নতুন বছরের আগের দিন, সিরিয়ার উত্তরের আলেপ্পো শহরের বাব আল-ফারাজ এলাকায় আত্মঘাতী বিস্ফোরণ ঘটায় নিরাপত্তা বাহিনীর এক সদস্যের মৃত্যু এবং দুইজন সহকর্মীর আঘাত। হামলাকারী প্রথমে শহরের একটি গির্জায় প্রবেশের চেষ্টা করে, তবে তা ব্যর্থ হওয়ায় নিরাপত্তা টহল দলের কাছে গিয়ে বোমা বিস্ফোরণ করে।
সিরিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র নূর আল-দিন আল বাবা জানিয়েছেন, ঘটনাস্থলে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী সন্দেহভাজনের সঙ্গে ইসলামিক স্টেট (আইএস) সংযোগের সম্ভাবনা রয়েছে এবং তদন্ত চলমান। তিনি আরও উল্লেখ করেন, সন্দেহভাজনের পরিচয় নির্ধারণের জন্য বিশেষ দল গঠন করা হয়েছে।
আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা উল্লেখ করছেন, সিরিয়ার আইএস বিরোধী অভিযানে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সামরিক সমন্বয় সম্প্রসারিত হওয়ার পর এই ধরনের আত্মঘাতী হামলা বাড়ছে। বিশেষ করে, ডিসেম্বরের শুরুর দিকে সিরিয়ায় সন্দেহভাজন আইএস কেলেঙ্কারীকারী দুই মার্কিন সৈন্য ও এক বেসামরিক দোভাষীকে গুলি করে হত্যা করার পর, যুক্তরাষ্ট্র সিরিয়ার ভূখণ্ডে আইএসের লক্ষ্যমাত্রায় একাধিক বায়ু হামলা চালিয়েছিল।
একজন আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বিশ্লেষক মন্তব্য করেছেন, “সিরিয়ার সরকার এবং যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সহযোগিতা আইএসের অবশিষ্ট গোষ্ঠীগুলোর ওপর চাপ বাড়াচ্ছে, ফলে আত্মঘাতী আক্রমণের ঝুঁকি বৃদ্ধি পাচ্ছে।” এই বিশ্লেষণটি সাম্প্রতিক ঘটনার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ, যেখানে আইএসের সঙ্গে আদর্শিক সম্পর্কযুক্ত সন্দেহভাজন একা কাজ করে বিস্ফোরণ ঘটিয়েছেন।
হামলাটি আলেপ্পোর বাব আল-ফারাজ এলাকায় ঘটেছে, যেখানে কোনো গোষ্ঠী দায় স্বীকার করে না। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নিরাপত্তা বাহিনীর টহল দল ঘটনাস্থলে দ্রুত পৌঁছায় এবং বিস্ফোরণের পরপরই আহতদের চিকিৎসা ব্যবস্থা গ্রহণ করে।
সিরিয়ার বর্তমান রাজনৈতিক পরিপ্রেক্ষিতে, ১৩ বছর চলা গৃহযুদ্ধের পর ২০২৪ সালের শেষ দিকে বিদ্রোহীরা বাশার আল-আসাদকে ক্ষমতাচ্যুত করে সরকার গঠন করে। এই বিদ্রোহীদের মধ্যে পূর্বে আল-কায়েদা শাখার সদস্যরাও ছিলেন, তবে তারা পরে আল-কায়েদা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে আইএসের সঙ্গে সংঘর্ষে যুক্ত হয়।
বর্তমানে, আল-কায়েদার প্রাক্তন নেতা আহমেদ আল-শারা সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি নভেম্বর মাসে হোয়াইট হাউসে গিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন আইএস বিরোধী উদ্যোগে সহযোগিতা করার চুক্তি স্বাক্ষর করেন। এই কূটনৈতিক পদক্ষেপটি সিরিয়ার নিরাপত্তা নীতি ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার ওপর প্রভাব ফেলবে বলে অনুমান করা হচ্ছে।
বিশ্লেষকরা ইঙ্গিত দিচ্ছেন, সিরিয়ার সরকার এবং যুক্তরাষ্ট্রের সমন্বিত কৌশল আইএসের অবশিষ্ট সেলগুলোর উপর চাপ বাড়িয়ে তুলবে, তবে একই সঙ্গে আত্মঘাতী আক্রমণের ঝুঁকি বাড়তে পারে। তাই আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জন্য এই পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ এবং কূটনৈতিক সমন্বয় বজায় রাখা গুরুত্বপূর্ণ।
সিরিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ভবিষ্যতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা শক্তিশালী করার পরিকল্পনা জানিয়েছে এবং আইএসের সঙ্গে যুক্ত সন্দেহভাজনের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি এবং আঞ্চলিক সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে, যা সিরিয়ার নিরাপত্তা পরিবেশে নতুন গতিবিধি সৃষ্টি করতে পারে।



