত্বের তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে, তবে তারিখের ঘরটি টিক চিহ্নিত করা হয়নি; তাই তাৎক্ষণিক সংশোধনের ব্যবস্থা করা উচিত ছিল।
বাতিলের পর মনজুম আলি উচ্চ আদালতে আপিল করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, সংশোধনযোগ্য ত্রুটি হওয়ায় আইনি পথে সমাধান চাওয়া হবে এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা রক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হবে।
কুড়িগ্রাম-২ নির্বাচনী এলাকায় জোটিয়া পার্টির প্রাক্তন সংসদ সদস্য প্যানির উদ্দিন আহমেদের মনোনয়নপত্রও বাতিল করা হয়েছে। বাতিলের কারণ হিসেবে তার আত্মপ্রকাশে একটি মামলার তথ্য গোপন রাখা পাওয়া গেছে।
অ্যাসিস্ট্যান্ট কমিশনার আবু বকর সিদ্দিকি জানান, প্যানির আত্মপ্রকাশে মিরপুর, ঢাকা-তে দায়ের একটি মামলার তথ্য উল্লেখ করা হয়নি, যা নির্বাচন সংক্রান্ত নীতিমালার লঙ্ঘন। এই তথ্যের গোপনীয়তা মনোনয়নকে অযোগ্য করে তুলেছে।
প্যানির উদ্দিন আহমেদ দাবি করেন, তিনি ওই মামলার বিষয়ে অজ্ঞ ছিলেন এবং তাই আত্মপ্রকাশে তা উল্লেখ করতে পারেননি। তিনি বলেন, যদি জানতাম তবে তা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করতাম।
বাতিলের পর প্যানির উদ্দিন আহমেদ সংশ্লিষ্ট নথিপত্র সংগ্রহ করে উচ্চ আদালতে আপিল করার পরিকল্পনা জানিয়েছেন। তিনি দাবি করেন, আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করা হবে এবং প্রয়োজন হলে পুনরায় মনোনয়ন পেতে চেষ্টা করবেন।
এই দুইটি বাতিল জোটিয়া পার্টির নির্বাচনী কৌশলে বড় প্রভাব ফেলতে পারে। রংপুর ও কুড়িগ্রাম দুইটি গুরুত্বপূর্ণ জেলায় প্রার্থীর অনুপস্থিতি পার্টির ভোটভিত্তি ও জোট গঠনে বাধা সৃষ্টি করতে পারে। পার্টি এখন বিকল্প প্রার্থী নির্বাচন বা আইনি চ্যালেঞ্জের মাধ্যমে প্রভাব কমানোর চেষ্টা করবে।
বাতিলের সিদ্ধান্তের পর উভয় প্রার্থীই উচ্চ আদালতে আপিলের ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন, যা নির্বাচনী প্রক্রিয়ার আইনি দিককে আবার উন্মোচিত করবে। আদালতের রায়ের ওপর নির্ভর করে পার্টি নতুন প্রার্থী দায়ের করতে পারে অথবা বাতিলকৃত মনোনয়ন পুনর্বিবেচনা করা হতে পারে।
সংক্ষেপে, রংপুর-১ ও কুড়িগ্রাম-২ নির্বাচনী এলাকায় জোটিয়া পার্টির দুই প্রার্থীর মনোনয়ন তথ্যের অসম্পূর্ণতা ও গোপনীয়তার কারণে বাতিল হয়েছে। উভয় প্রার্থীই আইনি পথে আপিলের প্রস্তুতি নিচ্ছেন, আর পার্টি নির্বাচনী কৌশল পুনর্বিবেচনা করে আসন্ন ১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি চালিয়ে যাবে।



