সঙ্গীত শিল্পী নিকি মিনাজ গ্র্যামি অনুষ্ঠানের হোস্ট ট্রেভর নোয়ার দ্বারা তার ডোনাল্ড ট্রাম্প সমর্থন ও অনুষ্ঠানে অনুপস্থিতি নিয়ে করা রসিকতার প্রতিক্রিয়া এক্সে প্রকাশ করেন। সোমবার সকালে তিনি নিজের এক্স অ্যাকাউন্টে ধর্মীয় ভিত্তিক একটি বার্তা পোস্ট করে উল্লেখ করেন যে ঈশ্বরের নামের প্রতি অবমাননা স্বয়ংক্রিয়ভাবে ব্যর্থ হবে। এই মন্তব্যের সঙ্গে তিনি যেসব শব্দ ব্যবহার করেছেন তা রাজনৈতিক ও ধর্মীয় উভয় দিকেই আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।
গ্র্যামি অনুষ্ঠানের উদ্বোধনী অংশে নোয়া, ক্রিপ্টো.কম আরেনা মঞ্চে উপস্থিত সঙ্গীত দিগন্তের ব্যক্তিত্বদের পরিচয় করিয়ে দিয়ে হঠাৎই নিকি মিনাজের অনুপস্থিতি নিয়ে রসিকতা করেন। তিনি বলেছিলেন, “নিকি মিনাজ এখানে নেই, তিনি এখনও হোয়াইট হাউসে ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা করছেন।” এই বাক্যটি সরাসরি তার উপস্থিতি না থাকা এবং প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বৈঠকের ইঙ্গিত দেয়।
এরপর নোয়া ডোনাল্ড ট্রাম্পের অনুকরণে একটি সংলাপ উপস্থাপন করেন, যেখানে তিনি “আমার সবচেয়ে বড় পেছনের অংশ আছে” বলে হাস্যকরভাবে WAP গানের লাইন পুনরাবৃত্তি করেন। এই অংশটি নোয়ার রসিকতা শৈলীর একটি উদাহরণ, যা গ্র্যামি দর্শকদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া উস্কে দেয়। নোয়া এই রসিকতা দিয়ে মিনাজের রাজনৈতিক অবস্থানকে হালকা ভাবে ব্যঙ্গ করার চেষ্টা করেন।
ট্রেভর নোয়া গ্র্যামি অনুষ্ঠানের ছয়টি হোস্টিং শেষ করে এই বছর শেষ করেন, এবং তার শেষ পারফরম্যান্সে রাজনৈতিক বিষয়গুলো পুনরায় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে আসে। ৬৮তম গ্র্যামি পুরস্কার বিতরণে দেশীয় রাজনৈতিক উত্তেজনা বারবার উঠে আসে, যেখানে বিজয়ীরা পুরস্কার গ্রহণের সময় বা পরের সাক্ষাৎকারে রাজনৈতিক মন্তব্য করেন। এই পরিবেশে নোয়ার রসিকতা এবং মিনাজের প্রতিক্রিয়া উভয়ই মিডিয়ার দৃষ্টি আকর্ষণ করে।
নিকি মিনাজের ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রতি সমর্থন প্রথম প্রকাশ পায় ডিসেম্বর মাসে টার্নিং পয়েন্ট ইউএসএ’র আমেরিকাফেস্টে। ঐ অনুষ্ঠানে তিনি সংগঠনের সিইও এরিকা কির্ক এবং চার্লি কির্কের বিধুরা সঙ্গে কথা বলেন এবং প্রেসিডেন্টের প্রতি “সর্বোচ্চ সম্মান ও প্রশংসা” প্রকাশ করেন। তিনি উল্লেখ করেন, প্রেসিডেন্টের নীতি অনেকের জন্য আশা জাগিয়ে তুলেছে, যদিও তিনি জানেন না প্রেসিডেন্ট নিজে এই কথা শুনেছেন কিনা।
মিনাজের এই মন্তব্যের পর কিছু মিডিয়া এবং সামাজিক নেটওয়ার্কে সমালোচনা ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে তাকে রাজনৈতিক বিতর্কে জড়িয়ে পড়ার জন্য সমালোচনা করা হয়। তবে তার সমর্থকরা বলেন, শিল্পী হিসেবে তার মতামত প্রকাশের অধিকার রয়েছে এবং তিনি তার বিশ্বাসের ভিত্তিতে কথা বলছেন। এই বিতর্কের মধ্যে নোয়ার রসিকতা এবং মিনাজের ধর্মীয় মন্তব্য দুটোই আলাদা আলাদা আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়ায়।
সোমবার সকালে নিকি মিনাজ এক্সে একটি দীর্ঘ পোস্ট শেয়ার করেন, যেখানে তিনি ঈশ্বরের সর্বশক্তিময় উপস্থিতি সম্পর্কে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, আজ রাতে যে রীতি পালন করা হবে, তার ফলাফল স্বয়ংক্রিয়ভাবে রীতিকারীদের ওপর ফিরে আসবে এবং ঈশ্বরের নামের অবমাননা করা যাবে না। তিনি আরও যোগ করেন, যেকোনো ভাষা যা তার বিরুদ্ধে বিচার করবে, তা শাস্তি পাবে এবং লজ্জিত হবে।
মিনাজের পোস্টে তিনি “মহান যীশু খ্রিস্টের নামের আশীর্বাদ” উল্লেখ করে ধর্মীয় শক্তি ও সুরক্ষার কথা বলেন। তিনি বিশ্বাস প্রকাশ করেন যে ঈশ্বরের ন্যায়বিচার অবশেষে প্রকাশ পাবে এবং যারা তাকে অপমান করবে তারা শাস্তি পাবে। এই ধরনের ধর্মীয় ভাষা তার পূর্বের রাজনৈতিক মন্তব্যের সঙ্গে মিশে একটি জটিল চিত্র তৈরি করে।
গ্র্যামি অনুষ্ঠানের রসিকতা এবং মিনাজের ধর্মীয় প্রতিক্রিয়া উভয়ই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি করে। অনেক ব্যবহারকারী নোয়ার রসিকতাকে অপ্রয়োজনীয় ও আক্রমণাত্মক বলে সমালোচনা করেন, আবার অন্যরা তার হাস্যরসকে স্বাগত জানান। একই সময়ে মিনাজের ধর্মীয় বার্তা কিছু ধর্মীয় গোষ্ঠীর সমর্থন পায়, যেখানে অন্যরা তা রাজনৈতিক আক্রমণ হিসেবে দেখেন।
এই ঘটনার পর মিডিয়া বিশ্লেষকরা মন্তব্য করেন যে, গ্র্যামি মতো বড় আন্তর্জাতিক অনুষ্ঠানে রাজনৈতিক ও ধর্মীয় বিষয়ের মিশ্রণ দর্শকদের মধ্যে বিভাজন বাড়াতে পারে। তারা উল্লেখ করেন, শিল্পী ও হোস্ট উভয়েরই দায়িত্ব আছে যে তারা কীভাবে তাদের শব্দ ব্যবহার করে তা বিবেচনা করা উচিত। বিশেষ করে যখন বিশ্বব্যাপী রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়ছে, তখন বিনোদন শিল্পের ভূমিকা আরও সংবেদনশীল হয়ে ওঠে।
নতুন বছরের শুরুতে এই বিতর্কের ফলে নিকি মিনাজের সামাজিক মিডিয়া অনুসারী সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে, এবং তার এক্স পোস্টের মন্তব্যে বিভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। একই সঙ্গে ট্রেভর নোয়ার গ্র্যামি হোস্টিং শেষ হওয়ায় তার ভবিষ্যৎ প্রকল্প এবং রসিকতা শৈলীর ওপরও প্রশ্ন তোলা হয়েছে। উভয়ই এখন তাদের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে নজর দিচ্ছেন, যেখানে দর্শকরা তাদের বক্তব্যের প্রভাবকে ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করবে।
সারসংক্ষেপে, নিকি মিনাজের ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রতি সমর্থন এবং ট্রেভর নোয়ার গ্র্যামি রসিকতা উভয়ই বর্তমান রাজনৈতিক ও ধর্মীয় পরিবেশে নতুন আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। মিনাজের এক্সে প্রকাশিত ধর্মীয় বার্তা এবং নোয়ার রসিকতা উভয়ই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা ও বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়ে গেছে। ভবিষ্যতে এই ধরনের প্রকাশনা কীভাবে গ্রহণ করা হবে তা সময়ই নির্ধারণ করবে।



