১ জানুয়ারি বিকেল প্রায় ১১:৩০ টায়, ঢাকার এক শ্মশানে বেগম খালেদা জিয়ার সমাধি শেষ করার পর, সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ও বিএনপি নেতা লুৎফুজ্জামান বাবর একটি সংবাদ সম্মেলনে র্যাবের ব্যবহার সংক্রান্ত তার অবস্থান স্পষ্ট করেন। তিনি জানান, র্যাব গঠন করা হয়েছিল দেশের নিরাপত্তা রক্ষার উদ্দেশ্যে, তবে তা কোনো রাজনৈতিক স্বার্থে এক ঘণ্টা বা এক দিনও ব্যবহার করা হয়নি।
বাবর উল্লেখ করেন, র্যাবকে রাজনৈতিক কাজে ব্যবহার করা হয়েছে এমন কোনো প্রমাণ নেই এবং এমন অভিযোগ করা অবৈধ। তিনি বলেন, যদি কোনো অনিয়ম করা হতো, তবে বিএনপি নেতাকর্মীদেরও শাস্তি দেওয়া হতো, যা কখনো ঘটেনি। তার মতে, র্যাবের গঠন ও পরিচালনা সম্পূর্ণভাবে নিরাপত্তা সংক্রান্ত চাহিদা পূরণে করা হয়েছিল।
বাবর বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বের গুণাবলীকে প্রশংসা করে বলেন, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় তিনি যে দৃঢ়তা দেখিয়েছিলেন তা অনন্য। তিনি যোগ করেন, আজকের দিনে তিনি সেই গুণাবলী আবার তার পুত্র ও দলের বর্তমান চেয়ারপার্সন তারেক রহমানের মধ্যে খুঁজে পেয়েছেন। বাবর আশা প্রকাশ করেন, জনগণের স্বার্থে একটি নতুন রাষ্ট্র গঠন করতে তারেকের নেতৃত্বে সবাই একত্রিত হবে।
বিবৃতি শেষে বাবর বলেন, তিনি এবং তার দল বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করেছেন এবং তার দেশপ্রেমের উদাহরণ দেখেছেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে তিনি কখনো কোনো আপস করেননি। এই কথা তিনি দেশের ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন।
বিএনপি নেতার এই মন্তব্যের পর, পার্টির অন্যান্য নেতারা র্যাবের ব্যবহার সংক্রান্ত কোনো অতিরিক্ত তথ্য প্রকাশ করেননি। তবে পার্টির অভ্যন্তরে র্যাবের গঠন ও পরিচালনা নিয়ে আলোচনা চলছে, যা ভবিষ্যতে নিরাপত্তা নীতি ও রাজনৈতিক কৌশলকে প্রভাবিত করতে পারে।
বাবরের বক্তব্যের ভিত্তিতে, র্যাবের ব্যবহার সংক্রান্ত কোনো আইনি তদন্তের প্রয়োজনীয়তা এখনো স্পষ্ট হয়নি। তবে তিনি উল্লেখ করেন, যদি কোনো অনিয়মের সন্দেহ উঠে, তবে তা যথাযথ প্রক্রিয়ায় সমাধান করা হবে। এই দৃষ্টিকোণ থেকে র্যাবের কার্যক্রমের স্বচ্ছতা ও দায়িত্বশীলতা নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
বেগম খালেদা জিয়ার সমাধি শেষ করার সময় উপস্থিত সাংবাদিক ও পার্টি কর্মীরা বাবরের এই মন্তব্যকে শোনার পর তীব্র আলোচনায় লিপ্ত হন। কেউ কেউ তার বক্তব্যকে বেগমের স্মৃতির প্রতি সম্মানসূচক হিসেবে গ্রহণ করেন, আবার অন্যরা র্যাবের ব্যবহার নিয়ে প্রশ্ন তুলতে থাকেন।
বাবর শেষ পর্যন্ত বলেন, র্যাবের গঠন ও পরিচালনা সম্পূর্ণভাবে দেশের নিরাপত্তা রক্ষার জন্য করা হয়েছে এবং তা কোনো রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করা হয়নি। তিনি সকলকে আহ্বান জানান, ভবিষ্যতে র্যাবের কার্যক্রমে স্বচ্ছতা বজায় রেখে দেশের স্বার্থে কাজ করা উচিত।
এই বিবৃতি দেশের নিরাপত্তা নীতি ও রাজনৈতিক গতিবিধিতে কী প্রভাব ফেলবে, তা সময়ই প্রকাশ করবে। র্যাবের ব্যবহার সংক্রান্ত ভবিষ্যৎ সিদ্ধান্তে পার্টির অভ্যন্তরীণ সমঝোতা ও জাতীয় নিরাপত্তা সংস্থার দৃষ্টিভঙ্গি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
বাবরের মন্তব্যের পর, রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা র্যাবের ব্যবহার ও নিরাপত্তা নীতির মধ্যে সম্পর্ক নিয়ে বিশ্লেষণ শুরু করেছেন। তারা উল্লেখ করেন, র্যাবের কার্যক্রমের স্বচ্ছতা ও দায়িত্বশীলতা নিশ্চিত করা হলে, দেশের নিরাপত্তা কাঠামো আরও শক্তিশালী হবে।
সর্বশেষে, লুৎফুজ্জামান বাবর র্যাবের রাজনৈতিক ব্যবহার না করার বিষয়টি পুনরায় জোর দিয়ে বলেন, দেশের নিরাপত্তা ও স্বাধীনতা রক্ষায় র্যাবের ভূমিকা অপরিহার্য এবং তা কোনো রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করা উচিত নয়।



