23 C
Dhaka
Thursday, May 7, 2026
Google search engine
Homeস্বাস্থ্যকুড়িগ্রামে তীব্র শীতের ফলে ঠান্ডাজনিত রোগে রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি

কুড়িগ্রামে তীব্র শীতের ফলে ঠান্ডাজনিত রোগে রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি

কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার ঘোগাদহ ইউনিয়নের দিনমজুর নাজমুল হোসেনের মতো শ্রমিকদের জন্য শীতের তীব্রতা এখনো অব্যাহত। সকাল ৬টায় জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১০.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড হওয়ায়, ঘন কুয়াশা ও শীতল বাতাসের সঙ্গে দৈনন্দিন কাজকর্মে বাধা সৃষ্টি হয়েছে।

কুরিগ্রাম রাজারহাট কৃষি‑আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, গত বৃহস্পতিবারের তাপমাত্রা পূর্বের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গিয়েছে, ফলে রাতের তাপমাত্রা শূন্যের কাছাকাছি পৌঁছেছে। এই হ্রাসের ফলে স্থানীয় মানুষদের শারীরিক স্বাস্থ্যে সরাসরি প্রভাব পড়ছে।

শীতের প্রভাবে জ্বর, সর্দি, কাশি এবং শ্বাসকষ্টের রোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। পাশাপাশি ডায়রিয়া, নিউমোনিয়া এবং শ্বাসযন্ত্রের অন্যান্য জটিলতা দেখা দিচ্ছে। স্থানীয় স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোতে প্রতিদিনের রোগীর প্রবাহ বৃদ্ধি পেয়েছে, যা স্বাস্থ্যসেবার চাহিদা তীব্রতর করেছে।

কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতালের মোট ২৫০ শয্যা থাকা সত্ত্বেও, রোগীর সংখ্যা অতিরিক্ত হওয়ায় মেঝেতে বিছানা করে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। রোগীর অতিরিক্ত ভিড়ের ফলে হাসপাতালের কর্মী ও সরঞ্জামের ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়ছে।

হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডা. আলামিন উল্লেখ করেন, শীতের তীব্রতা বিশেষ করে শিশু, নারী ও বৃদ্ধদের মধ্যে শ্বাসযন্ত্রের রোগের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিচ্ছে। তিনি সতর্ক করেন, দ্রুত চিকিৎসা না নিলে রোগের অবস্থা দ্রুত খারাপ হতে পারে।

দিনমজুর নাজমুল হোসেন বলেন, “শীতের কারণে সকালবেলা কাজে যাওয়া দেরি হয়, হাত‑পা জমে যায়, তবু কাজ না করলে জীবিকা চলে যায়।” তার মতই বহু শ্রমিকের মুখে শীতের কঠিনতা ও কাজের অভাবের কথা শোনা যায়।

পৌরসভার বৈশ্যপাড়া এলাকার দিনমজুর আজাদ ও নির্মল জানান, শীতের তীব্রতা তাদের জীবনের গতি থেমে দিয়েছে। কাজের সুযোগ না থাকায় তারা ধার নিয়ে জীবিকা চালিয়ে যাচ্ছে।

নাগেশ্বরী উপজেলার কালিগঞ্জ ইউনিয়নের তাইজুল ইসলাম বলেন, “এবারের শীত আগের চেয়ে বেশি কঠিন, এখনও কেউ কম্বল দেনি।” একই এলাকার হামিদুল ইসলাম জানান, “ঠান্ডায় কাজ করলে হাত‑পা জ্বালা করে, রাতের জ্বালাপোড়ায় ঘুমাতে পারি না।”

শীতের তীব্রতা ও ঘন কুয়াশার কারণে রৌমারী থেকে কুড়িগ্রাম জজ কোর্টে মামলায় হাজিরা দিতে আসা সোলায়মান ও রফিকুলের যাত্রা কঠিন হয়ে পড়েছে। তারা রাস্তায় কুয়াশা ও শীতের কারণে চলাচলে অসুবিধা অনুভব করছেন।

জেলা প্রশাসন শীতকালীন জরুরি সহায়তা হিসেবে শীতবস্ত্র বিতরণ এবং নগদ তহবিল গঠন করেছে। বিতরণকৃত শীতবস্ত্রের মধ্যে উল কম্বল, গরম জ্যাকেট এবং গ্লাভস অন্তর্ভুক্ত। তদুপরি, দরিদ্র পরিবারকে আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়েছে।

তবে শীতবস্ত্র ও নগদ তহবিলের উপস্থিতি সত্ত্বেও, কুড়িগ্রামের বেশিরভাগ দরিদ্র জনগোষ্ঠীর কষ্ট কমেনি। ঘন কুয়াশা, তাপমাত্রার হ্রাস এবং কাজের অভাবের সম্মিলিত প্রভাব তাদের দৈনন্দিন জীবনে বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দেন, শীতের সময় গরম পোশাক পরা, পর্যাপ্ত ঘুম এবং সঠিক পুষ্টি বজায় রাখা জরুরি। তাপমাত্রা হ্রাসের সঙ্গে সঙ্গে শ্বাসযন্ত্রের কোনো অস্বাভাবিক লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রের সাহায্য নেওয়া উচিত। শীতের কঠিন সময়ে কীভাবে নিরাপদে জীবনযাপন করা যায়, আপনার মতামত কী?

৮৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিডিনিউজ২৪
স্বাস্থ্য প্রতিবেদক
স্বাস্থ্য প্রতিবেদক
AI-powered স্বাস্থ্য content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments