প্রফেসর সায়েদুর রহমানকে আজ সরকারী গেজেটের মাধ্যমে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের চিফ অ্যাডভাইজারের বিশেষ সহকারী হিসেবে পুনরায় নিয়োগ করা হয়েছে। গেজেট প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে তিনি এই পদে পুনঃনিয়োগ নিশ্চিত করেন। একই সময়ে, মঙ্গলবার গেজেটের মাধ্যমে তার পূর্ববর্তী পদত্যাগের নথি প্রকাশিত হয়।
প্রফেসর সায়েদুর গত নভেম্বর মাসে বাংলাদেশ মেডিকেল ইউনিভার্সিটির উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বিশেষ সহকারী হিসেবে ডেপুটেশন গ্রহণ করেন। উপাচার্য পদে থাকাকালীন তিনি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নীতি ও পরিকল্পনা সংক্রান্ত কাজের তত্ত্বাবধান করেন।
গত মাসে তিনি বাংলাদেশ মেডিকেল ইউনিভার্সিটি থেকে অবসর গ্রহণের পর অবসর প্রক্রিয়া সহজতর করার জন্য পদত্যাগপত্র জমা দেন। সেই পদত্যাগপত্রের ভিত্তিতে মঙ্গলবার গেজেটের মাধ্যমে তার পদত্যাগের নথি প্রকাশিত হয়। তবে অবসর গ্রহণের পরও সরকার তাকে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বিশেষ সহকারী হিসেবে পুনরায় নিযুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেয়।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সূত্র অনুযায়ী, প্রফেসর সায়েদুরের পুনঃনিয়োগের পেছনে তার স্বাস্থ্য নীতি ও সেবা সংক্রান্ত অভিজ্ঞতা ও জ্ঞানকে কাজে লাগানোর ইচ্ছা রয়েছে। তিনি পূর্বে উপাচার্য হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও গবেষকদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করেছেন, যা তাকে স্বাস্থ্য খাতে নীতি নির্ধারণে উপযোগী করে তুলেছে।
বিপক্ষের কিছু রাজনৈতিক দল এই পুনঃনিয়োগকে সরকারী কর্মী নিয়োগে স্বচ্ছতার প্রশ্ন তুলেছে। তারা উল্লেখ করে, অবসরপ্রাপ্ত উপাচার্যের পুনরায় সরকারি পদে নিয়োগের প্রক্রিয়া সম্পর্কে স্পষ্ট ব্যাখ্যা প্রয়োজন। তবে সরকারী পক্ষ থেকে কোনো ব্যাখ্যা প্রকাশিত হয়নি।
বিশেষ সহকারী পদে পুনঃনিয়োগের ফলে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নীতি বাস্তবায়নে ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে বলে অনুমান করা হচ্ছে। প্রফেসর সায়েদুরের পূর্বের অভিজ্ঞতা ও নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে স্বাস্থ্য সেবা উন্নয়ন, মেডিকেল শিক্ষা ও গবেষণার ক্ষেত্রে নতুন উদ্যোগ নেওয়া সম্ভব হতে পারে।
এই পদক্ষেপের পরবর্তী ধাপ হিসেবে, প্রফেসর সায়েদুরের দায়িত্বের পরিধি ও কাজের অগ্রাধিকার নির্ধারণের জন্য মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ সভা অনুষ্ঠিত হবে বলে জানানো হয়েছে। এছাড়া, তিনি স্বাস্থ্য নীতি সংক্রান্ত বিভিন্ন প্রকল্পের তত্ত্বাবধান ও সমন্বয় কাজেও অংশ নেবেন।
প্রফেসর সায়েদুরের পুনঃনিয়োগের মাধ্যমে সরকার স্বাস্থ্য খাতে অভিজ্ঞ পেশাজীবীর ব্যবহার বাড়াতে চায়, যা দেশের স্বাস্থ্যসেবা মান উন্নয়নে সহায়ক হতে পারে। এই নিয়োগের প্রভাব ও ফলাফল সময়ের সঙ্গে স্পষ্ট হবে।



