33 C
Dhaka
Friday, May 8, 2026
Google search engine
Homeব্যবসান্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিফিকেশন রেজিস্টার চালু, বিটিআরসি অফিসে মোবাইল ব্যবসায়ীর হিংসাত্মক প্রতিবাদ

ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিফিকেশন রেজিস্টার চালু, বিটিআরসি অফিসে মোবাইল ব্যবসায়ীর হিংসাত্মক প্রতিবাদ

বুধবার জাতীয় ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিফিকেশন রেজিস্টার (NEIR) বাধ্যতামূলকভাবে কার্যকর হওয়ার পর, ঢাকার আগারগাঁওতে অবস্থিত টেলিকম নিয়ন্ত্রক বিটিআরসি অফিসে মোবাইল বিক্রেতা গোষ্ঠীর হিংসাত্মক প্রতিবাদ দেখা যায়। বিকাল চারটার পর ব্যবসায়ীরা অফিসের প্রবেশদ্বার ভেঙে, ইট ও পাথর নিক্ষেপ করে সম্পত্তি ক্ষতিগ্রস্ত করে। তারা NEIR প্রয়োগ স্থগিতের দাবি জানায়।

NEIR হল একটি রেজিস্ট্রি, যার মাধ্যমে সব মোবাইল হ্যান্ডসেটের ইউনিক আইডি রেকর্ড করা হবে এবং সরকার অনুমোদিত ডিভাইসগুলোই নেটওয়ার্কে সংযুক্ত হতে পারবে। এই ব্যবস্থা বৃহস্পতিবার থেকে বাধ্যতামূলক হয়ে দাঁড়ায়, ফলে বাজারে অবৈধভাবে প্রবেশ করা ক্লোনড, পুরনো ও নিম্নমানের ফোনের ব্যবহার বন্ধ হবে বলে সরকার জানিয়েছে।

প্রতিবাদে অংশ নেওয়া ব্যবসায়ীরা দাবি করে যে, NEIR তাদের অবৈধ কর ফাঁকি ও অননুমোদিত ফোনের আমদানি বন্ধের প্রচেষ্টাকে লক্ষ্যবস্তু করেছে। তারা উল্লেখ করে, দীর্ঘদিন ধরে তারা অবৈধ রুটে ট্যাক্স এড়িয়ে চলা এবং মানহীন পণ্য বাজারে আনার অভিযোগের মুখোমুখি হয়েছে।

পুলিশের তেজগাঁও বিভাগের উপ-কমিশনার ইবনে মিজান জানান, হঠাৎ করে ব্যবসায়ীরা অফিসে ঢুকে ইটপাটকেল ছুঁড়ে মারতে শুরু করে। তিনি বলেন, নিরাপত্তা বজায় রাখতে গিয়ে তারা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছে।

বিটিআরসির একজন কর্মকর্তা জানান, হিংসা শুরু হওয়ার সময় তারা নামাজের আসরে ছিলেন এবং বাইরে থেকে ইটের শব্দ শোনেন। তিনি উল্লেখ করেন, বিকাল পাঁচটার দিকে সশস্ত্র বাহিনীর একাধিক দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি শাসন করে।

বহুদিনের প্রতিবাদে মোবাইল বিক্রেতা গোষ্ঠী বিভিন্ন রোডব্লক ও ধ্বংসাত্মক কর্মসূচি চালিয়ে আসছে। ৭ ডিসেম্বর তারা বিটিআরসি অফিসকে ঘেরাও করে, সারা দিন সড়ক বন্ধ করে প্রতিবাদ চালিয়ে যায়। সরকার তখন ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবসের দিন NEIR চালু করার ঘোষণা দেয়, তবে ব্যবসায়ীরা তা প্রত্যাখ্যান করে।

অবৈধ ফোনের প্রবেশ রোধ এবং কর ফাঁকি বন্ধের লক্ষ্যে সরকার NEIR চালু করেছে। রেজিস্ট্রেশন না করা যেকোনো ডিভাইস নেটওয়ার্কে যুক্ত হতে পারবে না, ফলে বাজারে অবৈধ পণ্যের চাহিদা হ্রাস পাবে বলে অনুমান। একই সঙ্গে, বৈধ ডিভাইসের বিক্রয় ও রপ্তানি বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যা স্থানীয় উৎপাদন ও রিটেল চেইনের জন্য নতুন সুযোগ সৃষ্টি করতে পারে।

তবে, NENEIR চালুর আগে নেটওয়ার্কে সংযুক্ত থাকা ফোনগুলো অবিলম্বে বন্ধ হবে না, ফলে স্বল্পমেয়াদে বাজারে কোনো বড় ব্যাঘাতের সম্ভাবনা কম। দীর্ঘমেয়াদে, রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়া সম্পন্ন না করা বিক্রেতা ও আমদানিকর্তা শাস্তির মুখে পড়তে পারে, যা সরবরাহ শৃঙ্খলে চাপ সৃষ্টি করতে পারে।

বিটিআরসি শেষমেশ NEIR চালুর তারিখ ১৫ দিন পিছিয়ে ১ জানুয়ারি নির্ধারণ করে। এই পরিবর্তন ব্যবসায়ীদের কিছুটা সময় দেয় রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার, তবে একই সঙ্গে সরকারী নীতি বাস্তবায়নের গতি ধীর করে।

বিশ্লেষকরা ইঙ্গিত করছেন, NEIR বাস্তবায়নের পর বাজারে উচ্চমানের, সরকার অনুমোদিত ফোনের চাহিদা বাড়বে, আর অবৈধ চ্যানেল থেকে আসা পণ্যের শেয়ার ক্রমান্বয়ে কমবে। তবে রেজিস্ট্রেশন সিস্টেমের কার্যকারিতা, ডেটা সুরক্ষা ও গ্রাহকের গোপনীয়তা সংক্রান্ত বিষয়গুলো নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা প্রয়োজন, যাতে বাজারের স্বচ্ছতা ও প্রতিযোগিতা বজায় থাকে।

সারসংক্ষেপে, NEIR চালু হওয়া এবং তার পরবর্তী প্রতিবাদ দেশের মোবাইল বাজারের কাঠামোতে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনবে। সরকারী নীতি ও ব্যবসায়িক স্বার্থের মধ্যে সমন্বয় রক্ষা করা, পাশাপাশি অবৈধ কার্যকলাপের দমন নিশ্চিত করা, ভবিষ্যতে টেলিকম সেক্টরের স্থিতিশীলতা ও বৃদ্ধির মূল চাবিকাঠি হবে।

৮৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিডিনিউজ২৪
ব্যবসা প্রতিবেদক
ব্যবসা প্রতিবেদক
AI-powered ব্যবসা content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments