ইসরায়েল সরকারের ডায়াস্পোরা বিষয়ক ও অ্যান্টিসেমিটিজম মোকাবিলা মন্ত্রণালয় বৃহস্পতিবার জানিয়েছে যে গাজায় কাজ করা ৩৭টি আন্তর্জাতিক এনজিও নির্ধারিত নিরাপত্তা ও স্বচ্ছতা মানদণ্ড পূরণে ব্যর্থ হয়েছে। মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এই সংস্থাগুলোর লাইসেন্স ১ জানুয়ারি ২০২৬ থেকে বাতিল হবে এবং তারা ১ মার্চ ২০২৬ পর্যন্ত তাদের সব কার্যক্রম বন্ধ করতে হবে।
এই সিদ্ধান্তের পেছনে রয়েছে গত মার্চে ঘোষিত নতুন নিয়ম, যা এনজিওগুলোকে তাদের কর্মী, তহবিলের উৎস এবং কার্যপ্রণালী সম্পর্কে পূর্ণাঙ্গ তথ্য প্রকাশ করতে বলেছিল। দশ মাসের সময়সীমা শেষ হওয়ার পর, বুধবারই শেষ তারিখ অতিক্রান্ত হওয়ায় মন্ত্রণালয় এই কঠোর পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে।
মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, যারা কর্মচারীর পূর্ণাঙ্গ ও যাচাইযোগ্য তথ্য সরবরাহে ব্যর্থ হয়েছে, তাদের লাইসেন্স স্থগিত করা হবে। এই শর্তটি টেররিস্টি গোষ্ঠীর সম্ভাব্য প্রবেশ রোধের জন্য প্রয়োজনীয় বলে সরকার যুক্তি দিয়েছে।
বাতিলের তালিকায় বেশ কয়েকটি সুপরিচিত মানবিক সংস্থা রয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে ডক্টরস উইদাউট বর্ডার্স (Médecins Sans Frontières) এবং ওয়ার্ল্ড ভিশন। এই সংস্থাগুলো গাজায় চিকিৎসা, খাবার এবং আশ্রয় প্রদান করে আসছে, যা এখন বন্ধ হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।
জাতিসংঘের মানবিক সহায়তা সংস্থা গাজার মানবিক সংকটকে তীব্রতর হতে পারে বলে সতর্ক করেছে। চলমান যুদ্ধের ফলে ইতিমধ্যে ভুগছে গাজা, যেখানে বেসামরিকদের মৌলিক চাহিদা পূরণে আন্তর্জাতিক সাহায্য অপরিহার্য।
কয়েকটি এনজিও দাবি করেছে যে নতুন শর্তগুলো আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের সঙ্গে বিরোধপূর্ণ এবং তাদের স্বায়ত্তশাসনকে ক্ষুণ্ণ করে। তারা বলছে, কর্মী ও তহবিলের তথ্য প্রকাশের বাধ্যবাধকতা তাদের স্বাধীনভাবে কাজ করা কঠিন করে তুলবে।
ইসরায়েল এই সিদ্ধান্তের জন্য আন্তর্জাতিক সমালোচনার মুখোমুখি হয়েছে। বিভিন্ন দেশ ও মানবাধিকার সংস্থা গাজায় মানবিক সহায়তার প্রবেশে বাধা সৃষ্টি হওয়া নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে, বিশেষ করে যুদ্ধের তীব্রতা বাড়ার সময়ে।
মন্ত্রণালয়ের প্রধান, আমিচাই চিক্লি, জোর দিয়ে বলেছেন যে মানবিক সাহায্য স্বাগত, তবে মানবিক কাঠামোকে সন্ত্রাসবাদের জন্য ব্যবহার করা যাবে না। তিনি এই নীতিকে দেশের নিরাপত্তা রক্ষার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে উপস্থাপন করেছেন।
বাতিলের শর্ত অনুসারে, সংশ্লিষ্ট এনজিওগুলোকে ১ মার্চ ২০২৬ পর্যন্ত সব কার্যক্রম বন্ধ করতে হবে, আর তা না করলে ইসরায়েলি আইন অনুযায়ী তা অবৈধ বলে গণ্য হবে। এই সময়সীমা পার হওয়ার পর কোনো অব্যাহত কাজের ক্ষেত্রে কঠোর শাস্তি আরোপের সম্ভাবনা রয়েছে।
এই পদক্ষেপের আঞ্চলিক প্রভাবও অনস্বীকার্য। আন্তর্জাতিক দাতা সংস্থা ও অন্যান্য দেশের সরকারগুলো গাজায় তহবিল ও সহায়তা পুনর্বিবেচনা করতে পারে, যা গাজার জনগণের জন্য চিকিৎসা, খাবার ও আশ্রয়ের সরবরাহে বড় ধাক্কা হতে পারে।
বিশ্বের বিভিন্ন সংঘর্ষপূর্ণ অঞ্চলে অনুরূপ লাইসেন্স শর্ত আরোপের উদাহরণ দেখা যায়, যা মানবিক সহায়তার প্রবেশে বাধা সৃষ্টি করে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন যে, নিরাপত্তা উদ্বেগের নামে মানবিক কাজের সীমাবদ্ধতা দীর্ঘমেয়াদে বেসামরিকদের কষ্ট বাড়িয়ে দিতে পারে।
পরিস্থিতি এখনও পরিবর্তনশীল, এবং জাতিসংঘ ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থা গাজায় মানবিক সহায়তার ওপর এই নিষেধাজ্ঞার প্রভাব নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করবে। গাজার জনগণের জন্য তাত্ক্ষণিক ও দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব কী হবে, তা সময়ই প্রকাশ করবে।



