দশই ডিসেম্বর জাতীয় সংসদীয় নির্বাচনের সময়সূচি প্রকাশের পর, ভোটদান ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ নির্ধারিত হয়েছে। একই সঙ্গে নির্বাচনী প্রচার শুরু হয়েছে, যেখানে দলীয় র্যালি, ঘোষণাপত্র ও প্রার্থীর নাম প্রস্তাবনা পাশাপাশি অনলাইন মিথ্যা তথ্যের প্রবাহও বাড়ছে।
নির্বাচনের তারিখ ঘোষণার পর থেকে রাজনৈতিক দলগুলো রাস্তায় ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে সক্রিয়ভাবে উপস্থিত হয়েছে, তবে তথ্যের সঠিকতা নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
একটি গবেষণায় দেখা যায়, মিথ্যা তথ্যের মূল উদ্দেশ্য ভোটারকে প্রভাবিত করা নয়, বরং রাজনৈতিক গতি-প্রবাহকে নির্দিষ্ট দৃষ্টিকোণ থেকে উপস্থাপন করা।
এই মিথ্যা তথ্যগুলো প্রধানত দুই ধরনের রূপে প্রকাশ পেয়েছে। প্রথমটি হল নির্দিষ্ট দলকে জনপ্রিয়তা, বৈধতা বা আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি দেওয়ার প্রচেষ্টা, আর দ্বিতীয়টি হল প্রতিদ্বন্দ্বী দলকে কল্পিত উক্তি, বিকৃত ভিডিও বা কাল্পনিক কেলেঙ্কারির মাধ্যমে অবমাননা করা।
বিএনপি, জামাত‑ই‑ইসলামি ও ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টি এই দুই ধরনের মিথ্যা তথ্যের প্রধান লক্ষ্যবস্তু হিসেবে উঠে এসেছে। উভয় দিকের প্রচারণা সামাজিক মিডিয়া ও মেসেজিং অ্যাপের মাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে।
অন্যদিকে, আওয়ামী লীগ, যার রাজনৈতিক কার্যক্রমে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে, তবুও মিথ্যা তথ্যের জালে অল্প নয়। অধিকাংশই দলটির জনসমর্থন অব্যাহত রয়েছে এমন ধারণা ছড়িয়ে দেয়।
নভেম্বর ১৬ থেকে ডিসেম্বর ১৫ পর্যন্ত সময়ে দেশীয় নয়টি ফ্যাক্ট‑চেকিং সংস্থা ৬৩টি নির্বাচনী মিথ্যা তথ্য চিহ্নিত ও খণ্ডন করেছে। এই সংখ্যা পূর্ববর্তী অক্টোবর ১৬ থেকে নভেম্বর ১৫ পর্যন্ত সময়ের ৫০টি মিথ্যা তথ্যের তুলনায় প্রায় ২৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
মিথ্যা তথ্যের বেশিরভাগই কল্পিত উক্তি ও বিবৃতি নিয়ে গঠিত, যা বিভিন্ন ব্যক্তির নামে প্রকাশ করা হয়—দলীয় নেতা, কর্মী, অস্থায়ী সরকারের উপদেষ্টা, বিদেশি শীর্ষ নেতা এবং সাম্প্রতিককালে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দ্বারা সৃষ্ট ‘সাধারণ নাগরিক’র নামেও।
বিশেষ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে তৈরি করা কল্পিত মন্তব্যগুলো দ্রুত শেয়ার হয়, ফলে সত্য-মিথ্যা পার্থক্য করা কঠিন হয়ে দাঁড়ায়।
গ্লোরিফিকেশন (উচ্চ প্রশংসা) মূলত জামাত‑ই‑ইসলামি ও আওয়ামী লীগের দিকে কেন্দ্রীভূত, যেখানে কিছু মিথ্যা দাবি তাদের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি বা শীঘ্রই শাসন ক্ষমতা অর্জনের ইঙ্গিত দেয়।
এই ধরনের মিথ্যা তথ্যের প্রভাব নির্বাচনী পরিবেশকে অস্থির করতে পারে, ভোটারদের মধ্যে বিভ্রান্তি বাড়াতে পারে এবং দলীয় কৌশলকে প্রভাবিত করতে পারে।
ফ্যাক্ট‑চেকিং সংস্থাগুলো ধারাবাহিকভাবে এই মিথ্যা তথ্য শনাক্ত করে প্রকাশ করছে, তবে তথ্যের প্রবাহের গতি ও পরিমাণের কারণে সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ কঠিন।
নির্বাচনের দিন নিকটবর্তী হওয়ায়, সকল রাজনৈতিক দল ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে মিথ্যা তথ্যের বিস্তার রোধে সতর্কতা অবলম্বন করা এবং ভোটারকে সঠিক তথ্য প্রদান করা জরুরি।



