২০২৬ সালে বিশ্বব্যাপী ৪২টি দেশে ভোটের সময়সূচি নির্ধারিত হয়েছে, যার মাধ্যমে প্রায় ১৬০ কোটি মানুষের শাসনব্যবস্থা গঠিত হবে। এ বছরের নির্বাচনের মধ্যে বাংলাদেশে ১২ ফেব্রুয়ারি সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে, যা দেশের রাজনৈতিক দিগন্তে নতুন মোড় আনবে।
গত কয়েক বছরে জেন‑জি আন্দোলনের প্রভাবের ফলে বহু দেশে শাসকবৃন্দের পদত্যাগ ঘটেছে। এই প্রবণতা থেকে দেখা যায়, আধুনিক বিশ্বে ক্ষমতার পরিবর্তনের অন্যতম প্রধান উপায় এখন নির্বাচনের মাধ্যমে হবে। বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, এই নির্বাচনের ফলাফল দেশীয় নীতি, অর্থনৈতিক কৌশল, আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং আন্তর্জাতিক জোটে গভীর প্রভাব ফেলবে।
মিয়ানমারে ১১ জানুয়ারি দ্বিতীয় ধাপের সাধারণ নির্বাচন এবং ২৫ জানুয়ারি তৃতীয় ধাপের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। দেশের প্রথম ধাপের ভোট ইতিমধ্যে ২৮ ডিসেম্বর সম্পন্ন হয়েছে।
উগান্ডায় চলতি মাসের ১৫ তারিখে সাধারণ নির্বাচন নির্ধারিত। এই ভোট দেশের রাজনৈতিক কাঠামোতে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনতে পারে।
পর্তুগালে ১৮ জানুয়ারি প্রেসিডেন্ট নির্বাচন হবে, যা ইউরোপীয় রাজনীতিতে নতুন দিকনির্দেশনা তৈরি করবে।
কোস্টা রিকায় ১ ফেব্রুয়ারি সাধারণ নির্বাচন নির্ধারিত, যেখানে দেশের অভ্যন্তরীণ নীতি ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কের দিক নির্ধারিত হবে।
থাইল্যান্ডে ৮ ফেব্রুয়ারি সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে, যা দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে প্রভাব ফেলবে।
বাংলাদেশে ১২ ফেব্রুয়ারি বহুল প্রত্যাশিত সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার প্রতিবাদে বর্তমান সরকার পতিত হওয়ার পর, নোবেল বিজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে একটি অন্তর্বর্তী সরকার গঠন করা হয়। এই সরকারই নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে।
লাওসে ২২ ফেব্রুয়ারি সংসদীয় নির্বাচন হবে, যা দেশের রাজনৈতিক দিকনির্দেশনা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
ভিয়েতনামে ১৫ মার্চ সংসদীয় ভোট নির্ধারিত, যেখানে দেশের অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক নীতি গঠনে ভোটের ফলাফল প্রভাবশালী হবে।
স্লোভেনিয়ায় ২২ মার্চ সংসদীয় নির্বাচনের সম্ভাব্য তারিখ ঘোষিত হয়েছে, যা ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে দেশের অবস্থানকে পুনর্গঠন করতে পারে।
কঙ্গো প্রজাতন্ত্রে ২২ মার্চ প্রেসিডেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে, যা আফ্রিকায় রাজনৈতিক পরিবর্তনের সূচনা হতে পারে।
বেনিনের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন ১ মার্চ নির্ধারিত, যদিও সুনির্দিষ্ট তারিখ এখনও নিশ্চিত করা হয়নি।
নেপালে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে জেন‑জি বিক্ষোভের ফলে গণঅভ্যুত্থান ঘটেছিল, যার ফলে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মার সরকার পতিত হয়। এরপর একটি অন্তর্বর্তী সরকার গঠন করে ৫ মার্চ সাধারণ নির্বাচন ঘোষণা করে। এই নির্বাচন দেশের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক কাঠামো গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, ২০২৬ সালের এই ব্যাপক নির্বাচনী প্রক্রিয়া কেবল দেশীয় নীতি নয়, বরং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক কৌশল, আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলবে। বিশেষ করে দক্ষিণ এশিয়া ও আফ্রিকায় এই ভোটগুলো অঞ্চলের শক্তি ভারসাম্যকে পুনর্গঠন করতে পারে।
সারসংক্ষেপে, ২০২৬ সালে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই বিশাল নির্বাচনী সিরিজ বিশ্ব রাজনীতির মানচিত্রে নতুন রেখা আঁকবে, এবং বাংলাদেশসহ বহু দেশের ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।



