যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেস হাউস জুডিশিয়ারি কমিটি নতুন বছরের শেষ দিনে ২৫৫ পৃষ্ঠার ট্রান্সক্রিপ্ট প্রকাশ করেছে, যেখানে প্রাক্তন স্পেশাল কাউন্সেল জ্যাক স্মিথের সাক্ষ্য অন্তর্ভুক্ত। স্মিথের সাক্ষ্যটি ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে চালু করা দুইটি অপরাধমূলক তদন্তের পেছনের যুক্তি ব্যাখ্যা করে।
ট্রান্সক্রিপ্টে আইনপ্রণেতাদের প্রশ্ন ও স্মিথের উত্তর রয়েছে, যেখানে তিনি ট্রাম্পের গোপন নথি অবৈধভাবে রাখার অভিযোগ এবং ২০২০ সালের নির্বাচনের ফলাফল বদলানোর প্রচেষ্টার ভিত্তিতে মামলাগুলি চালু করার কারণ তুলে ধরেছেন।
ট্রাম্প উভয় মামলায় দোষ স্বীকার না করার পক্ষে দায়ের করেছেন, এবং তার পুনঃনির্বাচনের পর উভয় মামলাই শেষ হয়ে যায়। পুনঃনির্বাচনের পর থেকে ট্রাম্প সরকারী কর্মকর্তাদের ওপর তদন্তের দাবি জানিয়ে আসছে, যাঁরা তার বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলেন।
প্রকাশিত ডকুমেন্টের পাশাপাশি প্রায় আট ঘণ্টার ভিডিও ডিপোজিশনও অন্তর্ভুক্ত, যা এই মাসের শুরুর দিকে গোপনভাবে নেওয়া হয়েছিল। ভিডিওতে স্মিথের বিস্তৃত ব্যাখ্যা দেখা যায়, যা কংগ্রেসের সদস্যদের জন্য সরাসরি উপস্থাপিত হয়।
স্মিথ উল্লেখ করেন, ট্রাম্পের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা তার নিজস্ব সিদ্ধান্ত ছিল, তবে সেই সিদ্ধান্তের ভিত্তি সম্পূর্ণভাবে ট্রাম্পের কাজের ওপর নির্ভরশীল। তিনি বলেন, তদন্তের সময় প্রমাণ সংগ্রহের ফলে ট্রাম্পের নির্বাচনের ফলাফল বদলানোর পরিকল্পনা এবং ক্ষমতা হস্তান্তর বাধা দেওয়ার ইচ্ছা স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
তদুপরি, স্মিথের দল এমন প্রমাণ পেয়েছে যা দেখায় ট্রাম্প ২০২১ সালের জানুয়ারি থেকে গোপন নথি নিজের সামাজিক ক্লাবের বিভিন্ন স্থানে, যেমন ব্যালরুম ও বাথরুমে সংরক্ষণ করে রেখেছিলেন। এই নথিগুলি উচ্চস্তরের গোপনীয়তা সম্পন্ন ছিল এবং তাদের অননুমোদিত সংরক্ষণ আইনগত লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচিত।
স্মিথ আরও উল্লেখ করেন, ট্রাম্প এই নথিগুলি লুকিয়ে রাখতে এবং তদন্ত থেকে রক্ষা পেতে বারবার ন্যায়বিচার বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেছেন। এই ধরনের আচরণকে তিনি অবৈধ বাধা প্রদান হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।
স্মিথের এই সাক্ষ্য ১৭ ডিসেম্বর নেওয়া হয়। তিনি তখন মেরিক গারল্যান্ডের দ্বারা স্পেশাল কাউন্সেল হিসেবে নিয়োগপ্রাপ্ত ছিলেন, যিনি ট্রাম্পের শ্বেত বাড়ি ফিরে আসার দুই সপ্তাহ আগে পদত্যাগ করেন। গারল্যান্ডের পদত্যাগের পর স্মিথের দায়িত্বে থাকা সময়ে তিনি দুইটি মামলায় পর্যাপ্ত প্রমাণের ভিত্তিতে অভিযোগ আনার সুপারিশ করেন।
স্মিথের রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়, উভয় মামলায় যথেষ্ট প্রমাণ ছিল যা ট্রাম্পের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়েরের জন্য যথেষ্ট। তবে ট্রাম্পের পুনঃনির্বাচনের পর এই মামলাগুলি বন্ধ হয়ে যায়।
এই প্রকাশের ফলে কংগ্রেসের তত্ত্বাবধান ক্ষমতা ও ফেডারেল তদন্তের স্বচ্ছতা নিয়ে আলোচনা তীব্রতর হয়েছে। আইনসভা সদস্যরা স্মিথের সাক্ষ্যকে ভবিষ্যতে সম্ভাব্য আইনগত পদক্ষেপের ভিত্তি হিসেবে ব্যবহার করতে ইচ্ছুক।
বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, ট্রাম্পের বর্তমান প্রশাসন যদি এই মামলাগুলোর পুনরায় খোলার দাবি চালিয়ে যায়, তবে কংগ্রেসের তদারকি ও বিচারিক প্রক্রিয়ার মধ্যে নতুন উত্তেজনা দেখা দিতে পারে। ভবিষ্যতে এই বিষয়টি কীভাবে রূপ নেবে, তা রাজনৈতিক পরিবেশের ওপর নির্ভরশীল।



