বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক গৃহীত বেতন কমিশনের প্রতিবেদন বাস্তবায়নের দাবি নিয়ে সরকারি কর্মচারী সমন্বয় পরিষদ নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। এটি সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) সকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে অনুষ্ঠিত সমাবেশে জানানো হয়। সংগঠনটি আগামী ৩ থেকে ৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত তিন দিন টানা সারা দেশের সব সরকারি দপ্তরে কর্মসূচি চালু করার পরিকল্পনা প্রকাশ করেছে। দাবি পূরণে অগ্রগতি না হলে আরও কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের সতর্কতাও দেওয়া হয়েছে।
বিকাশের অংশ হিসেবে সমাবেশে মঞ্চস্থ বক্তারা জানিয়েছেন যে প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত বিক্ষোভ মিছিল এবং কর্মচারী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। মিছিলের রুট ও সমাবেশের স্থান স্থানীয় ইউনিয়ন ও দপ্তর পর্যায়ে সমন্বয় করা হবে। প্রতিটি দপ্তরে অংশগ্রহণকারী কর্মচারীদের সংখ্যা নির্ধারণের জন্য পূর্বে নিবন্ধন প্রক্রিয়া চালু করা হবে। এই সময়সূচি অনুসরণে কোনো বাধা দেখা দিলে সমন্বয় পরিষদ তাৎক্ষণিকভাবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানাবে।
বিক্ষোভের পাশাপাশি চলমান গণকর্মবিরতি কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে। প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত কর্মবিরতি পালন করা হবে, যার মধ্যে দপ্তরের দরজা বন্ধ এবং সেবা প্রদান বন্ধ থাকবে। কর্মবিরতির সময় কর্মচারীরা শান্তিপূর্ণভাবে তাদের দাবি পুনরায় তুলে ধরবে। সমন্বয় পরিষদ উল্লেখ করেছে যে কর্মবিরতি ও মিছিল একসাথে চালিয়ে যাওয়া আন্দোলনের প্রভাব বাড়াবে।
বেতন কমিশনের প্রতিবেদন প্রথম প্রকাশের পর থেকে সরকারি কর্মচারীরা ধারাবাহিকভাবে বাস্তবায়নের দাবি জানিয়ে আসছেন। বিশেষ করে গত সাত বছর ধরে বেতন কাঠামোর পুনর্গঠন ও বেতন স্কেল সমন্বয়ের দাবি তীব্র হয়েছে। এই সময়কালে বিভিন্ন দপ্তরে ছোট-মাপের সমাবেশ ও কর্মবিরতি অনুষ্ঠিত হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো গেজেট প্রকাশ বা বাস্তবায়নমূলক পদক্ষেপ দেখা যায়নি।
গত বছরের ৫ ডিসেম্বর লক্ষাধিক সরকারি কর্মচারীর অংশগ্রহণে ঢাকায় বৃহৎ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছিল। সেই সমাবেশের সময় ১৫ ডিসেম্বরের মধ্যে গেজেট প্রকাশের প্রত্যাশা করা হয়েছিল। কিন্তু গেজেট এখনও প্রকাশিত না হওয়ায় কর্মচারীদের মধ্যে অসন্তোষ বাড়ে। এই ব্যর্থতা সমন্বয় পরিষদের দাবি আরও দৃঢ় করে তুলেছে।
২১ জানুয়ারি বেতন কমিশনের চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া সত্ত্বেও বাংলাদেশ সরকার গেজেট প্রকাশে দেরি করছে। সরকারের পক্ষ থেকে নতুন কমিটি গঠন এবং সময়সীমা বাড়ানোর কথা বলা হয়েছে। কর্মচারীরা এটিকে সময়ক্ষেপণ হিসেবে দেখছে এবং ভবিষ্যৎ নীতির অনিশ্চয়তা বাড়িয়ে তুলছে। এই পরিস্থিতি কর্মক্ষেত্রে মনোবল হ্রাস এবং কর্মচারীদের মধ্যে ক্ষোভের সঞ্চার ঘটাচ্ছে।
সম্প্রতি জ্বালানি উপদেষ্টার এক মন্তব্যে বলা হয়েছিল যে বর্তমান সরকার পে-স্কেল বাস্তবায়ন করবে না। বক্তারা দাবি করেন যে এই মন্তব্যই কমিশন গঠনের মূল উদ্দেশ্য ছিল আন্দোলন দমন করা। উক্ত মন্তব্যের ফলে প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীদের মধ্যে গভীর হতাশা ও অবিশ্বাসের সঞ্চার হয়েছে। সমন্বয় পরিষদের নেতারা এই মন্তব্যকে সরকারের অগ্রগতি না করার স্পষ্ট সংকেত হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন।
সমন্বয় পরিষদের নেতারা জানিয়েছেন যে দাবির পূর্ণতা না হলে আন্দোলনের পরিসর বাড়িয়ে নেওয়া হবে। এতে আরও দপ্তর, বিভাগ এবং শহরে সমাবেশ ও কর্মবিরতি সম্প্রসারিত হতে পারে। তাছাড়া অতিরিক্ত মিছিল, ধীরগতি কর্মসূচি এবং অন্যান্য নাগরিক অসন্তোষের প্রকাশের সম্ভাবনা রয়েছে। এই সতর্কতা কর্মচারীদের মধ্যে সংহতি বজায় রাখতে এবং সরকারকে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে চাপ সৃষ্টি করবে।
সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে সমন্বয় পরিষদ ধারাবিক কর্মসূচি নির্ধারণ করেছে। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন অব্যাহত থাকবে এবং নতুন কৌশল প্রয়োগ করা হবে। এই ধারাবাহিকতা বাংলাদেশ সরকারের নীতি নির্ধারণে চাপ বাড়াবে এবং রাজনৈতিক আলোচনায় বেতন বিষয়কে কেন্দ্রে রাখবে। অবশেষে, সরকার যদি দ্রুত গেজেট প্রকাশ এবং বাস্তবায়নমূলক পদক্ষেপ নেয়, তবে আন্দোলনের তীব্রতা কমে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।



