31 C
Dhaka
Saturday, May 9, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিচৌদ্দগ্রাম নির্বাচনে জামায়াত-এ-ইসলামি নেতা আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহেরের সমর্থন বৃদ্ধি

চৌদ্দগ্রাম নির্বাচনে জামায়াত-এ-ইসলামি নেতা আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহেরের সমর্থন বৃদ্ধি

সোমবার দুপুর ১২টায় কুমিল্লা জেলার চৌদ্দগ্রাম সদর এলাকায় ভোটের উত্তেজনা স্পষ্ট হয়ে ওঠে। চায়ের দোকান, রিকশা স্ট্যান্ড এবং বাজারের কোণায় নাগরিকরা জাতীয় সংসদ নির্বাচনের কথা আলোচনা করে, বিশেষ করে কুমিল্লা-১১ (চৌদ্দগ্রাম) আসনের প্রার্থীদের নাম ঘুরে বেড়ায়।

চৌদ্দগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে কয়েকজন ব্যাটারিচালিত রিকশা চালক ভোটের গুরুত্ব নিয়ে কথা বলছিলেন। তাদের একজন, পঞ্চাশের ঊর্ধ্বে মোহাম্মদ ওসমান গণি, দীর্ঘদিন ভোট না দেওয়ার পর এবার ভোট দিতে পারার আনন্দ প্রকাশ করেন। তিনি দল নয়, মানুষকে দেখে ভোট দিতে চান এবং চৌদ্দগ্রামের উন্নয়নকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেন।

স্থানীয় ভোটারদের মতে, এবার প্রার্থীর ব্যক্তিগত সুনাম দলীয় পরিচয়ের চেয়ে বেশি প্রভাব ফেলছে। নির্বাচনের দিন নিকটে আসার সঙ্গে সঙ্গে চৌদ্দগ্রামে ভোটের মাঠ আরও সক্রিয় হয়ে উঠেছে, বিভিন্ন স্থানে ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের প্রচেষ্টা বাড়ছে।

কুমিল্লা-১১ আসনে ১১-দলীয় জোটের প্রার্থী হিসেবে জামায়াত-এ-ইসলামি দলের নায়েব আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। দীর্ঘদিনের জাতীয় রাজনীতিক অভিজ্ঞতার কারণে তিনি ‘হেভিওয়েট’ প্রার্থী হিসেবে পরিচিত। তার দলীয় নেতা-কর্মীরা প্রতিটি গ্রাম ও পাড়ায় নিয়মিত গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন, এবং তিনি নিজেও সভা-সমাবেশে সক্রিয়ভাবে অংশ নিচ্ছেন।

আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের প্রথম আলোকে বলেন, চৌদ্দগ্রামের মানুষের প্রতি তার অগাধ আস্থা ও ভালোবাসা রয়েছে এবং তারা তাকে মনেপ্রাণে সমর্থন করে। ২০০১ সালে নির্বাচিত হওয়ার পর তার প্রধান লক্ষ্য ছিল চৌদ্দগ্রামকে রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে শান্ত রাখা, কারণ পূর্বে সেখানে অরাজকতা ছিল। তিনি দাবি করেন, সেই লক্ষ্য সফল হয়েছে এবং জনগণ শান্তিতে বসবাস করেছে, ফলে দলীয় সমর্থনের বাইরে ব্যক্তিগত সমর্থনও অর্জন হয়েছে।

এবারের নির্বাচনে তিনি উল্লেখ করেন, চৌদ্দগ্রামের ইউপির (ইউনিয়ন পরিষদ) সাবেক চেয়ারম্যানদের বেশিরভাগই তাকে সমর্থন করেছেন এবং ইতিমধ্যে কয়েক হাজার সদস্যের সঙ্গে সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ভোটের মাঠে জনমত তার পক্ষে গড়ে উঠছে বলে তিনি আশাবাদী এবং ২০০১ সালের তুলনায় দ্বিগুণের বেশি ভোট পেতে প্রত্যাশা প্রকাশ করেন।

তাহেরের দাবি অনুযায়ী, বিএনপির একটি বড় অংশ তার সমর্থন পেয়েছে। যদিও এই দিকটি এখনও যাচাইয়ের প্রয়োজন, তবে তিনি এটিকে তার নির্বাচনী কৌশলের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হিসেবে তুলে ধরেছেন। এই সমর্থন জোটের অভ্যন্তরে রাজনৈতিক ভারসাম্যকে প্রভাবিত করতে পারে এবং আসন্ন নির্বাচনের ফলাফলে নতুন গতিবিধি তৈরি করতে পারে।

প্রতিপক্ষের দৃষ্টিকোণ থেকে, বিএনপি কর্মকর্তারা এখনও তাদের নিজস্ব প্রার্থীকে সমর্থন করার কথা প্রকাশ করেছেন, তবে তাহেরের সঙ্গে সম্ভাব্য সমন্বয় নিয়ে আলোচনা চলছে বলে জানানো হয়েছে। উভয় পক্ষের এই পারস্পরিক সমর্থন কুমিল্লা-১১ আসনে ভোটের গতি পরিবর্তন করতে পারে এবং জোটের ভবিষ্যৎ গঠনেও প্রভাব ফেলতে পারে।

নির্বাচন কমিশনের নির্ধারিত তারিখের দিকে এগিয়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে চৌদ্দগ্রামের ভোটাররা প্রার্থীদের কর্মসূচি ও ব্যক্তিগত সুনাম নিয়ে আরও বিশ্লেষণমূলক আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। স্থানীয় মিডিয়া জানাচ্ছে, ভোটের দিন নাগাদ ভোটারদের মধ্যে উচ্চ অংশগ্রহণের সম্ভাবনা রয়েছে, যা কুমিল্লা-১১ আসনের ফলাফলকে নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

এই প্রেক্ষাপটে জামায়াত-এ-ইসলামি নেতা আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহেরের ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা এবং সম্ভাব্য বিএনপি সমর্থন তার নির্বাচনী অবস্থানকে শক্তিশালী করতে পারে, তবে শেষ পর্যন্ত ভোটারদের সিদ্ধান্তই ফলাফল নির্ধারণ করবে।

৯২/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: প্রথম আলো
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments