আগস্ট ৫, ২০২৪ থেকে ডিসেম্বর ৩১, ২০২৪ পর্যন্ত ১৭ মাসে দেশের বিভিন্ন মাজারে ৯৭টি হামলা নিশ্চিত করা হয়েছে। এই ঘটনাগুলোর মধ্যে ৩ জনের মৃত্যু এবং ৪৬৮ জনের শারীরিক আঘাতের রেকর্ড রয়েছে। মাজারের নিরাপত্তা ও ধর্মীয় শান্তি রক্ষার জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাগুলো তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে।
সুফি সমাজকেন্দ্রিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘মাকাম: সেন্টার ফর সুফি হেরিটেজ’ এই তথ্য প্রকাশ করেছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, জুলাই ২০২৩-এ গণ-অভ্যুত্থানের পর থেকে সারা দেশে ১৩৪টি মাজারে হামলার খবর পাওয়া গিয়েছিল, তবে তদন্তে ৯৭টি মাজারে সরাসরি হামলার প্রমাণ পাওয়া গেছে। অবশিষ্ট ৩৭টি মামলায় প্রমাণের অভাব এবং ৬টি গুজব হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
হামলার ভৌগোলিক বণ্টন দেখায়, আটটি বিভাগে মোট ৯৭টি ঘটনা ঘটেছে। ঢাকায় ৩৬টি, চট্টগ্রামে ২৮টি, সিলেটে ৯টি, ময়মনসিংহে ৮টি, রাজশাহীতে ৬টি, খুলনায় ৫টি, রংপুরে ৩টি এবং বরিশালে ২টি মাজারে হামলা হয়েছে। জেলার স্তরে কুমিল্লা সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, যেখানে ১৭টি মাজারে আক্রমণ ঘটেছে; নরসিংদীতে ১০টি এবং ঢাকার শহর এলাকায় ৯টি মাজারে হামলা রেকর্ড হয়েছে।
হামলার পেছনের প্রেরণা বিশ্লেষণে দেখা যায়, ৫৯টি ঘটনা ধর্মীয় মতবিরোধের কারণে, ২১টি স্থানীয় বিরোধ, ১৬টি রাজনৈতিক প্রতিহিংসা এবং একটিতে পারিবারিক দ্বন্দ্বের সূত্র পাওয়া গেছে। এই তথ্য থেকে স্পষ্ট যে অধিকাংশ আক্রমণ ধর্মীয় ও সামাজিক উত্তেজনার সঙ্গে যুক্ত।
রাজনৈতিক সংযোগের দিক থেকে, ১৩টি হামলায় ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশের স্থানীয় নেতা, কর্মী ও সমর্থকদের অংশগ্রহণের প্রমাণ পাওয়া গেছে। এছাড়া, ৪টি ক্ষেত্রে বিএনপি, ৪টি ক্ষেত্রে জামায়াত-এ-ইসলামি, ২টি ক্ষেত্রে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ, ১টি ক্ষেত্রে জাতীয় নাগরিক দল এবং আরেকটি ক্ষেত্রে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের নেতা-কর্মীদের জড়িত থাকার তথ্য মাকামের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
মাজারে হামলার ফলে মোট ৩ জনের মৃত্যু হয়েছে, যার মধ্যে ২ জন ঢাকায় এবং ১ জন ময়মনসিংহে নিহত হয়েছেন। আহতদের সংখ্যা ৪৬৮, যেখানে চট্টগ্রাম বিভাগে ৩১ জন, ঢাকা বিভাগে ১৮০ জন, ময়মনসিংহে ১৫৩ জন, সিলেটে ৪৪ জন, বরিশালে ৩৭ জন এবং খুলনায় ২৩ জন আহত হয়েছে। এই সংখ্যাগুলো স্থানীয় হাসপাতাল ও চিকিৎসা কেন্দ্রে ভর্তি রোগীর তালিকায় প্রতিফলিত হয়েছে।
হামলার সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট বিভাগীয় পুলিশ ও ডিভিশন হেডকোয়ার্টারগুলো ঘটনাস্থলে দ্রুত পৌঁছিয়ে তদন্ত শুরু করেছে এবং প্রমাণ সংগ্রহে সক্রিয়ভাবে কাজ করছে। বর্তমানে সন্দেহভাজনদের গ্রেফতার ও আইনি প্রক্রিয়া চালু রয়েছে, এবং মামলাগুলো আদালতে উপস্থাপনের জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছে।
মাকাম এই প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে, ভবিষ্যতে মাজারের নিরাপত্তা বাড়াতে স্থানীয় প্রশাসন, ধর্মীয় সংস্থা এবং সম্প্রদায়ের মধ্যে সমন্বিত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রয়োজনীয়তা জোর দিয়ে বলা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাগুলোও মাজারের আশেপাশে পর্যবেক্ষণ বাড়িয়ে, সম্ভাব্য হুমকি সনাক্ত করে দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানাতে প্রস্তুত রয়েছে।
সারসংক্ষেপে, গত ১৭ মাসে ৯৭টি মাজারে হামলা ঘটেছে, যার ফলে ৩ জনের মৃত্যু এবং ৪৬৮ জনের শারীরিক ক্ষতি হয়েছে। ধর্মীয় মতবিরোধ, স্থানীয় বিরোধ এবং রাজনৈতিক প্রতিহিংসা প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। তদন্ত চলমান এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ত্বরিত পদক্ষেপের মাধ্যমে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা রোধের চেষ্টা করা হবে।



