ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সৈয়দ আব্বাস আরাগচি রোববার সিএনএনকে সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্ভাব্য যুদ্ধে ইরান কোনো ভয় অনুভব করছে না। তার মূল উদ্বেগ হল এমন গোষ্ঠী ও স্বার্থান্বেষী মহল, যারা ইরান ও মার্কিন সরকারকে সরাসরি সংঘাতে টেনে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে। তিনি যুক্তি দেন, যুদ্ধের বদলে ইরান‑সংক্রান্ত মার্কিন নীতির গঠন প্রক্রিয়াই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
আরাগচি উল্লেখ করেন, তিনি যুদ্ধ নিয়ে উদ্বিগ্ন নন; বরং মার্কিন সরকার ইরান বিষয়ক তথ্যের যথাযথ মূল্যায়ন না করা এবং অসম্পূর্ণ তথ্যের ওপর নির্ভর করা নিয়ে উদ্বিগ্ন। তিনি বলেন, কিছু স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী কেবল নিজের স্বার্থে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে যুদ্ধের পথে ঠেলে দিতে চায়। এ ধরনের প্রভাব থেকে মুক্ত হয়ে ট্রাম্প স্বতন্ত্রভাবে সিদ্ধান্ত নিলে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের উন্নতি সম্ভব হবে।
সংলাপের শর্ত হিসেবে আরাগচি পারস্পরিক আস্থাকে মূল দাবি হিসেবে তুলে ধরেছেন। তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমান সময়ে ইরান মার্কিন সরকারের ওপরের আস্থা হারিয়ে ফেলেছে, ফলে কোনো অর্থবহ আলোচনার ভিত্তি দুর্বল। আস্থা পুনর্গঠন ছাড়া কোনো সংলাপের সূচনা সম্ভব নয়।
কয়েকটি মিত্র দেশ ইরান ও মার্কিন সরকারের মধ্যে মধ্যস্থতা করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। আরাগচি স্বীকার করেন, এই দেশগুলো পারস্পরিক আত্মবিশ্বাস গড়ে তোলার উদ্যোগ নিচ্ছে, যদিও পরিস্থিতি জটিল। তিনি যোগ করেন, যদি মার্কিন আলোচনাকারী দল ন্যায়সঙ্গত ও সুষ্ঠু সমঝোতা প্রস্তাব নিয়ে আসে, তবে পুনরায় আলোচনার দরজা খুলে যাবে।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন, ইরান কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির পরিকল্পনা করেনি এবং ভবিষ্যতেও করবে না। তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের “নো নিউক্লিয়ার উইপন” নীতির সঙ্গে ইরানের সম্পূর্ণ একমততা প্রকাশ করেন। এই অবস্থান ইরানের পারমাণবিক নীতি ও আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা সংক্রান্ত আলোচনার ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে।
আরাগচি যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য সামরিক আক্রমণ নিয়ে সতর্কতা প্রকাশ করেন। তিনি উল্লেখ করেন, গত বছর জুনে ইরান ও ইসরায়েল মধ্যে ১২ দিনের সংঘাতের সময় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের হস্তক্ষেপের ফলে যুদ্ধের পরিসর বিস্তৃত হতে পারত না। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, ভবিষ্যতে কোনো হঠাৎ সামরিক পদক্ষেপের ঝুঁকি এখনও বিদ্যমান।
মার্কিন সরকারের সঙ্গে সংলাপের জন্য আরাগচি প্রথমে আস্থার সংকট দূর করার আহ্বান জানান। তিনি বিশ্বাস করেন, আস্থা পুনর্স্থাপনের পরই পারস্পরিক স্বার্থের ভিত্তিতে আলোচনা এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে। এদিকে, ইরান আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সমর্থন ও মধ্যস্থতা প্রচেষ্টাকে স্বাগত জানাচ্ছে, যাতে দ্বিপাক্ষিক উত্তেজনা কমে এবং স্থিতিশীলতা বজায় থাকে।
সারসংক্ষেপে, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী যুদ্ধের সম্ভাবনা নিয়ে উদ্বিগ্ন নয়, বরং তথ্যের বিকৃতি, স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠীর প্রভাব এবং মার্কিন সরকারের আস্থার অভাবকে প্রধান ঝুঁকি হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। তিনি যুক্তি দেন, যদি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র স্বচ্ছ ও ন্যায়সঙ্গত প্রস্তাব নিয়ে আসে, তবে ইরান পুনরায় সংলাপের পথে অগ্রসর হতে ইচ্ছুক। এই অবস্থান ভবিষ্যতে ইরান‑মার্কিন সম্পর্কের দিকনির্দেশনা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।



