26 C
Dhaka
Friday, May 8, 2026
Google search engine
Homeবিনোদনদূরদর্শনে শ্যাম বেনেগালের স্মরণে ৪কে রেস্টোরেশন 'মন্তন' চলচ্চিত্রের বিশেষ প্রদর্শনী

দূরদর্শনে শ্যাম বেনেগালের স্মরণে ৪কে রেস্টোরেশন ‘মন্তন’ চলচ্চিত্রের বিশেষ প্রদর্শনী

দূরদর্শন ১ জানুয়ারি ২০২৫ রাত ৮টায় শ্যাম বেনেগালের স্মরণে ১৯৭৬ সালের ক্লাসিক চলচ্চিত্র ‘মন্তন’এর ৪কে রেস্টোরেশন সংস্করণ বিশেষভাবে উপস্থাপন করবে। এই অনুষ্ঠানটি দেশের টেলিভিশন ইতিহাসে প্রথমবারের মতো পুরনো দৃষ্টান্তকে আধুনিক প্রযুক্তিতে পুনরুজ্জীবিত করে দর্শকের সামনে তুলে ধরবে।

‘মন্তন’এর ৪কে রেস্টোরেশন কাজটি ফিল্ম হেরিটেজ ফাউন্ডেশন (FHF) পরিচালিত করেছে। ফাউন্ডেশনটি চলচ্চিত্রের মূল নেগেটিভ থেকে রঙ, শব্দ ও চিত্রের গুণমান পুনরুদ্ধার করে আন্তর্জাতিক মানের রেস্টোরেশন সম্পন্ন করেছে।

এই রেস্টোরেশন সংস্করণটি ২০২৪ সালে কান্নে ক্লাসিক সেকশনে প্রদর্শিত হয়েছিল, যেখানে চলচ্চিত্রের ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক মূল্যকে আন্তর্জাতিক সমালোচকরা স্বীকৃতি দিয়েছেন। কান্নের মঞ্চে ‘মন্তন’কে পুনরায় দেখা দর্শকদের মধ্যে পুরনো স্মৃতি ও নতুন প্রশংসা উভয়ই জাগ্রত করেছে।

রেস্টোরেশন প্রকল্পের আর্থিক সহায়তা গুজরাট কো-অপারেটিভ মিল্ক মার্কেটিং ফেডারেশন লিমিটেড (অমুল) থেকে এসেছে। অমুলের কৃষক সদস্যরা মূল চলচ্চিত্রের উৎপাদনে অংশগ্রহণকারী ৫ লক্ষ গুজরাট কৃষককে সমর্থন করেছিল, যা চলচ্চিত্রের সামাজিক ভিত্তি গড়ে তুলেছিল।

ফিল্ম হেরিটেজ ফাউন্ডেশন তাদের অফিসিয়াল টুইটার (X) পেজে এই বিশেষ স্ক্রিনিংয়ের তারিখ নিশ্চিত করেছে। পোস্টে উল্লেখ করা হয়েছে যে এই প্রদর্শনীটি বেনেগালের চলচ্চিত্রিক অবদানের প্রতি সম্মানসূচক একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।

২০২৪ আন্তর্জাতিক কো-অপারেটিভসের বছর হিসেবে ঘোষিত হয়েছে; এই প্রেক্ষাপটে ‘মন্তন’কে পুনরায় দেখা কো-অপারেটিভ আন্দোলনের ঐতিহ্যকে স্মরণ করার একটি সুযোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে। চলচ্চিত্রটি গুজরাটের দুধ শিল্পের উত্থানকে কেন্দ্র করে তৈরি, যা দেশের দুধ উৎপাদনে বৈশ্বিক শীর্ষে পৌঁছাতে সহায়তা করেছে।

‘মন্তন’ মূলত দুধ বিপ্লবের গল্পকে চিত্রায়িত করে, যেখানে একটি গ্রামীণ পশু চিকিৎসক গিরিশ কর্ণাদের ভূমিকায় গ্রামের কৃষকদের সমবায় গঠন করতে সাহায্য করেন। এই সমবায়ের মাধ্যমে তারা শোষণকারী কাঠামো থেকে মুক্তি পেয়ে স্বনির্ভরতা অর্জন করে।

চলচ্চিত্রের কাহিনী বাস্তব ঘটনার উপর ভিত্তি করে, যেখানে ড. ভার্গিস কুরিয়েনের নেতৃত্বে চালু হওয়া হোয়াইট রেভোলিউশনকে কেন্দ্র করে দুধ উৎপাদন ও বিতরণে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়। গিরিশ কর্ণাদের চরিত্রটি এই পরিবর্তনের প্রতীক হিসেবে কাজ করে, যা গ্রামীণ সমাজের উন্নয়নে সমবায়ের শক্তি তুলে ধরে।

‘মন্তন’এর মূল উৎপাদন খরচ গুজরাটের অর্ধ মিলিয়ন কৃষক প্রত্যেকের দুই টাকা দান দিয়ে সংগ্রহ করা হয়েছিল। এই সমষ্টিগত আর্থিক সহায়তা চলচ্চিত্রকে একটি সামাজিক প্রকল্পে রূপান্তরিত করে, যা সমবায়ের ঐক্য ও স্বনির্ভরতার মূর্ত প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে।

শিল্পের দৃষ্টিকোণ থেকে ‘মন্তন’কে সমবায়ের আত্মা ও ভারতীয় চলচ্চিত্রের নৈতিক দায়িত্বের উদাহরণ হিসেবে গণ্য করা হয়। আজকের তরুণ নির্মাতারা এই চলচ্চিত্রকে অনুপ্রেরণার উৎস হিসেবে উল্লেখ করে, যা সামাজিক পরিবর্তনের জন্য সৃজনশীলতা ও সমবায়ের সমন্বয়কে তুলে ধরে।

শিল্পের বিশাল ব্যক্তিত্ব শ্যাম বেনেগাল ২৩ ডিসেম্বর ২০২৪ তারিখে ৯০ বছর বয়সে পরলোকগমন করেন। তার কর্মজীবন ও দৃষ্টিভঙ্গি ভারতীয় সিনেমার ইতিহাসে অম্লান ছাপ রেখে গেছে, এবং ‘মন্তন’এর পুনর্নবীকরণ তার স্মৃতিকে নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।

দূরদর্শনের এই বিশেষ স্ক্রিনিংটি সকল সিনেমা প্রেমিক ও সমবায়ের সমর্থকদের জন্য একটি স্মরণীয় অভিজ্ঞতা হতে পারে। চলচ্চিত্রটি পুনরায় দেখা কেবল অতীতের স্মৃতি জাগ্রত করবে না, বরং সমবায়ের মূল্যবোধকে আধুনিক সমাজে পুনরায় প্রতিষ্ঠা করার আহ্বান জানাবে।

৬৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: Bollywood Hungama
বিনোদন প্রতিবেদক
বিনোদন প্রতিবেদক
AI-powered বিনোদন content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments