28 C
Dhaka
Sunday, May 10, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিশহীদ জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার সমাধিস্থল সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত

শহীদ জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার সমাধিস্থল সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত

শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সমাধিস্থল ঢাকা শহরের শেরেবাংলা নগরে অবস্থিত জিয়া উদ্যানের প্রবেশদ্বার বৃহস্পতিবার বিকালের দিকে সাধারণ নাগরিকের জন্য খুলে দেওয়া হয়। সমাধিস্থলে প্রবেশের অনুমতি, স্থানটির সংস্কার কাজ শেষ হওয়ায় পুনরায় উন্মুক্ত করা হয়েছে।

উদ্যানের প্রবেশদ্বার খুলে দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে দলীয় নেতা, কর্মী ও সাধারণ মানুষ সমাবেশ করে শোক প্রকাশের জন্য দীর্ঘ সারি গঠন করে। ভিড়ের মধ্যে বামন, বয়স্ক ও তরুণ সকলেই সমাধিস্থলে প্রবেশের অপেক্ষায় থাকে, যদিও কিছুজন নিরাপত্তা ব্যারিকেডে থেমে দাঁড়িয়ে দোয়া করেন।

সমাধিস্থলে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ বাহিনীর পাশাপাশি অন্যান্য নিরাপত্তা সংস্থার সদস্যরাও উপস্থিত থাকে। প্রবেশদ্বার থেকে প্রবেশের পথে উচ্চ পর্যবেক্ষণ ক্যামেরা ও নিরাপত্তা কর্মী স্থাপন করা হয়েছে, যাতে জনসাধারণের নিরাপদ প্রবেশ নিশ্চিত করা যায়।

সকালবেলা, সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর সমাধিস্থলে গিয়ে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে প্রার্থনা করেন। তিনি দুজনের জন্য মোনাজাত করেন এবং সমাধিস্থলের উন্মুক্তিকরণে তার সমর্থন প্রকাশ করেন।

সমাধিস্থলটি পূর্বে সংস্কার কাজের কারণে বন্ধ ছিল; কাজের মধ্যে গাছপালা রোপণ, পথের মেরামত এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা উন্নত করা অন্তর্ভুক্ত ছিল। কাজ শেষ হওয়ার পর, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তে সমাধিস্থলটি পুনরায় জনগণের জন্য উন্মুক্ত করা হয়।

গত বুধবার বিকেল, জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে ইমাম আবদুল মালেকের নেতৃত্বে খালেদা জিয়ার জন্য শেষ দাফন প্রার্থনা অনুষ্ঠিত হয়। প্রার্থনা শেষে, সমাধিস্থলে দাফন কার্যক্রমের প্রস্তুতি নেওয়া হয়।

বিকেল পাঁচটায়, শেরেবাংলা নগরের জিয়া উদ্যানের মধ্যে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কবরের পাশে, খালেদা জিয়াকে পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন করা হয়। দাফন অনুষ্ঠানে সরকারী প্রতিনিধিরা, পার্টি নেতারা এবং পরিবারিক সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

দাফন অনুষ্ঠানের পর, বিরাট জনসমাগমের মাধ্যমে দুজনের প্রতি সম্মান জানাতে মানুষ সমাধিস্থলে একত্রিত হয়। উপস্থিতদের মধ্যে বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার সমর্থকরা বিশেষভাবে শোক প্রকাশ করেন এবং ভবিষ্যতে সমাধিস্থলকে স্মরণীয় স্থান হিসেবে রক্ষার আহ্বান জানান।

অপরদিকে, আওয়ামী লীগ সরকার সমাধিস্থলের উন্মুক্তিকরণকে জনগণের শোক ও স্মরণে সহায়তা করার একটি পদক্ষেপ হিসেবে তুলে ধরেছে। সরকারী পক্ষ থেকে নিরাপত্তা ব্যবস্থা শক্তিশালী করা এবং সমাধিস্থলের রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে।

দু’টি রাজনৈতিক দলের এই পারস্পরিক সম্মান ও শোকের প্রকাশ ভবিষ্যতে জাতীয় ঐক্যের প্রতীক হতে পারে। সমাধিস্থলটি এখন থেকে সকল ধর্ম, বর্ণ ও রাজনৈতিক মতাদর্শের মানুষের জন্য উন্মুক্ত থাকবে, যা দেশের ঐতিহাসিক ব্যক্তিত্বদের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের একটি নতুন মডেল গড়ে তুলবে।

উন্মুক্তিকরণে উপস্থিত নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা উল্লেখ করেন, ভবিষ্যতে সমাধিস্থলে কোনো অননুমোদিত কার্যকলাপ না ঘটে তা নিশ্চিত করার জন্য নিয়মিত পর্যবেক্ষণ চালু থাকবে। সমাধিস্থলটি এখন একটি ঐতিহাসিক স্মারক হিসেবে কাজ করবে, যেখানে মানুষ তাদের শোক ও স্মৃতিকে শেয়ার করতে পারবে।

এই পদক্ষেপের মাধ্যমে সরকার ও বিরোধী দল উভয়ই দেশের শোকের মুহূর্তে একত্রিত হওয়ার সুযোগ পেয়েছে, যা দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে শান্তি ও সংহতির বার্তা বহন করে। সমাধিস্থলটি উন্মুক্ত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে, ভবিষ্যতে এখানে বিভিন্ন স্মরণীয় অনুষ্ঠান ও জাতীয় দিবসের আয়োজনের সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে।

৬৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিডি প্রতিদিন
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments