রনবীর সিংয়ের প্রধান ভূমিকায় অভিনীত ‘ধুরন্ধর’ চলচ্চিত্রটি ২০২৫ সালের সর্বোচ্চ আয়কারী হিন্দি সিনেমা হিসেবে স্বীকৃত হয়েছে। ২৬ দিনের মধ্যে মোট ৭৫৪.৫০ কোটি টাকা সংগ্রহের পর, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় (আইওবি) চলচ্চিত্রের কিছু অংশে ব্যবহৃত ‘বালুচ’ শব্দটি মুছে ফেলার নির্দেশ দিয়েছে। সংশোধিত সংস্করণটি নতুন বছরের প্রথম দিনে, অর্থাৎ ১ জানুয়ারি ২০২৬ থেকে থিয়েটারে প্রদর্শিত হবে।
আইওবি মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে ‘ধুরন্ধর’ নির্মাণ দলকে চলচ্চিত্রের সংশ্লিষ্ট দৃশ্য ও সংলাপ থেকে ‘বালুচ’ শব্দটি বাদ দিতে বলা হয়েছে। মন্ত্রণালয় উল্লেখ করেছে যে, এই শব্দটি কিছু সম্প্রদায়ের সংবেদনশীলতা স্পর্শ করতে পারে এবং তাই তা অপসারণ করা প্রয়োজন। চলচ্চিত্রের প্রযোজকরা দ্রুতই এই পরিবর্তন গ্রহণ করে সম্পাদনা কাজ সম্পন্ন করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
সংশোধিত সংস্করণটি ১ জানুয়ারি ২০২৬ থেকে সমস্ত সিঙ্গেল স্ক্রিন ও মাল্টিপ্লেক্সে সমানভাবে প্রদর্শিত হবে। মূল কাটের তুলনায় কিছু দৃশ্য সংক্ষিপ্ত করা হবে, তবে গল্পের মূল কাঠামো অপরিবর্তিত থাকবে। এই পরিবর্তনটি চলচ্চিত্রের বাণিজ্যিক রিলিজের সময়সূচিতে কোনো প্রভাব না ফেলে, বরং নতুন বছরের প্রথম দিনটি বিশেষভাবে আকর্ষণীয় করে তুলবে।
‘ধুরন্ধর’ ২০২৫ সালের শুরুর দিকে মুক্তি পেয়ে দ্রুতই বক্স অফিসে রেকর্ড ভাঙে। ২৬ দিনের মধ্যে ৭৫৪.৫০ কোটি টাকার সংগ্রহের মাধ্যমে এটি বছরের সর্বোচ্চ আয়কারী চলচ্চিত্রের তালিকায় শীর্ষে উঠে। সিনেমা প্রেমিকদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া পেয়ে টিকিটের চাহিদা অব্যাহত রয়েছে, যা আগামী মাসগুলোতেও আয়ের ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করবে।
বক্স অফিসের শক্তিশালী পারফরম্যান্সের পেছনে রনবীর সিংয়ের আকর্ষণীয় পারফরম্যান্স এবং চলচ্চিত্রের উচ্চমানের প্রযোজনা মূল ভূমিকা পালন করেছে। চলচ্চিত্রের সঙ্গীত, ভিজ্যুয়াল ইফেক্ট এবং গল্পের মোড়গুলো দর্শকদের মনোযোগ ধরে রেখেছে। এই সব উপাদান মিলিয়ে ‘ধুরন্ধর’ এখনো নতুন দর্শক সংগ্রহে সক্ষম, যা ২০২৬ সালের প্রথম সপ্তাহে অতিরিক্ত আয় যোগ করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সংশোধিত সংস্করণটি দেশের বিভিন্ন শহরে সমানভাবে বিতরণ করা হবে। বড় বড় মাল্টিপ্লেক্স থেকে শুরু করে ছোট শহরের সিঙ্গেল স্ক্রিন পর্যন্ত সব জায়গায় নতুন কাটের সঙ্গে সিনেমা দেখার সুযোগ থাকবে। চলচ্চিত্রের প্রচার দল ইতিমধ্যে নতুন পোস্টার ও ট্রেলার প্রকাশ করেছে, যা দর্শকদের মধ্যে উত্তেজনা বাড়িয়ে তুলেছে।
প্রশংসক ও সমালোচক উভয়ই ‘ধুরন্ধর’কে একটি মাইলফলক হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছেন। যদিও শব্দ পরিবর্তনের বিষয়টি কিছু আলোচনার সৃষ্টি করেছে, তবে অধিকাংশ দর্শক এই পরিবর্তনকে চলচ্চিত্রের মূল আকর্ষণ থেকে বিচ্যুতি না বলে গ্রহণ করেছে। নতুন সংস্করণে কোনো গুরুত্বপূর্ণ গল্পের অংশ বাদ না দিয়ে শুধুমাত্র সংবেদনশীল শব্দটি সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, যা দর্শকদের সন্তুষ্টি বজায় রাখবে।
যারা এখনও ‘ধুরন্ধর’ দেখতে চান, তাদের জন্য এখনই টিকিট বুক করা উচিৎ। নতুন বছরের প্রথম দিনটি সিনেমা হলের ভিড় কম না হওয়ায় আগাম বুকিং করলে সুবিধা পাবেন। চলচ্চিত্রের সংশোধিত সংস্করণটি একই রকম উত্তেজনা ও বিনোদন প্রদান করবে, তাই পরিবার ও বন্ধুদের সঙ্গে একসাথে উপভোগ করার জন্য এটি একটি চমৎকার বিকল্প।



