ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) সর্বশেষ গবেষণা প্রতিবেদনে প্রকাশিত হয়েছে যে, জুলাই ২০২২-এ ঘটিত গণ-অভ্যুত্থানের সময় শীর্ষ রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের ওপর মোট ৬৬৩টি মামলা শ্রীমতি শেখ হাসিনার নামে দায়ের হয়েছে, যার মধ্যে ৪৫৩টি হত্যার অভিযোগ। এই তথ্যটি টিআইবি ধানমন্ডি কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত “কর্তৃত্ববাদ পতন-পরবর্তী দেড় বছর: প্রত্যাশা ও প্রাপ্তি” শীর্ষক অনুষ্ঠানে উপস্থাপিত হয়।
প্রতিবেদন অনুসারে, উত্থানের সঙ্গে যুক্ত সকল ঘটনার জন্য দেশব্যাপী ১,৭৮৫টি মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং ২০২৫ সালের ১৯ নভেম্বর পর্যন্ত এই মামলাগুলোর অগ্রগতি, চ্যালেঞ্জ ও সীমাবদ্ধতা বিশ্লেষণ করা হয়েছে। মোট ৮৩৭টি হত্যার মামলা রেকর্ডে রয়েছে, যার মধ্যে ৪৫৩টি মামলায় শ্রীমতি শেখ হাসিনাকে সরাসরি অভিযুক্ত করা হয়েছে।
উক্ত মামলাগুলোর মধ্যে ইতিমধ্যে একটি মানবতাবিরোধী অপরাধের জন্য শ্রীমতি হাসিনার বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের রায় দেওয়া হয়েছে। তদুপরি, ভারতীয় সীমান্তে পালিয়ে গিয়ে শ্রীমতি হাসিনার ওপর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। টিআইবি জানায়, এখন পর্যন্ত ১০৬টি মামলায় অভিযোগপত্র দাখিল হয়েছে, যার মধ্যে ৩১টি হত্যার অভিযোগ।
এই মামলাগুলোর মধ্যে আওয়ামী লীগ সরকারের মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যসহ ১২৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে টিআইবি উল্লেখ করেছে যে, অভিযোগপত্রের সংখ্যা ও দায়েরকৃত মামলার সংখ্যার মধ্যে বড় পার্থক্য রয়েছে, যা তদন্তের ধীরগতির ইঙ্গিত দেয়।
পুলিশকেও উত্থানের পরিপ্রেক্ষিতে ব্যাপক আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে দাঁড়াতে হয়েছে। টিআইবি রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে যে, পুলিশের বিরুদ্ধে মোট ৭৬১টি মামলা দায়ের হয়েছে, যার ফলে ১,১৬৮ জন পুলিশ সদস্যকে অভিযুক্ত করা হয়েছে, তবে কেবল ৬১ জনই গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত ৪৫০টি অভিযোগ দাখিল হয়েছে, যার মধ্যে ৪৫টি মামলায় বিচার চলছে। এসব মামলায় মোট ২০৯ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে, যার মধ্যে শ্রীমতি শেখ হাসিনাও অন্তর্ভুক্ত। এ পর্যন্ত ৮৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং বর্তমানে ট্রাইব্যুনালে ১২টি মামলা বিচারাধীন, যেখানে মোট ১০৫ জন অভিযুক্তের উপস্থিতি প্রত্যাশিত।
প্রতিবেদনটি আরও জানায় যে, বহু অভিযুক্ত গোপনে দেশত্যাগ করেছেন এবং তাদের দেশত্যাগে সেনাবাহিনী, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের সহায়তা পাওয়া গেছে বলে অভিযোগ তোলা হয়েছে। এই ধরনের সহায়তা উত্থানের পরপরই নিরাপত্তা কাঠামোর দুর্বলতা ও রাজনৈতিক প্রভাবকে উন্মোচিত করেছে।
টিআইবি বিশ্লেষণ করে উল্লেখ করেছে যে, মামলার সংখ্যা ও গ্রেপ্তারির অনুপাতের পার্থক্য ভবিষ্যতে আইনি প্রক্রিয়ার গতি ও স্বচ্ছতার ওপর প্রশ্ন তুলবে। উত্থানের পরবর্তী দেড় বছর পার হওয়ায়, সরকার ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে মামলাগুলোর দ্রুত সমাধান, অভিযুক্তদের যথাযথ বিচার ও আইনি কাঠামোর শক্তিশালীকরণে মনোযোগ দিতে হবে। এই প্রক্রিয়ার ফলাফল দেশের রাজনৈতিক পরিবেশ, আইনি সংস্কার এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ওপর দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব ফেলবে।



