লর্ড পিটার বেঞ্জামিন ম্যান্ডেলসন, যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত পূর্ব রাষ্ট্রদূত, শ্রম দলের সদস্যপদ ত্যাগের সিদ্ধান্ত জানিয়েছেন। প্রকাশিত ইমেইল ও নথি থেকে জানা যায়, তিনি মৃত যৌন নিপীড়ক জেফরি এপস্টেইনের সঙ্গে আর্থিক লেনদেনের জড়িত ছিলেন, যা দলকে আরও বিব্রতকর অবস্থায় ফেলতে পারে বলে তিনি উদ্বিগ্ন।
ম্যান্ডেলসন ২০২২ সালে যুক্তরাজ্য সরকারের দ্বারা যুক্তরাষ্ট্রে দায়িত্বে নিয়োগপ্রাপ্ত হন, তবে এপস্টেইনের সঙ্গে তার সম্পর্ক প্রকাশের পরই সরকার তাকে পদ থেকে সরিয়ে দেয়। এই পদক্ষেপের পর শ্রম দলের অভ্যন্তরে তার অবস্থান আরও সংকটময় হয়ে ওঠে।
গত সপ্তাহে মার্কিন বিচার বিভাগ এপস্টেইনের সাথে সম্পর্কিত নতুন নথি প্রকাশ করে, যার মধ্যে কয়েক লাখ পৃষ্ঠার ডকুমেন্ট অন্তর্ভুক্ত। এই নথিগুলিতে ম্যান্ডেলসনের নাম উল্লেখ রয়েছে, যা আন্তর্জাতিক মিডিয়ার দৃষ্টি আকর্ষণ করে।
নথিতে স্পষ্ট করা হয়েছে, ২০০৩ ও ২০০৪ সালে ম্যান্ডেলসনকে এপস্টেইন তিনটি পৃথক লেনদেনে প্রত্যেকটিতে ২৫,০০০ ডলার করে মোট ৭৫,০০০ ডলার প্রদান করেছে। এই অর্থের উৎস ও উদ্দেশ্য সম্পর্কে কোনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা না থাকায় প্রশ্ন তোলা হয়েছে।
ইমেইল ও আর্থিক লেনদেনের তথ্য প্রকাশের পরই যুক্তরাজ্য সরকার ম্যান্ডেলসনকে যুক্তরাষ্ট্রে তার দায়িত্ব থেকে বাদ দেয়। সরকার এই সিদ্ধান্তকে ম্যান্ডেলসনের নৈতিক দায়িত্বের প্রেক্ষিতে গ্রহণ করেছে।
শ্রম দলের বর্তমান নেতা কিয়ার স্টারমার নেতৃত্বে দলটি এ ধরনের স্ক্যান্ডাল থেকে নিজেকে রক্ষা করার চেষ্টা করছে। স্টারমার দলটি ইতিমধ্যে এপস্টেইন সংক্রান্ত বিষয়গুলোতে সতর্কতা অবলম্বন করে, যাতে কোনো অতিরিক্ত রাজনৈতিক ক্ষতি না হয়।
ম্যান্ডেলসন শ্রম দলের সাধারণ সম্পাদককে চিঠি লিখে তার পদত্যাগের ইচ্ছা জানিয়েছেন। চিঠিতে তিনি উল্লেখ করেন, এপস্টেইনের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার ফলে সৃষ্ট জনমত বিরোধে তিনি আরও যুক্ত হয়ে পড়েছেন এবং এই পরিস্থিতি থেকে দলকে রক্ষা করতে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
তিনি চিঠিতে দুঃখ ও অনুতাপ প্রকাশ করে বলেন, এপস্টেইনের সঙ্গে তার অতীত সম্পর্কের কারণে দলকে আর কোনো বিব্রতকর পরিস্থিতি তৈরি না করতে তিনি এই পদক্ষেপ নিচ্ছেন। এই প্রকাশনা শ্রম দলের অভ্যন্তরে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সহায়তা করবে বলে তিনি আশাবাদী।
ম্যান্ডেলসনের পদত্যাগ শ্রম দলের জন্য একটি কৌশলগত পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে, যাতে দলের নেতিবাচক চিত্র কমে এবং নির্বাচনী প্রচারণায় মনোযোগ কেন্দ্রীভূত থাকে। তার প্রস্থানের ফলে দলের অভ্যন্তরে শৃঙ্খলা পুনরুদ্ধার হতে পারে।
বিশ্লেষকরা উল্লেখ করছেন, শ্রম দল এ ধরনের স্ক্যান্ডাল থেকে দ্রুত সরে গিয়ে জনমত পুনরুদ্ধার করতে চাইবে। ম্যান্ডেলসনের প্রস্থানের ফলে দলের নেতৃত্বকে নতুন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হবে, বিশেষত নির্বাচনের প্রস্তুতিতে।
এপস্টেইন মামলার বিস্তৃত প্রভাব বিশ্বব্যাপী রাজনৈতিক ও সামাজিক ক্ষেত্রকে প্রভাবিত করেছে। ম্যান্ডেলসনের সঙ্গে যুক্ত হওয়া এই ঘটনা শ্রম দলের জন্য একটি সতর্কতা, যা ভবিষ্যতে রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের আর্থিক ও নৈতিক স্বচ্ছতার গুরুত্বকে তুলে ধরবে।
শ্রম দল এখন ম্যান্ডেলসনের পদত্যাগকে স্বাগত জানিয়ে, দলের নীতি ও স্বচ্ছতা বজায় রাখার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে। ভবিষ্যতে দলটি এ ধরনের ঘটনা পুনরায় না ঘটার জন্য অভ্যন্তরীণ তদারকি ব্যবস্থা শক্তিশালী করার পরিকল্পনা করছে।



