ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে সুনামগঞ্জের হাওর অঞ্চলের দূরবর্তী ৪৫১টি ভোটকেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা বসানো হচ্ছে। জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ ইলিয়াস মিয়া জানান, মোট ৪৭০টি কেন্দ্রে ক্যামেরা লাগবে, যার মধ্যে পৌরসভার ভেতরে ১৯টি এবং বাকি ৪৫১টি হাওর এলাকার ভোটকেন্দ্রে ইতিমধ্যে কাজ শুরু হয়েছে।
ক্যামেরা স্থাপনের মূল উদ্দেশ্য হল ভোটদান প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। যদিও সুনামগঞ্জে রাজনৈতিক সহিংসতা তুলনামূলকভাবে কম, তবু ঝুঁকিপূর্ণ ও গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রগুলোকে চিহ্নিত করে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ক্যামেরা রেকর্ডিংয়ের মাধ্যমে কোনো অশান্তি বা গোলযোগ ঘটলে দ্রুত দায়ী ব্যক্তিদের সনাক্ত করা সম্ভব হবে।
প্রতিটি উপজেলায় একজন টেকনিশিয়ান নিয়োগ করা হবে, যাঁর দায়িত্ব ক্যামেরার রক্ষণাবেক্ষণ ও ত্রুটি সমাধান করা। এ ব্যবস্থা ভোটকেন্দ্রের প্রযুক্তিগত দিক থেকে ধারাবাহিকতা বজায় রাখবে এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়ার কোনো বাধা না আসতে সহায়তা করবে।
পোস্টাল ব্যালট সংগ্রহের কাজও কয়েক দিনের মধ্যে শুরু হবে। এই দায়িত্বে একজন সহকারী কমিশনারকে নিযুক্ত করা হয়েছে, যাতে পোস্টাল ভোটের সময়সূচি ও প্রক্রিয়া সুষ্ঠুভাবে পরিচালিত হয়। স্বচ্ছতা বাড়াতে, নির্বাচনী এজেন্ট ও প্রিসাইডিং অফিসারদের উপস্থিতিতে জেলার পাঁচটি সংসদীয় আসনের মোট ৪৩টি পোস্টাল ব্যালট বাক্স লক করা হয়েছে।
সুনামগঞ্জের ১২টি উপজেলায় আটটি হাওর অঞ্চল অন্তর্ভুক্ত, যা ভোটারসংখ্যার দিক থেকে বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। মোট ভোটারসংখ্যা ২০,৮০,৩৩৫, যার মধ্যে পোস্টাল ভোটার ১৮,০৮৭। পোস্টাল ভোটারদের সংখ্যা প্রতিটি সংসদীয় আসনে নিম্নরূপ: সুনামগঞ্জ‑১-এ ৩,৮০৫, সুনামগঞ্জ‑২-এ ১,৭১৯, সুনামগঞ্জ‑৩-এ ৩,২১৮, সুনামগঞ্জ‑৪-এ ৩,৭৮৬ এবং সুনামগঞ্জ‑৫-এ ৫,৫৫৯।
এই সংখ্যাগুলোকে লক্ষ্য করে নির্বাচনী কর্তৃপক্ষ পোস্টাল ভোটের নিরাপত্তা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে অতিরিক্ত পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। পোস্টাল ব্যালট বাক্সের লকিং প্রক্রিয়া নির্বাচনী এজেন্ট ও প্রিসাইডিং অফিসারদের তত্ত্বাবধানে সম্পন্ন হয়েছে, যা ভোটারদের আস্থা বাড়াবে বলে আশা করা হচ্ছে।
ক্যামেরা স্থাপন ও পোস্টাল ব্যালটের লকিং উভয়ই নির্বাচনের পূর্ব প্রস্তুতি হিসেবে উল্লেখযোগ্য। এই উদ্যোগগুলো ভোটারদের নিরাপদ ও নির্ভরযোগ্য পরিবেশে ভোটদান নিশ্চিত করার লক্ষ্যে নেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে হাওর এলাকার দূরবর্তী ভোটকেন্দ্রগুলোতে প্রযুক্তিগত সহায়তা প্রদান ভোটদান প্রক্রিয়ার গতি ও নির্ভুলতা বাড়াবে।
সুনামগঞ্জের নির্বাচনী কর্মীরা জানান, ক্যামেরা ইনস্টলেশন কাজটি স্থানীয় প্রশাসনের সমন্বয়ে দ্রুত অগ্রসর হচ্ছে। প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে ক্যামেরা স্থাপনের সময় নিরাপত্তা গার্ড ও স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবকদের সহযোগিতা নেওয়া হচ্ছে, যাতে কাজের গতি ও মান নিশ্চিত হয়।
প্রযুক্তিগত সহায়তা ছাড়াও, নিরাপত্তা বাড়াতে স্থানীয় পুলিশ ও রাইফেল গার্ডের উপস্থিতি নিশ্চিত করা হয়েছে। এই সমন্বিত নিরাপত্তা ব্যবস্থা ভোটকেন্দ্রের আশেপাশে কোনো অশান্তি বা হিংসাত্মক ঘটনা ঘটলে তা দ্রুত দমন করতে সক্ষম হবে।
সুনামগঞ্জের নির্বাচনী প্রস্তুতি সম্পর্কে স্থানীয় রাজনৈতিক দলগুলোও ইতিবাচক মন্তব্য প্রকাশ করেছে। তারা নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও স্বচ্ছতা বাড়ানোর জন্য নেওয়া পদক্ষেপগুলোকে প্রশংসা করে, তবে ভোটের সুষ্ঠু পরিচালনা নিশ্চিত করতে সকল পক্ষের সহযোগিতা প্রয়োজন বলে জোর দিয়েছে।
অবশেষে, জেলা প্রশাসক উল্লেখ করেন, নির্বাচনের দিন পর্যন্ত ক্যামেরা স্থাপন ও পোস্টাল ব্যালটের নিরাপত্তা ব্যবস্থা সম্পূর্ণ করা হবে। এই প্রস্তুতি ভোটারদের আত্মবিশ্বাস বাড়াবে এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়ার বৈধতা নিশ্চিত করবে।



