ঢাকার আজিমপুর, লালবাগ, বংশাল, বাড্ডা, রামপুরা ও খিলগাঁও এলাকার সরকারি ও বেসরকারি বিদ্যালয়গুলোতে নতুন বছরের প্রথম দিনেই শিক্ষার্থীদের বই বিতরণ শুরু হয়। তবে এই বিতরণে প্রাথমিক স্তরের শিক্ষার্থীদেরই সম্পূর্ণ বই পাওয়া যায়; মাধ্যমিক স্তরের বেশিরভাগ ক্লাসে বইয়ের ঘাটতি দেখা যায়।
সকাল ৯টা থেকে শিক্ষার্থীরা ও তাদের অভিভাবকরা বিদ্যালয়ে উপস্থিত হন। শিক্ষকরা ফলাফল শিটের ভিত্তিতে বই হাতে তুলে দেন। প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির বই সকাল ৯টায়, তৃতীয় থেকে পঞ্চম শ্রেণির বই দুপুর ১১টায় বিতরণ করা হয়।
বেশিরভাগ বেসরকারি স্কুলে নতুন বছরের প্রথম দিনে বার্ষিক পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করা হয়। তবে মাধ্যমিক স্তরে, বিশেষ করে সপ্তম ও অষ্টম শ্রেণির জন্য বই না পৌঁছানোর কারণে অনেক স্কুলে বই বিতরণ বন্ধ থাকে। কিছু বিদ্যালয়ে ষষ্ঠ ও নবম শ্রেণির জন্যও পর্যাপ্ত বই না থাকায় বিতরণে বিলম্ব দেখা যায়।
আজিমপুর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে ফলাফল প্রকাশের পরিবেশ দেখা যায়। শিক্ষকরা জানিয়েছেন যে, সপ্তম ও অষ্টম শ্রেণির জন্য বই এখনও পৌঁছায়নি, তাছাড়া ষষ্ঠ ও নবম শ্রেণির জন্যও যথেষ্ট বই নেই। ফলাফল প্রকাশের পর রোববার থেকে বই বিতরণ শুরু হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।
আজিমপুরের অগ্রণী স্কুল ও কলেজের একজন শিক্ষিকা উল্লেখ করেছেন যে, সব ক্লাসের জন্য বই না থাকায় আজ ফলাফল দেওয়া হচ্ছে এবং বই পরবর্তীতে বিতরণ করা হবে। লালবাগের সাফির আইডিয়াল স্কুল ও কলেজে প্রাথমিক স্তরের বইগুলো টেবিলে সাজিয়ে শিক্ষার্থীদের হাতে তুলে দেওয়া হয়।
লালবাগের হাজি আব্দুল গনি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা জানান, সকাল ১০টা থেকে বই বিতরণ শুরু হয়েছে এবং সব শিশুকে প্রয়োজনীয় সব বই সরবরাহ করা হয়েছে। বিদ্যালয়ের বেশিরভাগ ক্লাসে বইয়ের পূর্ণতা দেখা গেছে।
বাড্ডা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকও একই রকম মন্তব্য করেন; তিনি বলেন, তাদের স্কুলের সব শিক্ষার্থীর জন্য সম্পূর্ণ বই সরবরাহ করা হয়েছে এবং প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির বই প্রথমে বিতরণ করা হয়েছে।
মাধ্যমিক স্তরে বইয়ের ঘাটতি থাকা সত্ত্বেও, প্রাথমিক স্তরের শিক্ষার্থীরা নতুন পাঠ্যপুস্তক হাতে পেয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছে। বিদ্যালয়গুলোতে ফলাফল প্রকাশের পাশাপাশি বই বিতরণে সময়সূচি নির্ধারণের জন্য শিক্ষক ও অভিভাবকদের মধ্যে সমন্বয় চলছে।
শিক্ষার্থীদের জন্য এই পরিস্থিতি থেকে সর্বোচ্চ সুবিধা নিতে, অভিভাবকদের উচিত বিদ্যালয়ের নোটিশ বোর্ড নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা এবং বই বিতরণ সংক্রান্ত কোনো পরিবর্তন হলে দ্রুত তথ্য সংগ্রহ করা। এছাড়া, যদি কোনো ক্লাসে বই না পৌঁছায়, তবে বিদ্যালয়ের দায়িত্বশীল কর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ করে সমস্যার সমাধান চাওয়া যেতে পারে।



