ইন্টারন্যাশনাল ফেডারেশন অব জার্নালিস্টস (আইএফজে) বৃহস্পতিবার প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে বিশ্বজুড়ে মোট ১২৮ জন সাংবাদিক প্রাণ হারিয়েছেন। এ সংখ্যার অর্ধেকেরও বেশি মৃত্যু মধ্যপ্রাচ্যের সংঘর্ষে ঘটেছে, যা অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতির তীব্রতা নির্দেশ করে।
আইএফজে মহাসচিব অ্যান্থনি বেলাঞ্জার উল্লেখ করেছেন, গত বছর তুলনায় এই মৃত্যুর সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে এবং এটি কেবল একটি পরিসংখ্যান নয়, বরং সাংবাদিকদের জন্য একটি বৈশ্বিক সতর্ক সংকেত। তিনি জোর দিয়ে বলেছেন যে, এই ধারা অব্যাহত থাকলে স্বাধীন ও নিরপেক্ষ সংবাদ পরিবেশের ভিত্তি ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে চলমান যুদ্ধের ফলে ২০২৫ সালে মাত্র এক বছরেই ৫৬ জন গণমাধ্যম কর্মী নিহত হয়েছে, যা আইএফজে নথিভুক্ত করেছে। বেলাঞ্জার এ বিষয়ে মন্তব্য করে বলেন, এত ছোট ভৌগোলিক এলাকায় এত কম সময়ে এত বড় ক্ষতি আগে কখনও দেখা যায়নি। এই ঘটনার ফলে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোও পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ বাড়িয়ে দিয়েছে।
ইয়েমেন, ইউক্রেন, সুদান, পেরু, ভারতসহ অন্যান্য দেশেও সাংবাদিকের মৃত্যু ঘটেছে। এই দেশগুলোতে চলমান সশস্ত্র সংঘর্ষ, রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং সামাজিক অশান্তি মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। প্রতিটি ক্ষেত্রে মিডিয়া কর্মীরা ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশে কাজ করে, যা তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে।
আইএফজে উল্লেখ করেছে যে, এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে দায়িত্বশীলদের অপরাধমুক্তি একটি গুরুতর সমস্যা। বেলাঞ্জার নিন্দা জানিয়ে বলেছেন, ন্যায়বিচার না হলে হত্যাকারীরা আরও আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে কাজ করবে, যা সাংবাদিকদের ওপর হুমকি বাড়িয়ে দেবে। তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে আহ্বান জানিয়েছেন, অপরাধীদের দ্রুত বিচারের মাধ্যমে অপরাধমূলক প্রবণতা রোধ করতে।
বিশ্বব্যাপী বর্তমানে ৫৩৩ জন সাংবাদিক কারাগারে রয়েছেন, যা পাঁচ বছর আগে তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। এই সংখ্যা পূর্বের অর্ধ-দশকের তুলনায় উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি পেয়েছে, যা সাংবাদিকদের নিরাপত্তা ও স্বাধীনতার ওপর চাপ বাড়িয়ে দিয়েছে। আইএফজে এই তথ্যের সঙ্গে যুক্ত করেছে যে, এই বছরের তালিকায় নয়টি দুর্ঘটনাজনিত মৃত্যুও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
আইএফজে এবং রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডার্সের গণনা পদ্ধতিতে পার্থক্য রয়েছে; আইএফজে সাধারণত বেশি সংখ্যক মৃত্যু রেকর্ড করে। এই পার্থক্যের মূল কারণ হল তথ্য সংগ্রহের পদ্ধতি এবং সংজ্ঞায়িত মানদণ্ডের ভিন্নতা। তবুও উভয় সংস্থাই সাংবাদিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টা বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা একমত।
এই পরিসংখ্যানগুলো আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জন্য এক সতর্কতা, যা মিডিয়া স্বাধীনতা রক্ষার জন্য নীতি নির্ধারণ, আইনি কাঠামো শক্তিশালীকরণ এবং সুরক্ষা ব্যবস্থা উন্নত করার আহ্বান জানায়। বিশেষ করে সংঘর্ষপূর্ণ অঞ্চলে সাংবাদিকদের সুরক্ষার জন্য তৎপরতা এবং সমন্বিত পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
সারসংক্ষেপে, ২০২৫ সালে সাংবাদিকের মৃত্যুর সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে, যার অধিকাংশ মধ্যপ্রাচ্যে ঘটেছে এবং অন্যান্য সংঘর্ষপূর্ণ দেশে ছড়িয়ে রয়েছে। আইএফজে এই পরিস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক সতর্কতা জারি করেছে এবং অপরাধমুক্তি রোধে ত্বরিত ন্যায়বিচার দাবি করেছে। একই সঙ্গে, সাংবাদিকদের কারাগারে থাকার সংখ্যা দ্বিগুণের বেশি হওয়ায়, মিডিয়া কর্মীদের সুরক্ষা ও স্বাধীনতা নিশ্চিত করার জন্য গ্লোবাল উদ্যোগের জরুরি প্রয়োজনীয়তা পুনর্ব্যক্ত হয়েছে।



