ইরান সরকার তার যুদ্ধকক্ষকে সম্পূর্ণ সক্রিয় অবস্থায় চালু করেছে এবং কোনো মুহূর্তে শত্রুর যেকোনো আক্রমণের কঠোর জবাব দেওয়ার জন্য তেহরান সম্পূর্ণ প্রস্তুত বলে জানিয়েছে। এই তথ্য ইরানের সংসদীয় জাতীয় নিরাপত্তা ও বৈদেশিক নীতি বিষয়ক কমিটির মুখপাত্র ইব্রাহিম রেজায়ি প্রকাশ করেছেন, যিনি ইরান সরকার কর্তৃক গৃহীত সামরিক পদক্ষেপের বিশদ ব্যাখ্যা দিয়েছেন।
কমিটিতে উপস্থিত ইসলামি বিপ্লবী গার্ডের কোর আইআরজিসি-র এয়ারস্পেস ফোর্সের উর্ধ্বতন কমান্ডারও মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান নিরাপত্তা পরিস্থিতি, আঞ্চলিক উন্নয়ন এবং সামরিক মোতায়েন সংক্রান্ত তথ্য উপস্থাপন করেন। তিনি উল্লেখ করেন যে তেহরান তার প্রতিপক্ষ দেশগুলোর গতিবিধি পর্যবেক্ষণে উচ্চমাত্রার গোয়েন্দা নজরদারি বজায় রাখছে।
বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের নীতি ও পদক্ষেপের প্রতি ইরানি কমান্ডার সতর্কতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ওয়াশিংটন যদি হঠাৎ কোনো সামরিক সিদ্ধান্ত নেয় বা আক্রমণ চালায়, তবে তা একটি বৃহত্তর আঞ্চলিক সংঘাতে রূপ নিতে পারে, যেখানে ইরান সরকারকে কৌশলগত সুবিধা অর্জনের সুযোগ হবে। এই বিবৃতি ইরানের সামরিক কৌশলে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য হস্তক্ষেপকে একটি ঝুঁকি এবং একইসাথে সুযোগ হিসেবে দেখায়।
ইরান সরকার এই অবস্থানকে তার সামগ্রিক নিরাপত্তা নীতির অংশ হিসেবে তুলে ধরেছে, যেখানে যুদ্ধকক্ষের পূর্ণ সক্রিয়তা দেশের প্রতিরক্ষা ক্ষমতা এবং দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণের সক্ষমতা বাড়ায়। তেহরানের এই প্রস্তুতি আঞ্চলিক শক্তি ভারসাম্যকে প্রভাবিত করতে পারে, বিশেষ করে সিরিয়া, ইরাক এবং লেবাননের মতো প্রতিবেশী দেশে চলমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে।
আঞ্চলিক বিশ্লেষকরা ইরানের এই পদক্ষেপকে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিবেশে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হিসেবে ব্যাখ্যা করছেন। তারা উল্লেখ করেন যে, যুদ্ধকক্ষের সক্রিয়তা ইরানকে তার কূটনৈতিক ও সামরিক নীতি সমন্বয় করতে সহায়তা করবে, যাতে কোনো বহিরাগত হস্তক্ষেপের ক্ষেত্রে দ্রুত ও সমন্বিত প্রতিক্রিয়া জানানো যায়।
ইরান সরকার এই সময়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে সংলাপ বজায় রাখার পাশাপাশি তার নিরাপত্তা কাঠামোকে শক্তিশালী করার দিকে মনোযোগ দিচ্ছে। তেহরানের সামরিক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা জোর দিয়ে বলেন যে, ইরান কোনো হুমকিকে হালকাভাবে নেবে না এবং তার জাতীয় স্বার্থ রক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
এই ঘোষণার পর, পার্শ্ববর্তী দেশগুলোতে নিরাপত্তা সংক্রান্ত সতর্কতা বৃদ্ধি পেয়েছে এবং কূটনৈতিক চ্যানেলগুলোতে সম্ভাব্য উত্তেজনা নিয়ন্ত্রণের জন্য আলোচনা চালু হয়েছে। ইরান সরকার এবং তার পার্টনার দেশগুলো এই পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে ভবিষ্যৎ কৌশল নির্ধারণের জন্য সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণের প্রস্তুতি নিচ্ছে।
সারসংক্ষেপে, ইরান সরকার তার যুদ্ধকক্ষকে সর্বোচ্চ কার্যকর অবস্থায় রাখার মাধ্যমে আঞ্চলিক নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জের মোকাবিলায় প্রস্তুত হয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য হস্তক্ষেপকে কৌশলগত সুযোগ হিসেবে বিবেচনা করছে। এই অবস্থান ইরানের সামরিক নীতি এবং মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক নিরাপত্তা গতিবিধিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে।



