তেলুগু চলচ্চিত্রের অন্যতম স্বনামধন্য নারী পরিচালক নন্দিনী রেড্ডি সম্প্রতি শিল্প ও সমাজে বিদ্যমান লিঙ্গ বৈষম্য ও নারীর নিরাপত্তাহীনতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমান সময়ে নারী শিল্পী ও কর্মীদের মুখোমুখি হওয়া বৈষম্য কেবল চলচ্চিত্র জগতে সীমাবদ্ধ নয়, সমগ্র দেশে ছড়িয়ে আছে।
রেড্ডি বলেন, কিছু পুরুষ অভিনেতা নারীদের পোশাক নিয়ে মন্তব্য করে, “মহিলা যদি সঠিকভাবে পোশাক না পরেন, তবে দুর্ভাগ্য তাদের দিকে আসবে”—এরকম বক্তব্য সমাজের মূলে বসে থাকা পুরুষ আধিপত্যকে দৃঢ় করে। তিনি উল্লেখ করেন, এমন মন্তব্যের পেছনে একটি বৃহত্তর সমস্যার ইঙ্গিত আছে, যেখানে নারীর নিরাপত্তা ও মর্যাদা প্রায়ই প্রশ্নবিদ্ধ হয়।
তিনি উল্লেখ করেন, সাম্প্রতিক সময়ে একটি উচ্চ-প্রোফাইল ধর্ষণ মামলায়, অপরাধীকে আদালত থেকে রেহাই দেওয়া এবং শিকারীর ওপর পুলিশি হস্তক্ষেপের ঘটনা ঘটেছে। এই ধরনের ঘটনা সমাজের ন্যায়বিচার ব্যবস্থার দুর্বলতা প্রকাশ করে এবং নারীর অধিকার রক্ষায় অবহেলার সূচক হয়ে দাঁড়ায়।
রেড্ডি প্রশ্ন তোলেন, কেন আরও বেশি নারী কণ্ঠস্বর না তুলে, বিশেষ করে এমন গুরুত্বপূর্ণ মামলায় যেখানে নারীর নিরাপত্তা ঝুঁকিতে রয়েছে? তিনি ব্যাখ্যা করেন, নারীর কণ্ঠস্বরের অভাবের পেছনে ভয় ও উদাসীনতা উভয়ই কাজ করে, যা সমাজের সামগ্রিক অগ্রগতিকে বাধাগ্রস্ত করে।
তিনি তুলনা করেন, যখন রাস্তায় দুর্ঘটনা ঘটে, তখন অনেক মানুষ থেমে সাহায্য করে না, তেমনি সমাজের অনেক অংশই নারীর অধিকার লঙ্ঘনের দিকে অন্ধভাবে তাকিয়ে থাকে। এই উদাসীনতা, তিনি বলেন, সমাজের ক্ষয়প্রাপ্ত মানসিকতার প্রতিফলন।
রেড্ডি আরও উল্লেখ করেন, ভারতীয় চলচ্চিত্র শিল্পে লিঙ্গ বৈষম্য ব্যাপক, তবে কেউই বড় অপরাধীদের বিরুদ্ধে দৃঢ়ভাবে কথা বলতে সাহস পায় না, কারণ চাকরি হারানোর ভয় থাকে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, এই সমস্যার মূল কারণ শুধুমাত্র শিল্প নয়, পুরো দেশের সামাজিক কাঠামোতে লিঙ্গ বৈষম্যের গভীর শিকড় রয়েছে।
উন্নয়নমূলক দৃষ্টিকোণ থেকে, তিনি উল্লেখ করেন, উনাও ধর্ষণ মামলায় সমাজের প্রতিক্রিয়া তেমনই উদাসীন, যা দেখায় যে নারীর নিরাপত্তা নিয়ে জনসাধারণের মনোভাব এখনও অপর্যাপ্ত। তিনি বলেন, যতক্ষণ না নিজের বা পরিবারের কোনো সদস্য সরাসরি প্রভাবিত হয়, ততক্ষণ পর্যন্ত মানুষ এই সমস্যাকে গুরুত্ব দেয় না।
দিলিপের সাথে যুক্ত একটি সাম্প্রতিক মামলায়, রেড্ডি মন্তব্য করেন, এমন ঘটনা সমাজে পুরুষ আধিপত্যকে আরও শক্তিশালী করে এবং নারীর প্রতি অবহেলা বাড়ায়। তিনি উল্লেখ করেন, প্রতিদিনের সংবাদে এমন ঘটনা বাড়তে থাকে, যা নারীর নিরাপত্তা ও মর্যাদার ওপর আঘাত হানে।
রেড্ডি বলেন, বর্তমান সময়ে দেশটি নারীর জন্য নিরাপদ নয়; বায়ু দূষণ, নিরাপত্তাহীনতা এবং আদালতে ন্যায়বিচারের অভাব সবই একসাথে কাজ করে একটি অনিরাপদ পরিবেশ গড়ে তোলে। তিনি এই সমস্যাগুলোকে একত্রে সমাধান না করা পর্যন্ত নারীর অবস্থান উন্নত হবে না, তা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন।
তিনি স্বীকার করেন, তিনি তেলুগু সিনেমার অন্যতম একমাত্র পরিচিত নারী পরিচালক, যা শিল্পে লিঙ্গ বৈষম্যের মাত্রা প্রকাশ করে। তবে তিনি বলেন, এই একক উদাহরণকে পুরো শিল্পের প্রতিনিধিত্ব হিসেবে দেখা উচিত নয়; ভবিষ্যতে আরও নারী পরিচালক ও কর্মী আসবে, যা শিল্পের বৈচিত্র্য বাড়াবে।
রেড্ডি জোর দিয়ে বলেন, চলচ্চিত্র শিল্পের সমস্যাগুলো দেশের বৃহত্তর সামাজিক সমস্যার প্রতিফলন। শিল্পে যা ঘটে, তা সমাজের অন্য অংশেও প্রতিফলিত হয়, এবং বিপরীতও সত্য। তাই শিল্পের ভিতরে পরিবর্তন না হলে, দেশের সামগ্রিক লিঙ্গ সমতা অর্জন কঠিন।
শেষে, তিনি সকল শিল্পকর্মী ও সাধারণ নাগরিককে আহ্বান জানান, নারীর নিরাপত্তা ও মর্যাদার জন্য সক্রিয়ভাবে কাজ করতে। তিনি উল্লেখ করেন, শুধুমাত্র শব্দে নয়, বাস্তব পদক্ষেপে পরিবর্তন আনা সম্ভব, যা সমাজকে আরও ন্যায়সঙ্গত ও নিরাপদ করে তুলবে।



