জামায়াত-ই-ইসলামির আমীর শফিকুর রহমান গতকাল ফেসবুকের মাধ্যমে ভারতীয় কূটনীতিকদের সঙ্গে তার সাক্ষাৎ সম্পর্কে মিডিয়ার ভুল ধারণা দূর করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন, সাম্প্রতিক রয়টার্স সাক্ষাৎকারে প্রশ্নের উত্তর হিসেবে তিনি কোনো গোপনীয়তা লুকিয়ে রাখেননি। তার পোস্টে মিডিয়ার ‘গোপন’ সাক্ষাৎ দাবি ভিত্তিহীন বলে তিনি জোর দিয়ে বলছেন।
গত বছর মাঝামাঝি শফিকুর রহমানের স্বাস্থ্যের অবনতি ঘটায় এবং তিনি চিকিৎসা শেষে বাড়ি ফিরে আসেন। তার বাড়িতে দেশীয় ও বিদেশী বহু ভক্ত ও সহকর্মী এসে দেখা করেন। এ সময় বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকও তার বাড়ি পরিদর্শন করেন, যা সাধারণ শিষ্টাচারিক সফর হিসেবে গণ্য হয়।
এদের মধ্যে দুজন ভারতীয় কূটনীতিকও ছিলেন, যাঁরা তার বাড়িতে এসে সাক্ষাৎ করেন। শফিকুর রহমান জানান, তিনি অন্যান্য কূটনীতিকের মতোই তাদের সঙ্গে আলাপ করেন এবং কোনো বিশেষ পার্থক্য দেখেননি। তিনি উল্লেখ করেন, এই দুই কূটনীতিকের সফরও অন্য দেশের প্রতিনিধিদের মতোই স্বাভাবিক ছিল।
সাক্ষাতের সময় তিনি কূটনীতিকদের জানিয়ে দেন যে, সব কূটনৈতিক সফর সাধারণত জনসাধারণের জানার জন্য প্রকাশ করা হয়। তিনি বলেন, ভারতীয় কূটনীতিকদেরও এই নীতি মেনে চলতে অনুরোধ করা হয় এবং তাদের সফরও প্রকাশ করা হবে। তবে ভারতীয় কূটনীতিকরা সফরটি গোপন রাখতে চান বলে জানিয়ে দেন।
শফিকুর রহমান স্পষ্ট করে বলেন, ভবিষ্যতে দুই দেশের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক স্বার্থের কোনো আলোচনাও সর্বসাধারণের জানার জন্য প্রকাশ করা হবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, এই সাক্ষাৎ গোপনীয় নয় এবং মিডিয়ার ‘গোপন’ সাক্ষাৎ রিপোর্টকে তিনি কঠোরভাবে নিন্দা করেন।
একই সাক্ষাৎকারে তিনি স্বীকার করেন, তার বায়াপাস সার্জারির পর এই বছরই তিনি ভারতীয় কূটনীতিকের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। তিনি বলেন, অন্যান্য দেশের কূটনীতিকের মতোই এই সফরটি শিষ্টাচারিক ভিজিট ছিল, তবে ভারতীয় কূটনীতিকের অনুরোধে এটি গোপন রাখা হয়।
শফিকুরের মতে, ভারতীয় কূটনীতিকের গোপনীয়তা চাওয়ার কারণ স্পষ্ট করা হয়নি, তবে তিনি এই অনুরোধকে সম্মান করে সফরটি প্রকাশ না করার প্রতিশ্রুতি দেন। তবুও তিনি জোর দিয়ে বলেন, ভবিষ্যতে কোনো দ্বিপাক্ষিক আলোচনার তথ্য প্রকাশ করা হবে, যাতে জনসাধারণের তথ্যের অধিকার রক্ষা পায়।
এই স্পষ্টিকরণ দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে কিছু প্রভাব ফেলতে পারে। মিডিয়া প্রতিষ্ঠানগুলোকে তথ্য যাচাই করে সঠিকভাবে প্রকাশ করতে আহ্বান জানিয়ে শফিকুর রহমান সাংবাদিকদের সতর্ক করেন, যাতে অযথা গুজব বা ভুল ধারণা না ছড়ায়।
সামগ্রিকভাবে, শফিকুর রহমানের ফেসবুক পোস্ট এবং রয়টার্স সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে দেখা যায়, ভারতীয় কূটনীতিকদের সঙ্গে তার সাক্ষাৎ কোনো গোপনীয়তা বহন করে না এবং ভবিষ্যতে সকল দ্বিপাক্ষিক মিটিং জনসাধারণের জানার জন্য প্রকাশ করা হবে। এই ব্যাখ্যা দেশের রাজনৈতিক আলোচনায় স্বচ্ছতা বজায় রাখতে সহায়ক হবে।



