নওগাঁ জেলায় এই বছর শিক্ষাবর্ষের প্রথম দিনেই প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সব শিক্ষার্থী নতুন পাঠ্যবই পেয়েছেন, তবে মাধ্যমিক স্তরে অষ্টম শ্রেণির বইয়ের ঘাটতি এখনও ৩০ শতাংশের কাছাকাছি। জেলা শিক্ষা অফিসের তথ্য অনুযায়ী, ১,৩৭৪টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জন্য মোট ১০,৮৮,৯০৫টি বই চাহিদা ছিল এবং চাহিদার শতভাগই সরবরাহ করা হয়েছে।
মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের জন্য মোট চাহিদা ছিল ২,৮৪,৮৬৬টি বই, যার মধ্যে ২,০৬,৮১৮টি বই ইতিমধ্যে পৌঁছেছে। ফলে অষ্টম শ্রেণি সহ অন্যান্য কিছু শ্রেণির বই এখনও পৌঁছায়নি, যা প্রায় ৩০ শতাংশের ঘাটতি সৃষ্টি করেছে।
শিক্ষাবর্ষের প্রথম দিনেই সরেজমিনে জিলা স্কুল ও সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের ভিড় দেখা গিয়েছে। সকালবেলা থেকেই নতুন বই সংগ্রহের জন্য বিদ্যালয়ে জমায়েত হয়, যেখানে শিক্ষকরা পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন শ্রেণির বই হাতে তুলে দিচ্ছেন।
প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা নতুন বই হাতে পেয়ে আনন্দের প্রকাশ করেছেন। তারা বইয়ের রঙ, ছবি ও নতুন পাঠ্যসূচি নিয়ে আলোচনা করে উচ্ছ্বাসে ভরে উঠেছেন। অন্যদিকে, মাধ্যমিক শিক্ষার্থীদের মুখে হতাশা দেখা যায়, কারণ অষ্টম শ্রেণির বই না পেয়ে তারা ক্লাসে ফিরে যেতে বাধ্য হচ্ছেন।
নওগাঁ জিলা স্কুলের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা বলছেন, “বই নিতে আমরা বিদ্যালয়ে এসেছি, কিন্তু শিক্ষকরা জানিয়েছেন যে এখনো বই পৌঁছায়নি। সময়মতো বই না পেলে পড়াশোনায় পিছিয়ে পড়ার ঝুঁকি বাড়বে।” একই সময়ে, রাহাত ও আরমান হোসেনও একই উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
গার্লস হাই স্কুলের অরিত্র রায় নতুন বছরের নতুন বই পেয়ে আনন্দের স্বরে বলছেন, “বই পেয়ে আমি খুবই খুশি, এখন থেকে মনোযোগ দিয়ে পড়াশোনা করব এবং নিজের লক্ষ্য অর্জনে এগিয়ে যাব।” তার এই উচ্ছ্বাসের বিপরীতে অষ্টম শ্রেণির বইয়ের ঘাটতি এখনও সমাধান হয়নি।
নওগাঁ জিলা স্কুলের প্রধান শিক্ষক মুহা. সোলাইমান জানান, “বছরের প্রথম দিন থেকেই তৃতীয় থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত সব বই বিতরণ করা হয়েছে, তবে অষ্টম শ্রেণির বই এখনও বাকি রয়েছে। আমরা দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আশা করছি।”
গার্লস হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষক রাবেয়া খাতুন যোগ করেন, “বেশিরভাগ বই আমরা পেয়েছি, তবে কিছু বিষয়ের বই কম রয়েছে। গুণগত মানের দিক থেকে এই বছরের বইগুলো সন্তোষজনক।” তিনি শিক্ষার্থীদের জন্য অতিরিক্ত বিষয়ের বই সংগ্রহের পরিকল্পনা জানিয়েছেন।
জেলা প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার মতে, “শিক্ষাবর্ষের শুরুতে চাহিদার শতভাগ বই আমরা পেয়েছি, তবে মাধ্যমিক স্তরে কিছু বিষয়ের সরবরাহে দেরি হয়েছে। এখনই অতিরিক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করে বাকি বই দ্রুত পৌঁছে দেওয়া হবে।” তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্বেগ কমাতে দ্রুত পদক্ষেপের আশ্বাস দিয়েছেন।
বইয়ের ঘাটতি শিক্ষার্থীদের শিক্ষাগত অগ্রগতিতে প্রভাব ফেলতে পারে, বিশেষ করে অষ্টম শ্রেণির গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোতে। অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের জন্য জরুরি পরামর্শ হল, অনুপস্থিত বইয়ের বিষয়বস্তু অনলাইন রিসোর্স বা লাইব্রেরি থেকে সংগ্রহ করে ঘাটতি পূরণ করা। এছাড়া, বিদ্যালয়ের সঙ্গে সমন্বয় রেখে অতিরিক্ত নোট ও রেফারেন্স উপকরণ ব্যবহার করা শিক্ষার ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে সহায়ক হবে।
আপনার সন্তান বা পরিচিত কেউ যদি একই সমস্যার সম্মুখীন হন, তাহলে কি আপনি বিদ্যালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করে অতিরিক্ত উপকরণ চাওয়ার পরিকল্পনা করেছেন? আপনার অভিজ্ঞতা শেয়ার করলে অন্যদের সহায়তা করতে পারে।



