শুক্রবার সন্ধ্যায় সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত টি২০ ম্যাচে সিলেট টাইটান্স, ঢাকা ক্যাপিটালসকে ছয় রানে পরাজিত করে। শামিম হোসেনের একক ৮১ রান সত্ত্বেও শেষ ডেলিভারিতে সাত রানের প্রয়োজন পূরণ করতে না পারায় দলটি সুপার ওভারের সুযোগ হারায়।
সিলেটের নতুন বিদেশি খেলোয়াড় আজমাতুল্লাহ ওমারজাই, বাংলাদেশে পৌঁছানোর একদিনের কম সময়ে দলকে শক্তিশালী করে তোলেন। তার দ্রুত প্রভাবের ফলে টাইটান্সের স্কোর দ্রুত বাড়ে, যদিও শুরুর দিকে দলটি কিছুটা ধীরগতি দেখায়।
প্রথম ১৪ ওভারে সাইল আয়ুবের ৩৪ ball-এ ২৯ রান, এবং মেহেদি হাসান মিরাজের তৃতীয় ব্যাটিং অবস্থানে মাত্র ৬ রান, টাসকিন আহমেদের সংক্ষিপ্ত ডেলিভারিতে শেষ হয়। এ সময় ঢাকা বোলাররা গেমের গতি নিয়ন্ত্রণে রাখে।
সিলেটের চতুর্থ ব্যাটসম্যান পারভেজ হোসেন এমন ৩২ ball-এ ৪৪ রান গড়ে তোলেন। এমন সাইফ হাসানের হাতে আউট হওয়ার পর সিলেট ১৪ ওভারে ৯৩/৪ স্কোরে পৌঁছায়, যা মাঝখানে কিছুটা চাপের সৃষ্টি করে।
ওমারজাই দ্রুতই গেমের ভারসাম্য ফিরিয়ে আনেন। টাসকিনের ওপর তিনটি ফোরের মাধ্যমে তিনি আক্রমণাত্মক রূপ নেন এবং ২৪ ball-এ পাঁচটি ফোর ও তিনটি সিক্সের সঙ্গে অর্ধশতক পূরণ করেন। শেষ পাঁচ ওভারে সিলেট অতিরিক্ত ৭৪ রান যোগিয়ে ১৭৩/৫ স্কোরে পৌঁছায়।
ঢাকার জবাবের সময় ওমারজাই আবারও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। তিনি সাইফ হাসানকে ৯ রানে এবং ক্যাপিটালসের ক্যাপ্টেন মোহাম্মদ মিথুনকে শূন্যে আউট করেন। এছাড়া মোহাম্মদ আমির ও নাসুম আহমেদও গুরুত্বপূর্ণ উইকেট নেন; নাসুম আহমেদ উসমান খানকে ১৫ ball-এ ২১ রান করে আউট করেন।
শামিম হোসেন, যিনি টিমের ছয় নম্বর ব্যাটসম্যান, সপ্তম ওভারে ঢাকার ৪৩/৫ স্কোরে প্রবেশ করেন। তিনি মিরাজ ও আয়ুবের ডেলিভারিতে কিছু সীমিত বাউন্ডারি মারেন, তবে দলের সামগ্রিক গতি ত্বরান্বিত করতে পারেন না।
ঢাকার অন্যান্য ব্যাটসম্যানের অবদান সীমিত ছিল। সাব্বির রহমান ১৯ ball-এ ২৩ রান, ইমাদ ওয়াসিম ৮ রান এবং মোহাম্মদ সাইফুদ্দিন কোনো রান না করে আউট হন, ফলে দল ১১৮/৮ স্কোরে আটকে যায়।
শামিমের শেষের দিকে আক্রমণাত্মক খেলা দলকে কিছুটা পুনরুজ্জীবিত করে। তিনি খালেদ আহমেদের ওভারে ১১ রান সংগ্রহ করেন, এরপর ওমারজাইয়ের ১৯তম ওভারে ছয় এবং দুইটি ফোরের মাধ্যমে অতিরিক্ত ১৮ রান যোগান। তবে শেষের মুহূর্তে প্রয়োজনীয় রানের ঘাটতি পূরণ না হওয়ায় সিলেট টাইটান্সের জয় নিশ্চিত হয়।
এই জয় সিলেটের জন্য গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি দলকে টেবিলে উপরে উঠিয়ে দেয় এবং পরবর্তী ম্যাচের জন্য আত্মবিশ্বাস জোগায়। ঢাকা ক্যাপিটালসের জন্য এই পরাজয় তাদের শীর্ষস্থান থেকে নিচে নামিয়ে দেয়, যা পরবর্তী গেমে পুনরুদ্ধার প্রয়োজনীয়তা নির্দেশ করে।



