গ্লোবাল পারফেকশন হোল্ডিংস (GPH) ইস্পাত লিমিটেড গতকাল তার ১৯তম বার্ষিক সাধারণ সভা (AGM)‑এ ২০২৪‑২৫ আর্থিক বছরের জন্য ৫ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ অনুমোদন করেছে। সভা ভার্চুয়াল প্ল্যাটফর্মে অনুষ্ঠিত হওয়ায় শেয়ারহোল্ডারদের অংশগ্রহণ সহজ হয়েছে এবং কোম্পানি একটি প্রেস রিলিজের মাধ্যমে এই সিদ্ধান্তের তথ্য প্রকাশ করেছে।
সভার প্রধান অতিথি হিসেবে চেয়ারম্যান মোঃ আলমগীর কবির উপস্থিতি ছিলেন এবং তিনি সভার সূচনা করেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, FY2024‑25 সময়কালে দেশীয় অর্থনীতিতে অস্থিরতা, ব্যাংক সুদের হার বৃদ্ধি এবং মুদ্রাস্ফীতি সহ বেশ কয়েকটি চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হয়েছে। তবুও, GPH ইস্পাত উৎপাদন দক্ষতা বাড়ানো, ব্যয় নিয়ন্ত্রণ এবং পণ্যের গুণগত মান বজায় রাখার দিকে মনোযোগ কেন্দ্রীভূত করেছে।
চেয়ারম্যানের বক্তব্যে আরও জোর দেওয়া হয়েছে যে, কোম্পানি গবেষণা ও উন্নয়ন, উদ্ভাবন, গুণমান নিশ্চিতকরণ এবং গ্রাহক সন্তুষ্টি ক্ষেত্রে বিনিয়োগ অব্যাহত রাখবে। এসব উদ্যোগের লক্ষ্য দীর্ঘমেয়াদী টেকসই বৃদ্ধি এবং শেয়ারহোল্ডারদের জন্য মূল্য সৃষ্টির ভিত্তি গড়ে তোলা।
সভাটি কোম্পানি সেক্রেটারি মোঃ মোশাররফ হোসেনের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হয়। তিনি সভার রেকর্ড বজায় রেখে সকল প্রস্তাবনা ও ভোটের ফলাফল নথিভুক্ত করেন।
গোষ্ঠী চেয়ারম্যান ও ম্যানেজিং ডিরেক্টর মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম কোম্পানির আর্থিক ফলাফল সংক্ষেপে উপস্থাপন করেন। তিনি জানান, সরকারী প্রকল্পের বন্ধ হওয়া এবং বেসরকারি ও আধা-সরকারি খাতে নির্মাণ ও অবকাঠামো কাজের ধীরগতি দেশের নির্মাণ সামগ্রীর চাহিদা, বিশেষ করে এমএস রডের চাহিদা হ্রাস করেছে। এই পরিস্থিতি শিল্পের সকল উৎপাদনকারীকে কঠিন অবস্থায় ফেলেছে।
সভায় অতিরিক্ত ম্যানেজিং ডিরেক্টর মোহাম্মদ আলমাস শিমুল, অন্যান্য পরিচালক মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান, মোঃ আবদুল আহাদ, মোঃ আজিজুল হক, সাদমান সিকা সেফা, সেলহিন মুসফিক সাদাফ, আলি মোহাম্মদ সাদি সাজ্জেদ এবং স্বাধীন পরিচালক সাফিয়ুল আলম খান চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন। গোষ্ঠী সিইও মুক্তার হোসেন তালুকদার, এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর (ফাইন্যান্স ও বিজনেস ডেভেলপমেন্ট) কামরুল ইসলাম এবং গোষ্ঠী সিএফও এইচএম আশরাফ‑উজ‑জামান সহ অন্যান্য উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাও সভায় অংশ নেন।
এই লভ্যাংশ ঘোষণার ফলে শেয়ার বাজারে GPH ইস্পাতের শেয়ার মূল্যে ইতিবাচক প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা দেখা যায়। নগদ লভ্যাংশ শেয়ারহোল্ডারদের আয় বাড়ানোর পাশাপাশি কোম্পানির আর্থিক স্বাস্থ্যের সূচক হিসেবে কাজ করবে। তবে নির্মাণ সামগ্রীর চাহিদা হ্রাস এবং মুদ্রাস্ফীতির চাপ অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে লাভের মার্জিন সংকুচিত হতে পারে। তাই বিনিয়োগকারীদের জন্য কোম্পানির খরচ নিয়ন্ত্রণ এবং নতুন বাজার অনুসন্ধানের কৌশলগুলোকে ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করা গুরুত্বপূর্ণ।



